দাকোপে পাকা আমন ধান কাটা শুরু


ডিসেম্বর ৪ ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার: খুলনার দাকোপ উপজেলায় আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। শীতের সকালে ধান কাটার জন্য ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষক-কৃষাণীরা। ৩১, ৩২ ও ৩৩- পোল্ডারে এবার আমন ফলন ভালো হয়েছে। উপজেলার সুতারখালী, কামারখোলা, চালনা পৌরসভা, পানখালী, তিলডাঙ্গা ইউনিয়নে গতকাল সোমবার থেকে পাকা ধান কাটা শুরু হয়।

খোনা গ্রামের কৃষক লিটন বাওয়ালী বলেন, বর্গা নিয়ে ২ বিঘা জমিতে বিআর-২৩ জাতের ধান চাষ করেছি। ধানের ফলন বেশ ভালো। ধান দেখে কাটতে ভালো লাগছ্।ে তিনি আরও জানায়, ধানের আঁটি উঁচ ুকরে অনুমান করছি ১০০ আঁটিতে ৫ মণের বেশি ধান হবে।

সুতারখালী গ্রামের কৃষক আলামিন গাজী বলেন, ৭ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছি। বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে পঁচিশ’শ টাকা। তবে ধান কেটে দেখেছি ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘা ১৭ থেকে ১৮ মণ করে ধান পাবো।

চুনকুড়ি গ্রামের কৃষক শচীন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, এবার ২ বিঘা জমিতে ব্রি-৭৬ ও মোটা জাতের ধান লাগিয়ে ছিলাম। ফলনও ভালো হয়েছে। চলতি বছর অতি বৃষ্টির কারনে পানিতে ডুবে গিয়েছিল বীজতলা। ফসলহানির আশংকা করেছিলাম। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের  পরেও ধানের বাম্পার ফলন দেখে খুশি আছি।

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষাণী এ্যাড. শুভদ্রা সরকার বলেন, ধানের মাঠ দেখলে পরাণ জুড়িয়ে যায়। এ বছর আমন ধানের ফলন অন্য বছরের তুলনায় অনেক ভালো। কিছু ব্লকে ধান পেকেছে, আর কিছু ব্লকে এখনো কাঁচা আছে। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সব ধান বাড়িতে তোলা হবে।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অন্তত ৩০ জন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর আমন ফসল অনেকটাই ভালো। বৈরী আবহাওয়ার কারনে বীজতালার বেশ সমস্যা হয়ে ছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরেও মাঠে মাঠে ধানের ফলন ভালো। তারপর কোন সমস্যা দেখা গেলে উপজেলা কৃষি অফিসকে অবহিত করা হতো। কৃষি অফিস সঙ্গে সঙ্গে পরামর্শ দিয়ে সব সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করে। যে জন্য উপজেলার মাঠে মাঠে কৃষিতে বিল্পব ঘটেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে এ বছর আমন চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে বিআর-২৩, ১০, ১১, ব্রি-৩০, ৪৯, ৫১, ৫২, ৭২, ৭৩, ৭৬, ৭৭ সহ স্থানীয় কিছু উচ্চ ও লবন সহনশীল জাতের ধান চাষ করা হয়েছে।

দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, আমন নির্ভর দাকোপে এখন নানান ফসলে শস্যভান্ডারে পরিণত হয়েছে। চলতি আমন মৌসুমে, গত বছরের তুলনায় এবছর ফসলের লক্ষমাত্রা ছাড়ানোর জন্য আমরা নতুন নতুন জাতের ধানের বীজ দেই কৃষকদের মাঝে। ফসল বৃদ্ধি ও পোকামাকাড়ের হাত থেকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন মাঠের ধরন বুঝে নানা কর্মসূচি দিয়ে থাকি। শ্রমিক সংকট নিরসণের জন্য প্রযুক্তির যন্ত্র (ধান কাটার) কিনতে উৎসহ দিয়ে থাকি। কয়েক জন কৃষক এ মেশিন ক্রয় করেছে। তিনি আরও বলেন, এখানকার কৃষকরা নিজেদেও খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে অনেক পরিমানের ধান বাজারে বিক্রি করতে পারবে স্থানীয় কৃষকরা।

এক্সক্লুসিভ

সাক্ষাৎকার

আইন-আদালত

শিল্প-সাহিত্য

ভ্রমণ

ফিচার

পরিবেশ

আবহাওয়া

রাশিফল


Ad Space