বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২০ | ১৬ আশ্বিন ১৪২৭

Select your Top Menu from wp menus

আবারও পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলো ভারত

এসবিনিউজ ডেস্ক: মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিল ভারত। এর আগেই সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিনভর দেশের ৩টি প্রধান স্থলবন্দরের কোনটি দিয়েই ভারত থেকে পেঁয়াজ আসেনি। এরপর রাতে ভারত সরকারের রপ্তানি বন্ধের নির্দেশনা দেশটির আমদানিকারকদের হাতে পৌঁছায়। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের এই নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়, অনতিবিলম্বে এই নির্দেশ কার্যকর হবে। এদিকে বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) সদস্য আবু রায়হান আলবেরুনী বলেন, দেশে সামাজিক অনুষ্ঠানাদি বন্ধ থাকায় এখন পেঁয়াজের চাহিদা কম। দেশে যা মজুত আছে, তা দিয়ে ভালভাবেই চলবে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে।
বাংলাদেশে যতটুকু পেঁয়াজ আমদানি হয়, তার সিংহভাগ আসে ভারত থেকে। তবে গত ২ সপ্তাহ আগে ভারতে দাম বাড়তে থাকে। সাথে বাংলাদেশেও পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। ফলে ঢাকার বাজারে এখন প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ জাত ও আকারভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগেও দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৩০-৩৫ টাকার মধ্যে ছিল।
এর আগে দেশে গত বছর নভেম্বরে পেঁয়াজের কেজিপ্রতি দাম ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। মূল্যবৃদ্ধির শুরুটা হয়েছিল ভারত থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। ভারত নিজেদের বাজার সামাল দিতে গত বছর ১৩ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানিতে ন্যুনতম মূল্য টনপ্রতি ৮৫০ ডলার বেঁধে দেয়। ৩০ সেপ্টেম্বর রপ্তানিই নিষিদ্ধ করে দেয় দেশটি। এরপর দেশের বাজারে পেঁয়াজের দামে ৩০০ টাকা পর্যন্ত ওঠে। তখন আকাশ পথেও পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। এরপর অবশ্য ভারত গত মার্চ মাসে পেঁয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
ভারত থেকে মূলত সাতক্ষীরার ভোমরা, দিনাজপুরের হিলি ও যশোরের বেনাপোল দিয়ে বেশি পেঁয়াজ আমদানি হয়। সোমবার বিকেলে বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার কল্যাণ মিত্র চাকমা বলেন, সকালে এক ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। তারপর আর আসেনি।
আর হিলি স্থলবন্দরের কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার সাইদুল আলম বলেন, রোববার পর্যন্ত ভারত থেকে ১২৯টি পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে; যা পরিমাণে প্রায় ৮০০ টন। সোমবার সারাদিন পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ছিল। তিনি বলেন, দুপুরের পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা (ভারতীয় কর্তৃপক্ষ) তাদের সংকটের কথা জানিয়েছেন। তারা নিজ দেশেও (ভারত) পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির কথা বলছেন।

Related posts