তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে নতুন বিপ্লবের সুযোগ তৈরি হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী


ডিসেম্বর ৬ ২০১৭

এসবিনিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের ফলে আমাদের সামনে এক নতুন বিপ্লবের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে কাজে লাগাতে হবে। তরুণরাই আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। শিক্ষা-দীক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টিতে ও মানবসম্পদ গড়তে আমরা কাজ করছি।

 

ঊুধবার (৬ ডিসেম্বর) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দেশের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিভিত্তিক প্রদর্শনী ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কিন্তু অনেকে এ নিয়ে হাসিঠাট্টা করেছিল। জানি না মানুষ এখন কী ভাবে। তবে এটা বলতে পারি, এ দেশের মানুষ এখন ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার করতে পারে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে যখন ক্ষমতায় এলাম তখন দেখি বিভিন্ন ফাইল টাইপরাইটারে টাইপ হয়ে আসত। সরকারি অফিসে কম্পিউটার থাকা সত্ত্বেও ব্যবহার হতো না। পিসি (পার্সোনাল কম্পিউটার) ছিল ডেকোরেশন পিস। আমি ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন জনের সঙ্গে কম্পিউটারের ব্যবহার বৃদ্ধি নিয়ে কথা বলেছি। তাদের পরামর্শ নিয়ে কম্পিউটার পার্টসসহ নানা পার্টসের ট্যাক্স কমিয়েছি। এখন সব জায়গায় কম্পিউটারের ব্যবহার হয়।

 

 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সাধারণ মানুষের কাছে মোবাইল ফোনের সেবা পৌঁছে দিতেই আমরা বেসরকারি খাতে এ ব্যবসা উন্মুক্ত করেছিলাম। এখন দেশে প্রায় ১৩ কোটি মোবাইল সিম ব্যবহার হচ্ছে। মানুষ এখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিলসহ ট্যাক্সও দিতে পারে। শিগগিরই দেশে ফোরজি চালু হয়ে যাবে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় জীবন চলে এসেছে হাতের মুঠোয়। জনগণের সেবা হাতের মুঠোয় নিয়ে আসতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের মানুষ খুব বেশি শিক্ষিত না হলেও তারা মোবাইল ফোন ব্যবহারে পারদর্শী। এত বেশি সময় ধরে মোবাইল ফোনে কথা বলার রেকর্ড বিশ্বের অন্য কোনো দেশে নেই। এখন স্কাইপির মাধ্যমে বিদেশে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা বলতে পারে মানুষ। হাতে টাকা এলেই এখন কেউ ছেলের সঙ্গে, কেউবা স্বামীর সঙ্গে কথা বলবে ও একে অপরকে দেখবে বলে ডিজিটাল সেন্টারে গিয়ে বসে থাকে।

 

তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে দেশকে ডিজিটাল হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। গত ৮ বছরে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৮ কোটিতে। আমরা দেশকে ডিজিটাল হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছি তৃণমূল পর্যায় থেকে। ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার করা হয়েছে। গ্রামীণ মানুষও এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে।’

 

প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন ‘বিএনপি তথ্য চুরির ভয়ে সাবমেরিন ক্যাবলে সংযুক্ত হয়নি। কিন্তু আমরা হয়েছি। এখন আমরা ইন্টারনেট ধারও দিচ্ছি। শিগগিরই আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উদ্বোধন করতে যাচ্ছি।’

 

দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের গুরুত্ব উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বললেন, ‘আমরা এই সেবা সবার কাছে তুলে দিয়েছি। আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের একটু সুযোগ দিলেই তারা ভালো কাজ করে, অনেক কিছু শিখতে পারে। তার প্রমাণ তারা এখন বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।’

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ সরকারের মন্ত্রী এমপিরা।

 

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন ও সক্ষমতা তুলে ধরতে বুধবার থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) বসছে দেশের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিভিত্তিক প্রদর্শনী ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭। এর প্রতিপাদ্য ‘রেডি ফর টুমরো’।

 

ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭-এর আযয়োজন করছে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ। আয়োজনের সহযোগী হিসেবে থাকছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিযয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্প।

 

এ ছাড়াও পার্টনার হিসেবে থাকছে বাক্য, বিসিএস, ই-ক্যাব, বিআইজেএফ, বিবিআইটি, বাংলাদেশ ইনোভেশন ফোরাম এবং সিটিও ফোরাম।

 

৪ দিনের এই প্রদর্শনী চলবে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।

 

এক্সক্লুসিভ

সাক্ষাৎকার

আইন-আদালত

শিল্প-সাহিত্য

ভ্রমণ

ফিচার

পরিবেশ

আবহাওয়া

রাশিফল


Ad Space