দেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষা ও গবেষণার বিকল্প নেই: মৎস্য মন্ত্রী


ফেব্রুয়ারি ১০ ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টার: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেছেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করতে হবে যারা দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। তিনি বলেন আমরা যে যেখানেই কাজ করি না কেনো আমাদের মূল লক্ষ্য হতে হবে দেশের উন্নয়ন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে আমাদের স্ব স্ব পেশাকে জাতির কল্যাণে নিবেদিত করতে হবে। তিনি বলেন বর্তমান সরকারই প্রথম দেশের পরিকল্পিত এবং টেকসই উন্নয়নের ধারা চালু করেছে যার সুফল আমরা পাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ সকল ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের এই ধারাকে অব্যাহত রেখে তা সুসংহত করতে হবে।

তিনি শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনে সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিন এবং এলামনাই এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে প্রদত্ত সংবর্ধনার জবাবে বক্তব্য রাখছিলেন।

মন্ত্রী বলেন আমরা অনেকেই হয়তো জানিনা উন্নয়নের এ ধারনা কে দিয়েছিলো। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থাপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই স্বাধীনতার পরপরই দেশের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। আজ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ নিয়ে আমরা যা ভাবছি তা তিনি অনেক আগেই শুরু করেছিলেন। তিনি তিয়াত্তর সালে পোনা অবমুক্ত করার মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির কর্মসূচি শুরু করেন। বিদেশ থেকে উন্নত জাতের গরু আমদানি করেন। কৃষির বহুমুখী উন্নয়ন সূচনা করেন। তিনি বলেন তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন তাঁরই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর নেতৃত্বেই সূচনা হয়েছে বাংলাদেশের পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নের ধারা। তিনি বলেন রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য গুণাবলী দরকার, দেশ প্রেম দরকার, মানব প্রেম দরকার। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এ সকল গুণাবলী রয়েছে বলেই দেশ সুপরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁর একান্ত দৃষ্টির ফলে অবহেলিত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটছে। দেশ আজ মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এই সুখবর খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন উপকূলীয় যেসব প্রজাতির মাছ হারিয়ে যেতে বসেছে সেসব মাছ হ্যাচারিতে এনে প্রজনন বৃদ্ধির কৌশল বের করতে হবে। তিনি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও তা টেকসই রাখা এবং এ খাতের সমস্যা ও ভবিষ্যত সম্ভাবনার বিষয়টি নিয়ে নিবেদিতভাবে কাজ করার জন্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গ্রাজুয়েট এবং শিক্ষার্থীদের আহবান জানান। তাঁরা যাতে মৎস্য সেক্টরে জাতীয় ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারেন সে ব্যাপারে সুযোগ সৃষ্টির ব্যাপারে তিনি আশ্বাস দেন এবং তাদেরকে নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় ও নীতিনির্ধারণী সভা করা হবে বলে জানান। তাঁকে সংবর্ধনা প্রদানের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিন ও এ্যালমনাই এ্যাসোসিয়েশনকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এবং এফএমআরটি ডিসিপ্লিন ও এ্যালামনাই এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে পৃথক দুইটি ক্রেস্ট উপহার দেন উপাচার্য।

ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. গাউছিয়াতুর রেজা বানুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। তিনি সংবর্ধিত অতিথি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর জীবনের কথা উল্লেখ করে বলেন একজন মানুষের মধ্যে কতোটা সততা ও নিষ্ঠা থাকলে এ পর্যায়ে আসতে পারেন তাঁর প্রকৃষ্ট উদাহরণ তিনি। শিক্ষকতা থেকে রাজনীতির এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তিনি তাঁর নিষ্ঠার বলেই এ অবস্থানে পৌঁছেছেন যা অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। তিনি গল্লামারী মৎস্যবীজ উৎপাদন খামারটিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ এবং মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের মাঠ গবেষণার কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টির জন্য মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অনুষ্ঠানে অপর বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এফএমআরটি এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ ইফতেখারুল আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহকারী অধ্যাপক সুদীপ্ত দেবনাথ এবং ডিসিপ্লিনের শিক্ষকদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. আইয়াজ হাসান চিশতী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক শেখ তারেক আরাফাত। অনুষ্ঠানে পাওয়ার পয়েন্টে ডিসিপ্লিনের কার্যক্রম উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার(ভারপ্রাপ্ত), বিভিন্ন ডিসিপ্লিন প্রধান ও সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের শিক্ষক, এ্যালামনাই সদস্য, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণাধীন মন্দির পরিদর্শন করেন।

 


এক্সক্লুসিভ


সাক্ষাৎকার

Ad Space

আইন-আদালত


শিল্প-সাহিত্য

Ad Space

ভ্রমণ

ফিচার

Ad Space

পরিবেশ

Ad Space

আবহাওয়া

Ad Space

রাশিফল


Ad Space