বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২০ | ২২ শ্রাবণ ১৪২৭

Select your Top Menu from wp menus

এবারের হজে কাবাঘর-হাযরে আসওয়াদও স্পর্শ করা যাবে না

এসবিনিউজ ডেস্ক: সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস মহামারীকালে হজ করার সময় অবশ্য পালনীয় স্বাস্থ্য নির্দেশনা জারি করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। কোভিড-১৯’র সংক্রমণ এড়াতে চলতি বছরে খুবই সীমিত পরিসরে হজের অনুমতি দিয়েছে দেশটি। এবার মাত্র ১ হাজার মানুষ এবারের হজে অংশ নিতে পারবেন। আর এই প্রথমবারের মত বিদেশি মুসলিমদের জন্য হজ নিষিদ্ধ করেছে সৌদি সরকার। যারা আগে থেকে সেখানে অবস্থান করছেন শুধু তারাই হজ করতে পারবেন। এবার দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, ইসলামের পবিত্র নির্দশন কাবাঘর এবং জান্নাতি কালো পাথর হাযরে আসওয়াদও স্পর্শ করা যাবে না এবারের হজে। হজের বিষয়ে এক স্বাস্থ্য নির্দেশনায় এসব জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়, নামাজের সময় এমনকি কাবা শরিফ তাওয়াফের সময়ও দেড় মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে হাজিদের। কাবা ও কালো পাথরের চারপাশে অবরোধ দেয়া থাকবে যাতে কেউ কাছে না যেতে পারে। সেখানে কড়া নজরদারি থাকবে। তওয়াফের জন্য কাবার চারপাশ এবং সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে দৌড়ানোর স্থানকে প্রতি দল হজ পালনকারী ব্যবহারের আগে ও পরে জীবাণুমুক্ত করা হবে।
খবরে প্রকাশ, সোমবার সৌদির রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (সিডিসি) এক বিবৃতিতে বলেছে, চলতি বছরে হজ চলাকালীন কাবা শরিফ স্পর্শ করা যাবে না। অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের সময় যেমন-নামাজ ও কাবা শরিফ তাওয়াফ করার সময় সামাজিক দূরত্ব (এক হাজি থেকে আরেক হাজির মধ্যকার দূরত্ব দেড় মিটার হবে) বজায় রাখতে হবে। সীমিত সংখ্যক হাজি মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতে যাওয়ার অনুমতি পাবেন।
এবারের হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে ১৯ জুলাই থেকে। চলবে ২ আগস্ট পর্যন্ত। এই সময়ে হাজি ও আয়োজকদের প্রত্যেকের জন্য সর্বদা মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর আগে অনেক জল্পনা-কল্পনার পর গত জুনে অভ্যন্তরীণ এক হাজার সৌদি নাগরিককে হজের অনুমতি দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সৌদি গ্যাজেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হজ পালনকারীরা কাবা শরিফ ও বেহেশতি কালো পাথর হাযরে আসওয়াদও চুমু খেতে বা স্পর্শ করতে পারবেন না এবং শয়তানের উদ্দেশ্যে পাথর ছুড়ে মারার জন্য আগে থেকে জীবানুক্ত প্যাকেটজাত পাথর ব্যবহার করতে হবে। হজ পারমিট ছাড়া হজের জন্য পবিত্র স্থান মিনা, মুযদালিফা ও আরাফাতের ময়দানে প্রবেশ ১৯ জুলাই (২৮ জিলক্বদ) থেকে হজের পঞ্চম দিন ১২ জিলহজ পর্যন্ত নিষিদ্ধ থাকবে।
হজ চলাকালে কারও মধ্যে করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা গেলে তার ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পরিস্থিতি চিকিৎসকের পর্যালোচনার পরই কেবল হজ শেষ করার অনুমতি দেয়া হবে। তাদের জন্য আলাদা আবাসন, পরিবহন ও ভ্রমণসূচির ব্যবস্থা করা হবে। উচ্চ মাত্রার জ্বর, কফ, গলা ব্যাথা ও হঠাৎ ঘ্রাণ ও স্বাদ হারিয়ে ফেলার মত উপসর্গ দেখা গেলে তাকে হজ করতে দেয়া হবে না। হজ পালনকারী ও হজে দায়িত্বপালনকারীদের অবশ্যই সুরক্ষা মাস্ক পড়তে হবে এবং তা ব্যবহার শেষে সুনির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।
হজ পালনকারীরা যেখানেই সমবেত হোন কেন ২ জনের মধ্যে অন্তত দেড় মিটার দূরত্ব রাখতে হবে। খাবার পানি ও জমজমের পানি একবার ব্যবহারযোগ্য কন্টেইনারে সংগ্রহ করা যাবে। মক্বার গ্রান্ড মস্কো ও পবিত্র স্থানগুলোর রেফ্রিজারেটর সরিয়ে ফেলা হবে এবং সেগুলো ব্যবহার করা যাবে না।
হজ পালনকারীদের প্রত্যেককে আগে থেকে প্যাকেটজাত খাবার দেয়া হবে। আরাফাত ও মুযদালিফায় হজ পালনকারীদের অবশ্যই নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করতে হবে। সেক্ষত্রে হজ বিধিবিধান কড়াকাড়িভাবে মেনে চলতে হবে। তাবু এলাকার ৫০ বর্গমিটারের মধ্যে ১০ জনের বেশি হজ পালনকারী থাকতে পারবে না। আগের জামারাতে পাথর কুড়িয়ে শয়তানের উদ্দেশে ছুঁড়ে মারা হত, এবার সেটা করা যাবে না। ব্যাগে জড়ানো আগে থেকে জীবাণুমুক্ত করা পাথর সবাইকে সরবরাহ করা হবে।

Related posts