আলোচনা সভায় বক্তারা: সুচিকিৎসায় ভাল হয় মৃগী রোগী


ফেব্রুয়ারি ১২ ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টার: অনেক সময় চলতি পথে খিচুনি উঠে রাস্তায় ঘুরে পড়েন কোন ব্যক্তি। পার্শ্ববর্তী লোকজন ছুটে এসে হয়ত কেউ নাকের কাছে চামড়া জাতীয় কিছু ধরেন আবার কেউ গোবর বা এ জাতীয় কিছু নিয়ে আসেন নাকের সামনে। কেউ হয়ত পানি ছিটিয়ে দেন তার মাথায় বা শরীরে। এমন পরিস্থিতিতে ২/৪ মিনিট যখন ব্যক্তিটির স্বম্বিত ফিরে আসে তখন হয়ত মনেই করা হয় চামড়া বা গোবরের ঘ্রান অথবা পানির কারনেই ব্যক্তিটি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। কিন্তু এমন ধারনা মোটেই ঠিক নয়। এ ধরনের রোগকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বলা হয় মৃগী রোগ। যাকে ইংরেজিতে বলা হয় এপিলেপ্সি। এ রোগ যার থাকবে তাকে নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার কিছুই নেই। এমনিতেই ২/১মিনিট পর তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। শুধুমাত্র তিনি যাতে শক্ত কোন স্থানে পড়ে না যান অথবা তার শরীরে যেন কোন আঘাত না লাগে সেটিই দেখতে হবে।

আন্তর্জাতিক এপিলেপ্সি দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা এমনটিই উল্লেখ করেছেন। সুচিকিৎসায় মৃগী রোগ ভাল হয় এবং এর মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবন-যাপন সম্ভব বলেও বক্তারা জানান। এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘জীবনই সুন্দর’। সভায় জানানো হয়, দেশে শতকরা একজন লোক মৃগী রোগে আক্রান্ত।

খুলনা শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের উদ্যোগে সোমবার (১২ফেব্রুয়ারি) সকালে হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে হাসপাতাল চত্বরে র‌্যালী বের হয় এবং পরে বহি:র্বিভাগে রোগী ও তাদের স্বজনদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত পথসভায়ও চিকিৎসকরা বক্তৃতা করেন।

হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা: বিধান চন্দ্র গোস্বামীর সভাপতিত্বে এবং ডা: মো: কামরুল হকের পরিচালনায় এসময় মৃগী রোগ সম্পর্কিত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, হাসপাতালের নিউরোলজী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও এশিয়ান এপিলেপ্সী একাডেমীর ফেলো ডা: আবদুস সালাম। অন্যান্যের মধ্যে নিউরোলজি বিশেষজ্ঞ ডা: রুহুল কুদ্দুস বক্তৃতা করেন। হাসপাতাল থেকে এ পর্যন্ত চিকিৎসা নেয়া বেশ কিছু রোগী ও রোগীদের অভিভাবকরাও এসময় তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের মধ্যে একমাত্র খুলনা শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে এপিলেপ্সি বিভাগ থাকলেও এ বিভাগের জন্য পৃথক কোন ওষুধ সরবরাহ না থাকায় অনেক গরীব রোগীকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয় উল্লেখ করে রোগীরা এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

বক্তারা বলেন, মৃগী রোগীদের ক্ষেত্র বিশেষে ডায়াবেটিস, প্রেসার, থাইরয়েডের ন্যায় সারাজীবন ওষুধের প্রয়োজন হয়। সুতরাং সরকারিভাবে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত হলে গরীব রোগীরা বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতে পারবেন।

পদ্মার এপারের প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষের ভরসাস্থল আবু নাসের হাসপাতালের সেবার মান ধরে রাখার জন্য এবং মানুষের মধ্যে যে আস্থা অর্জিত হয়েছে সেটি অব্যাহত রাখতে অন্যান্য চাহিদাগুলোও দ্রুত পূরণ করা দরকার বলেও বক্তারা মনে করেন।

মৃগী রোগীদের জন্য আবু নাসের হাসপাতালে যেমন জরুরি সেবা রয়েছে তেমনি বহি:র্বিভাগের মাধ্যমে সেবা দেয়ার পাশাপাশি রয়েছে পৃথক ওয়ার্ডও। যেখানে ছয়টি রোগী ভর্তি রেখেই চিকিৎসা দেয়া সম্ভব। এছাড়া এজন্য মূলত: যে পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো প্রয়োজন সেগুলো অর্থাৎ ইইজি, ভিডিও ইইজি, এমআরআই, সিটি স্ক্যান এবং রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষাও আবু নাসের হাসপাতালে স্বল্প মূল্যে করার সুযোগ রয়েছে বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।

মূল প্রবন্ধে ডা: আবদুস সালাম বলেন, কোন ব্যক্তির হঠাৎ করে খিচুনি উঠলে ভয়ের কিছু নেই। আবু নাসের হাসপাতালেই এ রোগের ভাল চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে। শতকরা ৬০ থেকে ৮০ ভাগ রোগীই ওষুধে ভাল হয়। বাকী যে ২০ থেকে ৪০ ভাগ রোগী থাকে তাদেরকেও অপারেশনের মাধ্যমে সুস্থ করা সম্ভব। বিগত পাঁচ বছরে আবু নাসের হাসপাতাল থেকে ১৩শ’র বেশি মৃগী রোগীর চিকিৎসা দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এছাড়াও ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে ৪৫ জন রোগীকে। যাদের সবাই এখন অনেকটা সুস্থ।

 


এক্সক্লুসিভ


সাক্ষাৎকার

Ad Space

আইন-আদালত


শিল্প-সাহিত্য

Ad Space

ভ্রমণ

ফিচার

Ad Space

পরিবেশ

Ad Space

আবহাওয়া

Ad Space

রাশিফল


Ad Space