মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৭

Select your Top Menu from wp menus

অস্ত্র মামলায় রিমান্ড শেষে সাহেদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: অস্ত্র মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড শেষে রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমকে সাতক্ষীরা আদালতে হাজির করেছে র‌্যাব।
বুধবার (৫ আগস্ট) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে সাতক্ষীরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রাজীব কুমার রায়ের আদালতে হাজির করা হয়।
এ সময় বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সাতক্ষীরা কোর্টের পুলিশ পরিদর্শক অমল রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ২৬ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সাতক্ষীরা ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেবহাটা থানায় দায়েরকৃত অস্ত্র মামলায় আলোচিত প্রতারক সাহেদ করিমের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।
উল্লেখ্য, তারও আগে ১৬ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে রিজেন্ট হাসপাতাল প্রতারণা মামলায় সাহেদ ও রিজেন্টের এমডি মাসুদের ১০ দিন করে রিমান্ড চায় পুলিশ। পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম শুনানি শেষে তাদের ১০ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ২৬ জুলাই সকাল ১০টার দিকে ১০ দিনের রিমান্ড শেষে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিমে তিনটি ও উত্তরা পূর্ব থানায় প্রতারণার এক মামলায় গ্রেফতার দেখানোর পর ১০ দিন করে মোট ৪০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে সাহেদকে হাজির করে পুলিশ। পরে রিমান্ড শুনানি শেষে দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রাজেশ চৌধুরী তার ২৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ সময় একই আদালতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ পারভেজেরও ২১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
নানা অনিয়ম, প্রতারণা, সরকারের সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ, করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট, সার্টিফিকেট দেওয়া ও রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে গত ৬ জুলাই রিজেন্ট গ্রুপের দু’টি হাসপাতালে অভিযান চালান র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে নের্তৃত্ব দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলম। অভিযানে গিয়ে প্রতারণার সত্যতা মেলে। সেই সঙ্গে পাওয়া যায় গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য।
পরদিন গত ৭ জুলাই রিজেন্ট গ্রুপের মূল কার্যালয় এবং রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুরে এর দু’টি হাসপাতাল সিলগালা করে দেওয়া হয়। হাসপাতালটি প্রতারণা করে ১০ হাজারেরও বেশি করোনা পরীক্ষার সার্টিফিকেট দিয়েছে।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানায় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ১৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। অভিযানের সময় রিজেন্ট হাসপাতালের পরিচালক ও ব্যবস্থাপকসহ আট কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে গত ৯ জুলাই গ্রেফতার করা হয় রিজেন্ট হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম শিবলীকে।
এরপর সর্বশেষ গত ১৫ জুলাই ভোরে র‌্যাবের বিশেষ অভিযানে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের লবঙ্গবতী নদীর তীর সীমান্ত এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদকে গ্রেফতার করা হয়।

Related posts