আমার দেশ সম্পাদকের বিরুদ্ধে খুলনায় মামলা


ডিসেম্বর ১১ ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার: খুলনার মহানগর হাকিমের আমলী আদালতে দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।  সোমবার (১১ ডিসেম্বর) খুলনার ১৬নং ওয়ার্ডের যুব মহিলা লীগের সভাপতি এ্যাড. নাজিয়া আহমেদ বর্ণা দন্ডবিধির ১২৩(ক), ১২৪(ক), ৫০১, ৫০২, ৫০৫ ধারায় মামলাটি দাখিল করেন।

আদালতের বিচারক মো. আমিরুল ইসলাম বাদি পরে বক্তব্য শুনে মামলাটি আমলে নিয়ে খুলনা সদর থানার ওসিকে তদন্তপুর্বক আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় আরও ৬জন আইনজীবীকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে।

মামলায় বলা হয়, গত ১ডিসেম্বর ঢাকায় জাতীয় প্রেসকাবে বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক কাউন্সিল (বিডিসি) আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান হয়। ওই অনুষ্ঠানে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান তার বক্তৃতায় বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু ও দেশের গনতন্ত্র নিয়ে কুরুচি ও মানহানীকর কথা বলেছেন। যা দেশের সকল ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া স্যোসাল মিডিয়ায় তার বক্তব্য দেখে ও শুনে বাদি এ্যাড. নাজিয়া আহমেদ বর্ণা এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার বাদি পে ফাইলিং আইনজীবী হলেন খুলনা জেলা বারের সভাপতি ও মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক সরদার আনিছুর রহমান পপলু। মামলায় ঘটনার দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত অজ্ঞাত ব্যাক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে।

এদিকে দৈনিক আমার দেশ এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে খুলনার সিএমএম আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির অভিযোগে মামলা দায়েরের ঘটনার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন খুলনা মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ। এ ঘটনাকে তারা বিরোধী মত দমনে প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতির নিকৃষ্ট নজির হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

এক বিবৃতিতে নগর বিএনপি নেতারা বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই, মুক্ত মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই, জনগনের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। সরকারের জুলুম নির্যাতন ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক পন্থায় প্রতিবাদের সকল পথ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। অবৈধ পন্থায় গায়ের জোরে ক্ষমতা দখলকারী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ার মতো রাজনৈতিক কর্মীদেরকে খুন অথবা গুম করা হচ্ছে। মাহমুদুর রহমান সরকারের রোষানলে পড়ে দীর্ঘ প্রায় পাচ বছর কারাভোগের পর জামিনে বেরিয়ে এসে একমাত্র তিনিই এসবের অনিয়ম দুর্নীতি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলছিলেন। সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিদের লুটপাট ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাকে ছাড়া অন্য কাউকেই এতোটা সাহসিকতার সাথে কথা বলতে দেখা যায়না।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, মাহমুদুর রহমান সেই ব্যক্তি, যিনি খোদ সরকার প্রধানকে সততার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন। যে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার সৎ সাহস সরকারের হয়নি। যুক্তিতে এবং তথ্য-উপাত্তে পরাস্থ করতে না পেরে এখন দেশের সৎ, সাহসী ও দেশপ্রেমিক একজন কলম  সৈনিককে মামলা দিয়ে পুনরায় হয়রানি করার চক্রান্ত ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এর আগেও তাকে কারাগারে আটকে রেখে নির্যাতন করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়ার অপচেষ্টা চলেছিল। কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতা তাদের আত্মপ্রচারণা ও নাম জাহিরের জন্য এ ধরনের মামলার সস্তা পথবেছে নিয়েছে। বিবৃতিতে অবিলম্বে এ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিদাতারা হলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও সাবেক এমপি এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাই, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক ও কেসিসির মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, সাবেক এমপি কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সৈয়দা নার্গিস আলী, মীর কায়সেদ আলী, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, শেখ মোশারফ হোসেন, জলিল খান কালাম, সিরাজুল ইসলাম, খায়রুজ্জামান খোকা, স ম আব্দুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, ফখরুল আলম, এ্যাড. ফজলে হালিম লিটন, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, সিরাজুল হক নান্নু, মাহবুব কায়সার, ইকবাল হোসেন খোকন, আসাদুজ্জামান মুরাদ প্রমুখ।


এক্সক্লুসিভ


সাক্ষাৎকার

Ad Space

আইন-আদালত


শিল্প-সাহিত্য

Ad Space

ভ্রমণ

ফিচার

Ad Space

পরিবেশ

Ad Space

আবহাওয়া

Ad Space

রাশিফল


Ad Space