মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১ | ৩০ চৈত্র ১৪২৭

Select your Top Menu from wp menus

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ

এসবিনিউজ ডেস্ক: আজ সোমবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস। প্রতিবারের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হবে। এবারে দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘করোনা বিশ্বে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করি, সমতা অর্জনে নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করি’। সারাবিশ্বে করোনা ভাইরাসের মহামারীর কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সোমবার সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে দিনটি উদযাপিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো:আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২১ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল নারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।এ বছর নারী দিবসের প্রতিপাদ্য অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তৎপর্যপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সভ্যতার উষালগ্ন থেকে সৃজনশীল ও উন্নয়নমূলক সকল কর্মকান্ডে পুরুষের পাশাপাশি নারীর ভূমিকা অগ্রগণ্য। সংবিধানের ১৯(৩) অনুচ্ছেদে জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। নারীদের যথার্থ মর্যাদা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অর্থনৈতিক, সামাজিক, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সরকার নারী শিক্ষার বিস্তার, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়নসহ নারীর প্রতি সকল ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যাপক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পুনর্বাসন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে ‘নারী পুনর্বাসন বোর্ড’ গঠন করেন। তিনি জাতীয় জীবনের সবক্ষেত্রে নারীর সমানাধিকারের বিষয়টি সংবিধানে নিশ্চিত করেন।
‘বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশ আজ নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। আমাদের জাতীয় উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আমরা গ্রহণ করেছি নানামুখী পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে জেন্ডার রেসপন্সিভ বাজেট প্রণয়নসহ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের আত্মকর্মসংস্থানমূলক কর্মে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। হ্রাস পাচ্ছে নারীর দারিদ্র্য। জাতীয় অর্থনীতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে নারীর অংশগ্রহণ।
এ উপলক্ষে আজ বিশেষ ক্রোড়পত্র ও স্মরণিকা প্রকাশ করা হবে। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। টেলিভিশন ও রেডিওতে নারীর অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠায় বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হবে। এছাড়া দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় নারী উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন, অধিকার এবং এ বিষয়ে প্রচার ও সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে র‌্যালী, সমাবেশ ও আলোচনা অনুষ্ঠানের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে রবিবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২১ উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠানের বিস্তারিত গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ উপলক্ষে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে মন্ত্রণালয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে সকাল সাড়ে ১০ টায় অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করবেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ৫ জন জয়িতাকে সম্মাননা প্রদান করা হবে। তারা বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এবং মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা পদক গ্রহণ করবেন। প্রত্যেক জয়িতাকে এক লাখ টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হবে।
অপরদিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘মুক্তিযুদ্ধে নারী’ শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করেছে জাতীয় প্রেসক্লাবে। সোমবার সকাল ১১ টায় জহুর হোসেন হলে প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হবে। পরে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
‘আঁধার ভাঙ্গার শপথ’ নিয়ে আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের (উই ক্যান) পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস যুগপূর্তি উদযাপন করা হচ্ছে। করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ নীতিমালা মেনে সীমিত পরিসরে এ বছর সংগঠনটি একত্রিত হচ্ছে আজ ৭ মার্চ, রাত ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। ৮ মার্চ, প্রথম প্রহরে ১২:০১ মিনিটে মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে শপথ করবেন। পাশাপাশি অনেকে যুক্ত থাকবেন অনলাইন প্লাটফর্মে। গত ১১ বছর ধরে নারী দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে এই আঁধার ভাঙ্গার শপথ নেয়। স্বাধীনতার ৫০তম বছরে আঁধার ভাঙার শপথ উদযাপনে এক যুগ অতিক্রম করতে যাচ্ছে তারা।
জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালের ৮ মার্চ নারী দিবস উদযাপন শুরু করে। এর আগে ১৯০৯ এর ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার এই দিবসটি উদযাপন করা হয়। আমেরিকার সোশ্যালিষ্ট পার্টি পোশাক তৈরির শ্রমিকদের সম্মান জানাতে ১৯০৮ সালে ধর্মঘট ডেকেছিল। তাদের প্রতি সম্মান জানাতে এই দিনটি বেছে নেওয়া হয়। ১৯১০ সালে কোপেনহেগেনের উদ্যোগের পর ডেনমার্ক,জার্মানি এবং সুইজারল্যান্ডে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক নারী দিবস চিহ্নিত হয়েছিল।নারীর কাজের অধিকার, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং কাজের বৈষম্যের অবসানের লক্ষ্যে প্রতিবাদ করে লক্ষ মানুষ। বিশ্বজুড়ে লিঙ্গ সাম্যের উদ্দেশ্যে কাজের জন্য এই বিশেষ দিবসটি পালন করা হয়।

Related posts