প্রেমিকার খোঁজে শাহরুখ…..


নভেম্বর ১২ ২০১৭

বিনোদন ডেস্ক: শাহরুখ খানকে না বলে তার প্রেমিকা গৌরি মুম্বাই চলে এলেন। হতবাক হয়ে পড়লেন শাহরুখ খান। গৌরির বন্ধুদের কাছে ঘটনাটা শেয়ার করলেন। সবাই শাহরুখকে পরামর্শ দিলেন গৌরির পেছনে না ছোটাই ভালো। একে তো দুইজন দুই ধর্মের মানুষ, তার ওপর শাহরুখ চালচুলোহীন বেকার। কিন্তু পাঠান রক্ত যার শরীরে, তিনি তো এতো সহজে দমবার পাত্র নন। যুক্তি দিয়েই তিনি সবকিছু মানতে রাজি নন। হিন্দি মুভির চিত্রনাট্যের মতো শাহরুখ গৌরিকে খুঁজতে মুম্বাই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।

গৌরিকে শাহরুখ প্রথম দেখেন একটা পার্টিতে। সেন্ট কলম্বা স্কুলে থাকাকালে শাহরুখরা পাঁচ বন্ধু মিলেসি-গ্যাং তৈরি করেন। সবারই গার্লফ্রেন্ড ছিল। ছিল না কেবল শাহরুখের। যে লোকটি একদিন পর্দায় কোটি তরুণীর স্বপ্নের নায়ক হবেন, আশ্চর্য হলেও সত্যি সেই বয়সে শাহরুখের কোনো গার্লফ্রেন্ড ছিল না। গৌরি তখন ১৪ বছরের টিনএজ কিশোরী। চার বছরের বড় শাহরুখ গৌরির তুলনায় যথেষ্ট আনস্মার্ট ভাবতেন নিজেকে। গৌরিকে প্রপোজ করার সাহস পাননি। তৃতীয় বার দেখা হওয়ার পর শাহরুখ শুধু দুই একটা কথা বলে গৌরির ফোন নাম্বার নিয়ে নেন।

তারিখটি ছিল ১৯৮৪ সালের অক্টোবরের ২৫ তারিখ। গৌরির বাড়ির ল্যান্ডফোনে শাহরুখ ফোন করতেন ছদ্ম নাম ব্যবহার করে। সম্পর্ক ধীরে ধীরে গভীর হয়। ঠিক সেই অবস্থায় আচমকা গৌরি দিল্লি ত্যাগ করেন।

দশ হাজার রুপি সমেত শাহরুখ খান আরও দুই বন্ধুকে নিয়ে অজানা অচেনা শহর মুম্বাইতে পাড়ি জমালেন। শাহরুখ শুধু জানতেন গৌরি সাঁতার কাটতে ভালোবাসে। মুম্বাই যদিও আরব সাগর তীর সংলগ্ন, তবু জুতসই বিচ নেই প্রায় একটাও। যেগুলো আছে সব ছোটো ছোটো আর সাঁতার কাটার উপযোগী নয়। কাফে প্যারেড এলাকায় এক বন্ধুর বাড়িতে অবস্থান নিয়ে গৌরিকে খুঁজতে লাগলেন শাহরুখ। কিন্তু পাচ্ছেন না কোথাও। এদিকে পকেটের টাকা শেষ হয়ে আসছে। রাত কাটতো রেলওয়ে স্টেশন আর পার্কে।

বন্ধুরা আর থাকতে চাচ্ছিল না। এভাবে মুম্বাই থাকলে আর কয়েক দিন পর যে না খেয়ে মরতে হবে তাদের। এই পর্যায়ে শাহরুখ তার প্রিয় পেন্টাক্স ক্যামেরাটাও বিক্রি করে ফেললেন চার হাজার রুপিতে।

বন্ধুরা দিল্লির টিকেট কেটে ফেলল। কিন্তু শাহরুখ যাবেন না। বন্ধুদের মুখের উপর বলে দিলেন, ‘দেখিস, এমন একদিন আসবে, যেদিন আমি এই শহরে রাজত্ব করব।’

কে জানতো এই ‘ঔদ্ধত্যই’ একদিন শাহরুখকে বলিউডের সুপারস্টার বানাবে? আজ শাহরুখের বাড়ি মান্নাত মুম্বাইয়ের সবচেয়ে আকাঙ্খিত ট্যুরিস্ট স্পট।

যাই হোক, শাহরুখ একাই গৌরিকে খুঁজতে লাগলেন। একদিন পেয়েও গেলেন নর্থ মুম্বাইয়ের গড়াই বিচে। কিন্তু প্রেমিককে এই পাগলপ্রায় অবস্থায় দেখেও গৌরির মন গলেনি। বললেন, ‘আগে দিল্লি যাই। আমাকে সময় দাও, আমি জানাচ্ছি।’

শাহরুখ দিল্লি ফিরে এলেন। গৌরি এবার স্পষ্টত শাহরুখকে না বলে দিলেন। মনমরা শাহরুখ একটু ধৈর্য ধরে থিয়েটারের কাজে ডুবে থাকলেন। চার মাস পর গৌরিই শাহরুখকে চিঠি লিখলেন। জানালেন, বড্ড মিস করেন শাহরুখকে। শাহরুখের সাথে দেখা করতে এলেন এবং বলে দিলেন, ‘আমরা দুজনে বিয়ে করে ফেলব।’

শাহরুখ সময় চাইলেন। গৌরি দিতে রাজি হলেন। প্রেমের সম্পর্ক চলতে থাকল। গৌরির পরিবারের কেউ জানে না শাহরুখের সাথে এই সম্পর্ক।

বলিউড বাদশাহ হওয়ার শুরুর কাহিনি

কমল দেওয়ান নামে এক রিয়েল এস্টেট এজেন্ট একদিন শাহরুখের মা ফাতেমার কাছে আসলেন একটা বাড়ির নমুনা দেখাতে। শাহরুখের মা কিছু টাকা জমিয়েছিলেন দিল্লিতে একটা বাড়ি কিনবেন বলে। কমল যখন জানলেন, ফাতেমার পুত্র শাহরুখ একজন অভিনেতা, তিনি ফাতেমাকে প্রস্তাব বললেন, ‘আামার শ্বশুর কর্নেল রাজ সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছেন। এখন সেনা জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘ফৌজি’ নামে একটি সিরিয়াল বানাতে চান সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দূরদর্শনের জন্য। আপনার ছেলেকে বলুন না আমার শ্বশুরের সাথে সাক্ষাৎ করতে।’

কর্নেল রাজ ছিলেন আমোদে মানুষ। সেনাবাহিনীর লোক হয়েও বলিউডের অন্দরমহলে যাতায়াত ছিল তার। বিখ্যাত কাপুর খান্দানের তিন ভাই রাজকাপুর, শাম্মি কাপুর ও শশি কাপুরের সাথে যোগাযোগ ছিল। তিনি ১৩ পর্বের একটা ধারাবাহিক নির্মাণ করতে চান সেনাবাহিনীর জীবন, কর্ম, আনন্দ বেদনা নিয়ে।

শাহরুখ কর্নেলের সঙ্গে দেখা করলেন। শাহরুখকে দেখে পছন্দ হলো কর্নেলের। শুরুর কয়েকটি পর্বে শাহরুখকে ছোট রোল দেয়া হলো। অন্যতম প্রধান চরিত্র ‘অভিমন্যু রাই’ এর চরিত্রে কাস্ট করা হয় কর্নেলের ছেলে ববিকে। ববি নিজেই ছিলেন এই ছবির ক্যামেরাম্যান। কিন্তু চার পর্ব করার পরেই ববি আর কাজ করতে চাননি। ইতিমধ্যে শাহরুখ সবার মন জয় করে নিয়েছেন। পঞ্চম পর্ব থেকেই শাহরুখকে অভিমন্যু রাইয়ের চরিত্রে কাস্ট করা হয়। এরপর বাকিটুকু ইতিহাস। শাহরুখ সবার নজর কাড়েন। রাস্তায় লোকজন শাহরুখকে দেখেই বলতেন, ‘ওই যে অভিমন্যু রাই যায়।’

এই সিরিয়ালের মাধ্যমেই মুম্বাইয়ের সিনে জগতে একটু পরিচিত হয়ে উঠেন শাহরুখ খান। দিল্লির পাঞ্চেল পার্কে নিজ বাসায় বসে ‘ফৌজি’ সিরিয়াল দেখে নিজের সৈনিক জীবনে ফিরে যান শাহরুখের প্রেমিকা গৌরির বাবা রমেশও। শাহরুখের অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়ে পড়েন তিনি। রমেশ তো আর জানতেন না এই অভিনেতাই তার মেয়ে গৌরির সাথে গোপনে প্রেম করছে।

এক্সক্লুসিভ

সাক্ষাৎকার

আইন-আদালত

শিল্প-সাহিত্য

ভ্রমণ

ফিচার

পরিবেশ

আবহাওয়া

রাশিফল


Ad Space