খুলনা-কলকাতা রুটে ট্রেন চলাচল শুরু


নভেম্বর ৯ ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার:  খুলনা-কলকাতা রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯নভেম্বর) কলকাতা থেকে বন্ধন এক্সপ্রেসট্রেন খুলনায় আসে এবং পরে কলকাতার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। আগামী ১৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করবে এই রুটে। বৃহস্পতিবার থেকে খুলনা রেলওয়ে স্টেশনের একটি আলাদা কাউন্টারে খুলনা-কলকাতা রুটের ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। এর আগে গত ৮ এপ্রিল খুলনা-কলকাতা রুটে মৈত্রী এক্সপ্রেস-২ পরীামূলক চলাচল করে।

ভারতীয় রেলওয়ের ১৬ জন কর্মকর্তাকে নিয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় কলকাতা থেকে ছেড়ে আসা বন্ধন এক্সপ্রেসট্রেন বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে খুলনায় এসে পৌঁছায়। খুলনা সদরের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান ও রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার খায়রুল আলমসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খুলনায় ট্রেনটিকে স্বাগত জানায়। ৪টা ২৫ মিনিটে ট্রেনটি আবার কলকাতার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। তবে ট্রেনটিতে কোনো সাধারণ মানুষ যাত্রী হতে পারেনি।

খুলনা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার জানান, আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে বাণিজ্যিকভাবে এই রুটে ট্রেন চলাচল করবে। সপ্তাহে একদিন বৃহস্পতিবার ট্রেন চলবে। কলকাতার (চিৎপুর) স্টেশন থেকে ভারতীয় সময় সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ট্রেন ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গের পেট্র্রাপোলে পৌঁছাবে স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে। ভারতীয় রেলের বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন বদল করে বাংলাদেশের ডিজেল চালিত রেল ইঞ্জিন ১০টি কোচ নিয়ে বেনাপোলে পৌঁছাবে সকাল ৯টা ২০ মিনিটে। বেনাপোলে ইমিগ্রেশন-কাস্টমস সেরে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ছেড়ে খুলনায় এসে পৌঁছাবে দুপুর ১২টায়। ১ ঘন্টা ২০ মিনিট বিরতির পর খুলনা থেকে যাত্রী নিয়ে বন্ধন কলকাতার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে। বেনাপোল পৌঁছাবে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে। রেল স্টেশনে ইমিগ্রেশন-কাস্টমস সেরে পেট্রাপোলে পৌঁছাবে স্থানীয় সময় ৪ টা ২০ মিনিটে।

তিনি জানান, ৮টি বগির এই ট্রেনটিতে যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ৪৫৬ জন। এর মধ্যে এসি সিট (কেবিন) ১৪৪ এবং ৩১২ টি এসি চেয়ার। ১৭৫ কিলোমিটার পাড়ি দিতে সময় লাগবে প্রায় ৫ ঘণ্টা। ট্রেনটির এসি কেবিনের ভাড়া ভ্যাট ১৮৯ টাকা এবং ট্রাভেল ট্যাক্স ৫শটাকাসহ মোট ভাড়া ২ হাজার টাকা। এসি চেয়ারের ভাড়া ভ্যাট ১২৬ টাকা ও ট্রাভেল ট্যাক্স ৫শটাকাসহ ১ হাজার ৫০০ টাকা। ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস বিভাগের কর্মকান্ড পরিচালিত হবে বেনাপোল ও কলকাতায়।

এদিকে বৃহস্পতিবার (৯নভেম্বর) সকালে খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে কলকাতা রুটের ট্রেনের জন্য আলাদা টিকিট কাউন্টার চালু করা হয়েছে। পাসপোর্ট ও ভিসা দেখিয়ে সেখান থেকে যাত্রীরা টিকিট কিনছেন। বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মোট ২৭ জন যাত্রী টিকিট কিনেছেন।

চিকিৎসা, ভ্রমণ, কেনাকাটা ও ব্যবসায়িক কাজসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে খুলনা ও আশপাশের অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন কলকাতা যাতায়াত করেন। সরাসরি ট্রেন চালুর ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেক কমবে।

তবে টিকিট কিনতে আসা যাত্রী ইলিয়াস হোসেন ও সিরাজুল আলম বলেন, ট্রেনটি সপ্তাহে মাত্র এক দিনের পরিবর্তে একাধিক দিন চালানো প্রয়োজন। এছাড়া টিকিটের মূল্য অনেক বেশী। ভাড়া কমালে যাত্রীদের সুবিধা হবে।

উল্লেখ্য, বৃটিশ আমল থেকে  খুলনা ও কলকাতার মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করতো। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর বন্ধ হয়ে যায় এই রেল যোগাযোগ। দীর্ঘ ৫২ বছর পর আবার তা চালু হলো।


এক্সক্লুসিভ


সাক্ষাৎকার

Ad Space

আইন-আদালত


শিল্প-সাহিত্য

Ad Space

ভ্রমণ

ফিচার

Ad Space

পরিবেশ

Ad Space

আবহাওয়া

Ad Space

রাশিফল


Ad Space