সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০ | ২৯ আষাঢ় ১৪২৭

Select your Top Menu from wp menus

আজ রূপান্তরের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম শুরু

স্টাফ রিপোর্টার: গত ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে খুলনাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতার জন্য রূপান্তর-এর পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইউকেএইড-এর অর্থায়নে, স্টার্টফান্ড বাংলাদেশ ও কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের সহযোগিতায় “সাইক্লোন আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য, জীবন রক্ষাকারী জরুরী সহায়তা কার্যক্রম” প্রকল্পের আওতায় বাগেরহাট জেলার মোংলা এবং শরণখোলা উপজেলার মোট ১২৩০ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।  

বাস্তবায়নাধীন জরুরী প্রকল্পের অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মোংলা উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হবে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করবেন। এছাড়াও আগামী ৫ জুন চিলা ইউনিয়নের এলিও স্কুলে এবং ৬ জুন বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের দিগরাজ কলেজে প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুরূপ সহায়তা প্রদান করা হবে।

এর আগে গত পহেলা জুন এবং ২রা জুন শরণখোলা উপজেলায় একই সহায়তা প্রদান করা হয়। সহায়তা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শরণখোলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহীন। দুই দিনে রায়েন্দা ও সাউথখালী ইউনিয়নের মোট ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে এই এ সহায়তা প্রদান করা হয়। এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছেন শরণখোলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং রায়েন্দা ও সাউথখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান যথাক্রমে মোঃ আসাদুজ্জামান মিলন ও মোজাম্মেল হোসেন।

উল্লেখ্য, এ প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার প্রতি নগদ ৩০০০ টাকা করে এবং কিছু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরিবারের মাঝে পরিবারপ্রতি নগদ ৪০০০ টাকা করে প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রতিটি পরিবারকে হাইজিন কিটস্ (পরিবার প্রতি-১৮২১ টাকার সমপরিমাণ দ্রবাদি যেমন-  বালতি, মগ, সাবান, ডিটারজেন্ট পাউডার, মাস্ক, স্যানিটারী ন্যাপকিন ইত্যাদি) প্রদানের কার্যক্রম শুরু করেছে। এর বাইরেও  ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মানুষের  জন্য ২০টি পিট লেট্রিন, ১০টি স্যালো টিউবয়েল, জনসাধারণের জন্য ৪টি খাবার জলের পুকুর জীবানুমুক্তকরণ ও ১০টি মার্কেটে  হ্যান্ডওয়াশের স্টেশন স্থাপনসহ তাঁবু প্রদানসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও রূপান্তরের ঐতিহ্যবাহী পটগানর প্রচার করা হবে। এ কার্যক্রমে কোভিড-১৯ ঝুঁকি নীতিমালা এবং সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্য বিধিমালা ও নির্দেশনাভাবে কঠোর অনুসরণ করা হচ্ছে। 

উল্লেখ্য, রূপান্তরের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচীর আওতায় সাইক্লোন ‘আম্ফান’ আঘাত হানার পূর্ব হতেই আম্ফানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল এবং আম্ফানের কারণে সম্ভাব্য আক্রান্ত এলাকার প্রশাসন, আন্তজার্তিক উন্নয়ন সংগঠন, জনপ্রতিনিধি এবং এলাকাবাসীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছিল। পরবর্তীতে আম্ফান আঘাত হানার পরপরই অতি দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের তথ্য সংগ্রহ  করে প্রকল্প প্রণয়ন করে কার্যক্রম শুরু করা হয়। বলা বাহুল্য, ইতিপূর্বেও ঘূর্ণিঝড়  সিডর এবং আইলার পরে রূপান্তর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচীর আওতায় ব্যাপকভাবে দুর্যোগ পরবর্তী জরুরী এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম স্বচ্ছতার  সাথে সম্পন্ন করে যা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়।    

Related posts