রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০ | ২৭ আষাঢ় ১৪২৭

Select your Top Menu from wp menus

এবার লাদাখ সীমান্তে চীন-ভারতের সৈন্যরা মুখোমুখি, উত্তেজনা

এসবিনিউজ ডেস্ক: ভারতের উত্তর সীমান্তে লাদাখে চীনের বাড়তি সেনা মোতায়েনকে কেন্দ্র করে দু’দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দু’দেশের মাঝে থাকা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি বরাবর বিভিন্ন স্থানে চীন ও ভারত সেনারা সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়েছে।

চীনা সৈন্যরা এবার ঘাঁটি তৈরি করেছে লাদাখের গালওয়ান ভ্যালির মতো সম্পূর্ণ নতুন জায়গায়ও, যেখানে আগে কোনো বিরোধের ইতিহাস ছিল না। খবর বিবিসি বাংলার।

এদিকে উত্তরাখণ্ডে ইন্দো-চীন সীমান্তে বাড়তি সেনা মোতায়েন শুরু করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ভারত-চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর বেইজিং নিজের এলাকায় সেনা সংখ্যা বৃদ্ধি করছে এমন সংবাদ পাওয়ার পরই উত্তরাখণ্ডে বাড়তি সেনা মোতায়েন শুরু করে ভারত।

ভারত ও চীনের মধ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট ও সুচিহ্নিত আন্তর্জাতিক সীমানা নেই। তবে কয়েক হাজার কিলোমিটার লম্বা একটি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল রয়েছে, যা লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত দু-তিনসপ্তাহের মধ্যে চীনা সেনাবাহিনী এই ‘এলএসি’ অন্তত চার জায়গায় অতিক্রম করে অবস্থান নিয়েছে। এগুলো হলো- লাদাখের প্যাংগং সো বা প্যাংগং লেক, গালওয়ান নালা, ডেমচক এবং সিকিমের নাকু লা।

ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক অজয় শুক্লা তার ব্লগে লিখেছেন, এই প্রথম সমগ্র গালওয়ান ভ্যালিকেই চীন নিজেদের বলে দাবি করছে। তিনি বলেন, ‘এই ইনট্রুশনগুলো বিরাট একটা জায়গাজুড়ে হয়েছে। উত্তর লাদাখের গালওয়ান ভ্যালি থেকে কয়েকশো কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ লাদাখের ডেমচক- যা থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে সিকিমের নাকু লা পাস পর্যন্ত। এ থেকে বোঝা যায় এই গোটা অভিযানটা রাজনৈতিকভাবে খুব উঁচুমহলে পরিকল্পনা হয়েছে।’

গত কয়েকদিনে চীনা সৈন্যদের সঙ্গে ভারতীয় বাহিনীর বেশ কয়েক দফা মুখোমুখি সংঘর্ষও হয়েছে, যাতে দুপক্ষের কয়েক ডজন সৈন্য আহত হয়েছেন। এমনকি কয়েকজন ভারতীয় সেনাকে চীন বেশকিছু সময় ধরে আটকে রেখেছিল বলেও খবর পাওয়া গেছে। তবে ভারত পরে তা অস্বীকার করেছে।

গত শুক্রবার ভারতের সেনাপ্রধান এম এম নারাভানে লাদাখে গিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখে আসেন। এরপর ওই সেক্টরের সেনাদের এলএসি-র দিকে সরিয়েও নেওয়া হয়।

লাদাখ সফরের আগে জেনারেল নারাভানে বলেছিলেন, ‘যেহেতু এলএসি স্পষ্টভাবে চিহ্নিত নয়, তাই দু’পক্ষই এই সীমান্তকে নিজেদের মতো ব্যাখ্যা করে। দু’দেশের সেনারাও ততদূরই টহল দেয়, যতদূর পর্যন্ত তারা নিজেদের এলাকা বলে দাবি করে। আর যখনই দু’দেশের বাহিনী একই সময়ে একই জায়গায় গিয়ে পৌঁছায়, তখন এরকম সংঘাত প্রায়ই ঘটে থাকে। লাদাখে আর সিকিমে যে একই সময়ে সংঘাত হলো এটা নেহাতই সমাপতন। এ থেকে খুব বেশি কিছু খোঁজার মানে হয় না।’

তবে এর কয়েকদিন পরেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কড়া বিবৃতিতে জানায়, ভারতীয় সেনার স্বাভাবিক টহল বা পেট্রলিং প্যাটার্নকে বাধা দিয়ে চীন সীমান্তে নানা কর্মকান্ড চালাচ্ছে। এরপর ১৯ মে বেজিইংয়ে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে ভারতের বিরুদ্ধে পাল্টা ট্রেসপাসিং বা অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনে এবং দিল্লি সেটা জোরালোভাবে অস্বীকার করে।

চীনে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত অশোক কান্থা মনে করেন, প্রত্যেক গ্রীষ্মে দু’দেশের সেনাদের মধ্যে যেমন হাতাহাতি বা মারামারি হয় তার চেয়ে এবারের সংঘাত সম্পূর্ণ আলাদা।

তিনি বলেন, ‘চীন এবার অনেক বেশি আগ্রাসী এবং একসঙ্গে অনেকগুলো জায়গায় হামলা চালাচ্ছে। তাছাড়া গালওয়ান ভ্যালিতে এলএসি-র নতুন ব্যাখ্যা এনে নতুন একটা ফ্রন্ট খুলতে চাইছে। এর কারণ কী বলা মুশকিল। তবে হতে পারে তারা বিতর্কিত সীমানার ওপর নিজেদের দাবি জোরেশোরে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। এটা তাদের প্রেসার ট্যাকটিক্সের অংশও হতে পারে, যার মাধ্যমে তারা মনে করিয়ে দিতে চায় যে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা ইস্যুতে বা এমনকি করোনা প্রশ্নেও ভারত যেন চীনের সংবেদনশীলতা খেয়াল রাখে।’

তিন বছর আগে ডোকলাম ভ্যালিতে চীন ও ভারতের সেনারা মুখোমুখি অবস্থানে ছিল দুমাসেরও বেশি সময় ধরে। এবার লাদাখের এই সামরিক উত্তেজনা বহরে অনেক বেশি। এটাও খুব সহজে মিটবে বলেও পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন না।

Related posts