খুলনার ৪ জেলায় বোরো আবাদে ৮৫ শতাংশ সরকারি বীজের ঘাটতি


নভেম্বর ১৫ ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চার জেলায় এবারের বোরো মৌসুমে দুই লাখ হেক্টর আবাদের জন্য চাহিদার তুলনায় ৮৫ শতাংশ সরকারি বীজের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও নড়াইল। ঘাটতির পাশাপাশি সরকারি বীজের মূল্য এবার দ্বিগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। তারপরও এসব জেলায় ৬ লাখ কৃষক পরিবার বোরো আবাদের উদ্যোগ নিয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, গত মৌসুমে এ অঞ্চলের বোরো চাষীরা কাঙ্খিত মূল্য পায়। বস্তা প্রতি চারশ’ টাকা লাভ হয়। সেই সঙ্গে গোখাদ্য ও মাছের খাবারের চাহিদা পূরণ হয়। মৎস্য খামার পরিবেষ্টিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ভূমিতে বোরো আবাদ হচ্ছে প্রতি বছর। বাগদা ও গলদা চিংড়ির লোকসান মেটাতে বিকল্প হিসেবে বোরো চাষ করছে কৃষক।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, এবারে খুলনা জেলায় ৫২ হাজার, সাতক্ষীরা জেলায় ৭৪ হাজার, বাগেরহাট জেলায় ৫৩ হাজার এবং নড়াইল জেলায় ৪২ হাজার হেক্টর বোরো আবাদের আওতায় আনা হয়েছে। ইতোমধ্যেই বীজতলা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ফুলতলার গুদাম থেকে ট্রাক বোঝাই হয়ে বীজ গন্তব্যস্থলে যাচ্ছে।

বিএডিসি (বীজ) এর উপ-পরিচালক মোঃ লিয়াকত আলী বলেন, এ অঞ্চলে ৭ হাজার মেট্রিক টন বীজের চাহিদা রয়েছে। এ পর্যন্ত দু’হাজার একশ’ ২৭ মেট্রিক টন বীজ বরাদ্দ হয়েছে। নানাজাতের মধ্যে রয়েছে বিরি-১৬, ২৬, ৩২, বিআর-২৯, ৪৭, বিনা-১০, ১৪ ইত্যাদি। মূল্য সম্পর্কে তিনি জানান, গত বারের তুলনায় মূল্য বেড়েছে। বিরি-১৬, ২৬, ২৮, ২৯ প্রতি কেজি ৩৫ টাকার পরির্বতে ৫০ টাকা, ভিত্তি ৪৫ টাকার পরিবর্তে ৫৫ টাকা, সুগন্ধি ৫০ টাকার পরিবর্তে ৬৫ টাকা ও ভিত্তি সুগন্ধি ৫০ টাকার পরিবর্তে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জেলার ৩৩০ জন ডিলারের মাধ্যমে বীজ বিক্রি চলছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনাঞ্চলের সহকারী পরিচালক নিত্যরঞ্জন বিশ্বাসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী সিলেটে বন্যার কারণে বিএডিসি’র উৎপাদিত বীজের সিংহভাগ সেখানে পাঠানো হচ্ছে। তাছাড়া কোনো না কোনো কারণে সরকারি বীজের ঘাটতি থাকে। দক্ষিণাঞ্চলে চাহিদার তুলনায় সরকারি এ প্রতিষ্ঠান ১৫ শতাংশ বীজ সরবরাহ করবে। বাকী চাহিদা পূরণ হবে বিভিন্ন কোম্পানীর হাইব্রিড জাত ও কৃষকের ঘরে সংরক্ষিত বীজ দিয়ে। ব্লাস্টের আক্রমন থেকে রক্ষা করতে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

খুলনার অতিরিক্ত পরিচালক হাসান ওয়ারেসুল কবীর তথ্য দিয়েছেন, গত মৌসুমে ধান বেশি পাওয়ায় এবার তিন হাজার হেক্টর বেশি জমিতে জেলায় বোরোর আবাদ হবে। গতবার ৫২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়। ডুমুরিয়া, ফুলতলা, তেরখাদা, রূপসা, দিঘলিয়া ও পাইকগাছায় আবাদী জমির পরিমাণ বেশি।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আতিকুন নাহার জানান, ২০ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হবে। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের জন্য ৬৭ মেট্রিক টন বীজ বরাদ্দ করা হয়েছে। গেল বছর হেক্টর প্রতি ৬ মেট্রিক ধান উৎপাদন হওয়ায় লাভের আশায় কৃষকরা এবার আবাদে ঝুকেছে। এখানে বিরি-২৮, ৫৮ ও ৬৭ জাতের চাহিদা বেশি।

পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, ১৯ জন ডিলারের জন্য ৩৮ মেট্রিক টন বীজ বরাদ্দ করা হয়েছে। এ উপজেলার কপিলমুনি, হরিঢালী, রাড়–লি, গদাইপুর ও চাঁদখালী ইউনিয়নে ২৮শ’ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হবে বলে তিনি আশাবাদী।

এদিকে বাজারে বেসরকারী বিভিন্ন কোম্পানীর বীজের দাম বেড়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে হিরা (এক কেজি) ২২০ টাকা থেকে বেড়ে ২৮০ টাকা হয়েছে, তেজ (এক কেজি) ২৪৫ টাকা থেকে ২৮০ টাকা, ভিত্তি (২৮) দুই কেজীর প্যাকেট ১১০ টাকা থেকে ১৭০ টাকা ও মল্লিকা সীড (চিকন) এক কেজি ৩১০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫০ টাকায় উন্নীত হয়েছে।

পাইকগাছা উপজেলার মালোত গ্রামের চাষী মোশাররফ হোসেন জানান, তিন বিঘা জমিতে এ মৌসুমে আবাদ করবেন তিনি। তার আগ্রহ বিআর-২৮ জাতের উপর। তবে সরকার চাহিদামতো বীজ সরবরাহ না করায় এবার বিভিন্ন কোম্পানীর উপর নির্ভও করতে হবে। ফলে ধান আবাদে ব্যয় বাড়বে।

পাশ্ববর্তী বারুইডাঙ্গা,প্রতাপকাটি, শ্রীমানপুর, ভৈরবঘাটা ও কাজী মুসা গ্রামের চাষীরা হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন সরকারী যোগান কমে গেলে কোম্পানীর উপর নির্ভর করতে হয়। তারাও সুযোগ নিয়ে ইচ্ছেমতো দাম বাড়ায়। ফলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা বলেন এবার উৎপাদন খরচ অনেক বাড়বে।

এক্সক্লুসিভ

সাক্ষাৎকার

আইন-আদালত

শিল্প-সাহিত্য

ভ্রমণ

ফিচার

পরিবেশ

আবহাওয়া

রাশিফল


Ad Space