বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

উপকূলের শত শত মানুষ সাইক্লোন শেল্টারে: ৫শ’ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ

স্টাফ রিপোর্টার: অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখানোর পর খুলনার উপকূলীয় চার উপজেলা দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটার শত শত মানুষ সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার পর মানুষ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়। এদিকে, খুলনায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয় ৩৪৯টি সাইক্লোন শেল্টার। এই সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে প্রায় ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫০জনকে আশ্রয় দেয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর প্রভাবে উপকূলীয় জেলা খুলনায় গত শুক্রবার দুপুর ১২ট থেকে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত দুদিন সূর্য্যরে কোনো দেখা মেলেনি।

খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় খুলনা জেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় খুলনা জেলার ৩৪৯টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও নয়টি উপজেলায় ১০টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। স্থানীয় মানুষকে সচেতন করার জন্য দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় শুক্রবার দুপুর থেকে মাইকিং করা হয়েছে। তিনি জানান, সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয়রত মানুষদের জন্য পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, চিড়া, বিস্কুট নগদ অর্থ, ওষুধ এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট পাঠানো হয়েছে। এছাড়া দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তীকালীন সময়ে যা যা করণীয় তার সবকিছুই করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রামের (সিপিপি) কর্মীসহ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রায় ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল খুলনা অঞ্চলে আঘাত হানার আশঙ্কা থাকায় খুলনা সিটি করপোরেশন সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ও ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি ম্কোবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। 

এদিকে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় তিন জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় প্রায় ৫০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বুলবুলের প্রভাবে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা খুলনার কয়রা-দাকোপ, সাতক্ষীরার শ্যামনগর-আশাশুনি ও বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সিডর-আইলাসহ বিভিন্ন দুর্যোগের কবলে পড়া এসব এলাকার মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে জোয়ারে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হলে বাড়িঘর, ফসল, মাছের ঘের ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য বেলাল হোসেন বলেন, কয়রার বেড়িবাঁধের বেশ কিছু এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পানির যে চাপ তাতে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে গ্রাম তলিয়ে সিডর-আইলার মতো ক্ষতি হতে পারে।

কয়রা সদর ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, শনিবার সকাল ১০টার পর থেকেই দুই নম্বর কয়রাসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে যাওয়া শুরু করে। তিনি জানান, সন্ধ্যার মধ্যেই অনেক সাইক্লোন শেল্টার মানুষ ও গবাদি পশুতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। আবার অনেকে সাইক্লোন শেল্টারে যেতে গড়িমসি করেন।

খুলনা জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ জানান, ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত খুলনায় ৩৭মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে কোস্টগার্ড সুন্দরবনের দুবলার চর থেকে সকল ট্যুরিস্টকে ফেরত এবং স্থানীয় জেলেদের কোস্টগার্ড এরসিসিএমসি আশ্রয় দিয়েছে। সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর উপজেলার গোলাখালী গ্রাম থেকে ৬৫০ জন নারী-পুরুষকে নিরাপদে আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এছাড়া মোংলা চ্যানেলে অবস্থানকারী সকল কোস্টার এবং লাইটারকে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পাঠানো হয়েছে। কোস্টগার্ডের ১০টি অপারেশনাল জাহাজ সাইক্লোন পরবর্তী উদ্ধার কাজ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফকর উদ্দিন বলেন, বন্দরে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি ১৩টি জাহাজের মালামাল লোড-আনলোড বন্ধ রয়েছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এ আদেশ জারি থাকবে বলেও জানান বন্দরের এ কর্মকর্তা।

Related posts