পাটকল শ্রমিকদের লাঠি মিছিল, উত্তাল শিল্পাঞ্চল


জানুয়ারি ২১ ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টার: খুলনা অঞ্চলের রাষ্টায়ত্ত ছয়টি পাটকলে এখনও কর্মবিরতি চলছে। পাশাপাশি বকেয়া মজুরী পরিশোধসহ ১১ দফা দাবিতে পাটকল শ্রমিকদের কর্মবিরতির ২১তম দিনে রোববার (২১জানুয়ারি) তারা লাঠি হাতে মিছিল করেছেন।

বেলা ১১টায় খালিশপুর, আটরা-গিলাতলা এবং রাজঘাট শিল্পাঞ্চলে হাজার হাজার শ্রমিক স্ব স্ব মিল গেটে জড় হয়ে একযোগে লাঠি মিছিলে যোগ দেয়। শ্রমিকদের স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে শিল্পাঞ্চলের রাজপথ। খালিশপুর শিল্পাঞ্চলে লাঠি মিছিল চলাকালে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ওয়ান্ডারল্যান্ড শিশু পার্কের মোড়ে টাঙানো কিছু প্যানা ছিড়ে ফেলে। এ সময় ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মিছিল শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিলগেটে যেয়ে শেষ হয়।

মিছিলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পাট প্রতিমন্ত্রী ও বিজেএমসির চেয়ারম্যানকে অযোগ্য ঘোষাণা করে তাদের পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দেয়। শ্রমিকরা জানান, নিয়মিত মজুরী না পেয়ে তারা আজ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতন জীবন যাপন করছেন। অথচ বিজেএমসি এবং মিল কর্তৃপক্ষ পাওনা পরিশোধের বিষয়ে উদাসীন। অবিলম্বে শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান তারা।

লাঠি মিছিলে অংশগ্রহণ করেন রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদের কার্যকরী আহ্বায়ক মো. সোহরাব হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক কওছার আলী মৃধা, শ্রমিক নেতা গাজী মাসুম, এস এম জাকির হোসেন, আবু হানিফ, খলিলুর রহমান প্রমুখ। শ্রমিকনেতা সোহরাব হোসেন বাংলাদেশের খবরের এ প্রতিনিধিকে জানান, বকেয়া মজুরী পরিশোধ ও ১১দফা দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। শ্রমিকনেতা এস এম জাকির হোসেন পাট প্রতিমন্ত্রী ও বিজেএমসির চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবী করে বলেন, ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি চলবে এবং এ সময়ের মধ্যে দাবী আদায় না হলে ৪ ফেব্রুয়ারি কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

দ্বিতীয় দফা ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামী ২৪ জানুয়ারি রাজপথে ভুখা মিছিল, ২৫ জানুয়ারি সাংবাদিকদের সাথে বৈঠক, ২৬ জানুয়ারি দুপুর ৩টায় জনসভা, ২৮ জানুয়ারি থেকে ৪৮ ঘন্টা ধর্মঘট ও বিক্ষোভ মিছিল, ৩১ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪ ঘন্টা রেলপথ-রাজপথ অবরোধ।

উল্লেখ্য,বকেয়া মজুরী পাওনার দাবিতে বিদায়ী বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে খুলনার রাষ্ট্রায়াত্ত ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, স্টার, ইষ্টার্ণ, আলিম, দৌলতপুর, খালিশপুর ও যশোরের জেজেআই জুট মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয় শ্রমিকরা। কর্মবিরতির ১৯তম দিনে বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) দুই সপ্তাহের মজুরী প্রদান করায় দৌলতপুর ও খালিশপুর জুট মিলের শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন। তবে এখনও ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, স্টার, ইস্টার্ণ, আলিম ও যশোরের জেজেআই এই ৬টি পাটকলের শ্রমিকরা কর্মবিরতি অব্যাহত রেখেছে।


এক্সক্লুসিভ


সাক্ষাৎকার

Ad Space

আইন-আদালত


শিল্প-সাহিত্য

Ad Space

ভ্রমণ

ফিচার

Ad Space

পরিবেশ

Ad Space

আবহাওয়া

Ad Space

রাশিফল


Ad Space