আগামী নির্বাচন হবে সহায়ক সরকারের অধীনে :দুদু


নভেম্বর ১১ ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার: আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে জানিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, সেই নির্বাচনে ধানের শীষের জয় হবে এবং প্রধানমন্ত্রী হবেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তবে সেই নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনে হবে না। নির্বাচন হবে তত্ত্বাবধায়ক অথবা সহায়ক সরকারের অধীনে।

তিনি জনে জনে জনতার ঐক্য গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে বলেন, রবিবার ঢাকায় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত মহাসমাবেশ থেকে বেগম খালেদা জিয়া সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেবেন। সেই নির্দেশনা নিয়ে আমাদেরকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে হবে। আওয়ামী লীগকে আঙ্গুল উচিয়ে চোখ রাঙ্গিয়ে হুমকি দিয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়ে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে দেশনেত্রী বেগম জিয়া আন্দোলন কাকে বলে দেখিয়ে দিয়েছিলেন।

মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে খুলনা মহানগর বিএনপির আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।  শনিবার (১১নভেম্বর) নগরীর কে ডি ঘোষ রোডে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে শামসুজ্জামান দুদু আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতি ও মিথ্যাচারের অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে শেখ মুজিবের সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে ৪০ হাজার বিরোধী দলীয় নেতাকর্মী হত্যা করা হয়েছিল। শাসক দলের দুর্নীতির কারণে দূর্ভিক্ষ সৃষ্টি হয়েছিল। মানুষ ভাতের ফ্যান ভিক্ষা করেছে। কাপড়ের অভাবে নারীরা ঘরে লুকিয়ে থাকতো। ৭৫ এর ২৫ জানুয়ারী চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে মানুষের রাজনীতির অধিকার কেড়ে নিয়ে আওয়ামী লীগকে কবরে পাঠিয়ে বাকশাল কায়েম করেছিলেন। তারা সামরিক শাসনকে গালিগালাজ করলেও দেশে সামরিক শাসন কায়েম করেছিলেন শেখ মুজিবের ৪০ বছরের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা খন্দকার মোস্তাক। মোস্তাকের মন্ত্রীসভার ৪০ মন্ত্রীর ৩৯ জনই ছিলেন মুজিব সরকারের। মুজিব পাক বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন, আর জিয়া মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাই কেবল দেননি, রণাঙ্গণে যুদ্ধ করেছেন। তিনি আওয়ামী লীগকে কবর থেকে তুলে এনে রাজনীতির মাঠে নামিয়েছিলেন। দুদু বলেন, সংবিধানে যতোগুলো খারাপ ধারা এসেছে, সবগুলো সংযোজন করেছে শেখ মুজিব অথবা শেখ হাসিনা।

ব্যাংকিং সেক্টর, শেয়ার বাজার সহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে আওয়ামী লুটপাটের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, তাদের হাতে এতো টাকা। এরপরও তারা ভোট করতে ভয় পায়। তাদের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঠিক ভাবে চলেন। ভোট হলে সব ভোট ধানের শীষে পড়বে। আন্দোলনের নামে সহিংসতা, মানুষ পোড়ানো, সচিবসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের লাঞ্ছিত করার ইতিহাস আওয়ামী লীগের বলে দাবি করেন তিনি।

জনসভার প্রধান বক্তা বিএনপির নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, সরকারের চাপের মুখে অবশেষে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। আমার যার কাছে ন্যায় বিচার চাইবো, তিনি নিজেই নিরাপদ নন। এর আগে সরকার রাজনীতি করার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। প্রশাসনকে চরমভাবে দলীয়করণ করেছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে নিজস্ব পেটোয়া বাহিনীতে পরিণত করেছে। ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য সর্বশেষ আশ্রয়স্থল ছিল বিচার বিভাগ। এর আগে প্রধান বিচারপতি নি¤œ আদালত সম্পর্কে বলেছিলেন, স্বাধীনভাবে রায় দেয়ার ক্ষমতা বিচারপতিদেও নেই। এখন সরকার উচ্চ আদালতকেও নিয়ন্ত্রণ করবে। মামলার রায় হবে সরকারের ইচ্ছায়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মামলায় সাজা দিয়ে, বিএনপির সিনিয়র নেতাদের জেলে পাঠিয়ে নির্বাচনে অযোগ্য করে একদলীয় নির্বাচনের পায়তারা করছে। তাদের এই ইচ্ছা দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে বলে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন তিনি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু সভায় সভাপতিত্ব করেন। সম্মানিত অতিথির বক্তৃতা করেন বর্ষিয়ান জননেতা ভাষা সৈনিক ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাই। অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু ও আসাদুজ্জামান মুরাদের পরিচালনায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন কেসিসির মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, নগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সাবেক এমপি কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, খানজাহান আলী থানা বিএনপির সভাপতি মীর কায়সেদ আলী, দৌলতপুর থানা বিএনপির সভাপতি শেখ মোশারফ হোসেন, নগর বিএনপির উপদেষ্টা জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, সিরাজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুল আলম, খালিশপুর থানা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. ফজলে হালিম লিটন, নগর বিএনপির প্রথম যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, যুবদলের সাবেক সভাপতি শফিকুল আলম তুহিন, নগর মহিলা দলের সভাপতি রেহানা আক্তার, নগর যুবদলের সভাপতি মাহবুব হাসান পিয়ারু, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি আজিজুল হাসান দুলু, শ্রমিক দল নগর সাধারণ সম্পাদক মুজিবর রহমান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. গোলাম মওলা, যুবদল নেতা জি এম রফিকুল হাসান, ছাত্রদল নগর সভাপতি শরিফুল ইসলাম বাবু, মৎস্যজীবী দলের নগর সাধারণ সম্পাদক সাইমুন ইসলাম রাজ্জাক। জনসভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন ওলামা দল নেতা মাওলানা শফিকুল ইসলাম।

এদিকে জনসভাকে কেন্দ্র করে খুলনা মহানগরী ও সংলগ্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের মাঝে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। বিকেল ৩ টার আগে থেকেই বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও ইউনিট থেকে মিছিল নিয়ে আসে নেতাকর্মীরা। ব্যান্ডের তালে তালে নানা শ্লোগান ও করতালি দিয়ে তারা নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশস্থলে পৌছে। এ সব মিছিলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের বিশালাকৃতির পোট্রেট বহন করা হয়। নির্ধারিত সময়ের বহু আগেই সমাবেশস্থল কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এরপর আশেপাশের রাস্তায়ও নেতাকর্মীরা ছড়িয়ে পড়লে এ সমস্ত রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কর্মসুচিতে অংশ নেয়া মিছিলকে রাস্তার দুপাশে দাড়িয়ে থাকা জনগন ও পথচারীরা করতালি দিয়ে স্বাগত জানান।

এক্সক্লুসিভ

সাক্ষাৎকার

আইন-আদালত

শিল্প-সাহিত্য

ভ্রমণ

ফিচার

পরিবেশ

আবহাওয়া

রাশিফল


Ad Space