মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তদন্ত রিপোর্ট একটি হোয়াইটওয়াশ : অ্যামনেস্টি


নভেম্বর ১৫ ২০১৭

এসবিনিউজ ডেস্ক: মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ নিয়ে সৃষ্ট সংকটের অভ্যন্তরীণ তদন্তÍ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। তবে হত্যাযজ্ঞে নিজেদের জড়িত থাকার কোনও বিষয় উল্লেখ করেনি তারা। মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা, নারীদের ধর্ষণ, গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া কিংবা লুটপাটের কোনো ঘটনায় সেনা সদস্যরা জড়িত নয় বলে দাবি করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। বরং সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সেনাবাহিনীর এই প্রতিবেদনকে ‘চোখে ধুলা’ দেওয়ার চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছে। তারা জাতিসংঘের তদন্ত কমিটিকে ওই অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতার পর রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ বলে উল্লেখ করেছে।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কথায় উঠে আসে সেনাসদস্যদের নৃশংসতা, বর্রতা। তবে এই সব কিছুই অস্বীকার করেছে সেনাবাহিনী।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী কোনো নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেনি।  কোনো নারীকে ধর্ষণ করা হয়নি, যৌন নিপীড়নের কোনো ঘটনাও সেনাবাহিনী ঘটায়নি।  গ্রামবাসীদের গ্রেফতার করে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি। বাড়িঘরে লুটপাট চালিয়ে সোনা-রুপার গয়না, গবাদি পশু বা যানবাহন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। সেনাবাহিনী কোনো মসজিদে আগুন দেয়নি। কাউকে গ্রাম ছাড়তে বলা হয়নি, সেনা সদস্যরা কাউকে হুমকিও দেয়নি। বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার সঙ্গেও সেনাবাহিনী জড়িত নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরাই বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে এবং তাদের হুমকিতেই হাজার হাজার মানুষ গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে। এবারের সঙ্কট শুরুর পর আন্তর্জাতিক সমালোচনার মধ্যে গত ৫ সেপ্টেম্বর একদল বিদেশি সংবাদিককে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রাখাইনে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছিল দেশটির সরকার। সাংবদিকদের ওই দলে ছিলেন বিবিসির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া প্রতিবেদক জোনাথন হেড। নিয়ন্ত্রিত ওই সফরেও বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা গ্রাম পুড়তে দেখার কথা পরে এক প্রতিবেদনে জানান বিবিসির ওই সাংবাদিক। তিনি সেখানে লিখেছেন, মিয়ানমারের পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয় বৌদ্ধদের তিনি রোহিঙ্গা গ্রামে আগুন দিতে দেখেছেন।  সর্বস্ব হারিয়ে গায়ে গুলির ক্ষত নিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছানো রাহিঙ্গারাও গ্রামে গ্রামে হামলা, হত্যা, অগ্নিসংযোগের সময় সেনাবাহিনীর সঙ্গে রাখাইনের বৌদ্ধদের দেখার কথা বলেছেন।

কিন্তু সেনাবাহিনীর তদন্ত  প্রতিবেদনের বিষয়ে ফেসবুকে তারা যে বিবৃতি প্রকাশ করেছে, সেখানে বলা হয়েছে, কয়েক হাজার গ্রামবাসীর সাক্ষাৎকার নিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সেনা সদস্যদের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ তারা পায়নি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একজন মুখপাত্র বলেছেন,  ওই প্রতিবেদনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এটাই প্রমাণ করেছে যে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। দায় স্বীকার করবে না।  “মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো যাতে বিচার এড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই দায়িত্ব নিতে হবে।”

তবে ওই অঞ্চলে দায়িত্বপালন করা জেনারেলকে বদলি করা হয়েছে। তবে কোনও কারণ দেখানো হয়নি। বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের মিয়ানমার সফরের কথা রয়েছে।

গত ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইনে পুলিশ পোস্ট ও  সেনা ক্যাম্পে যে হামলার পর সেনাবাহিনীর এই অভিযান শুরু হয়, তার পেছনে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের একটি দলকে দায়ী করে আসছে মিয়ানমার সরকার।

মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নিজেদের নাগরিক হিসেবে মেনে নিতে নারাজ। তাদের চোখে এই মুসলিম জনগোষ্ঠী বাংলাদেশ থেকে আসা ‘অবৈধ অভিবাসী’।

সুকি-গুতেরেস বৈঠক : বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস মিয়ানমারের নেতা অং সান সুকির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ফিলিপাইনে এক শীর্ষ সম্মেলনে মঙ্গলবার তাদের এক বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়। তার দপ্তর এ কথা জানায়। খবর এএফপি’র।

সম্মেলনে মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর এই সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে সুকির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের কথাও বলা হয়।

জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘দেশটিতে মানবিক সাহায্য প্রবেশ, নিরাপত্তা ও সম্মানের সাথে দেশে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন

সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন জরুরী।’ বিগত আড়াই মাসে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছয় লাখেরও বেশী রোহিঙ্গা পালিয়ে গিয়ে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে আশ্যয নিয়েছে।

রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালানোর পর দেশটির সামরিক বাহিনী ওই অঞ্চলে ব্যাপক দমন-পীড়ন চালালে এ সংকটের সৃষ্টি হয়। এ অভিযান চালানোর সময় তারা রোহিঙ্গাদের অনেক গ্রাম জ্বালিয়ে দেয় এবং এসব জনগোষ্ঠীর ওপর অমাববিক নির্যাতন চালায়।

এক্সক্লুসিভ

সাক্ষাৎকার

আইন-আদালত

শিল্প-সাহিত্য

ভ্রমণ

ফিচার

পরিবেশ

আবহাওয়া

রাশিফল


Ad Space