ব্লাস্ট রোগে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সরকারি সহায়তার আহবান


এপ্রিল ১০ ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার :  সোমবার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ প্রশাসন ভবনের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বোরো ধানের ব্লাস্ট রোগের কারণ ও প্রতিকার’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ বশীর আহমেদ।

পাওয়ার পয়েন্টে ব্লাস্ট রোগের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন ডিসিপ্লিনের শিক্ষক উদ্ভিদ রোগতত্ত্ববিদ প্রফসের মোঃ রেজাউল ইসলাম। ব্লাস্ট রোগ সম্পর্কে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. সঞ্জয় কুমার অধিকারী, ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ বশীর আহমেদ এবং প্রফসের মোঃ রেজাউল ইসলাম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার(ভারপ্রাপ্ত) ও সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের শিক্ষক প্রফেসর ড. সরদার শফিকুল ইসলাম, প্রফেসর ড. মোঃ ইয়াছিন আলী, প্রফেসর ড. মোঃ মনিরুল ইসলাম, প্রফেসর ড. মাহতালাত আহমেদ, প্রফেসর ড. শামীম আহমেদ কামাল উদ্দিন খান, মোসা. সাবিহা সুলতানাসহ সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের শিক্ষক ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে ব্লাস্ট রোগের কারণ সম্পর্কে বলা হয় একধরনের ছত্রাক পাইরিকুলারিয়া অরাইজী এর কারণে রোগ বীজ,বাতাস ও পোকার বাহনে এবং বিশেষ করে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বোরো ধানের ব্লাস্ট রোগ দ্রুত বিস্তার ঘটে। এবারই ব্যাপকভাবে এ রোগের হঠাৎ করে বিস্তার ঘটায় প্রথম দিকে কৃষক বুঝে উঠতে পারেনি। তারা ভেবেছিলো কোনো পোকার আক্রমন। কিন্তু কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনের ফলে এ রোগ সনাক্ত হয় এবং দ্রুত হস্তক্ষেপে অনেকটা কাজ হয়েছে। তারা যে সমস্ত ছত্রাকনাশক ওষুধের পরামার্শ দিয়েছে তা নিয়মমাফিক ব্যবহারের ফলে অনেক কৃষক উপকার পেয়েছেন। তবে কৃষকরা এ ব্যাপারে একটু গড়িমসি করায় ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় ব্রিধান ৬১ থেকেই রোগের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এ জাতটি প্রত্যাহার অথবা আরও পরীক্ষা নিরীক্ষা করে চাষ করার পরামার্শ দেয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সরকারিভাবে সহায়তাদানেরও  আহবান করা হয় সাংবাদিক সম্মেলন থেকে। এছাড়া আশংকা করা হয় ভবিষ্যতেও এ রোগ দেখা দিতে পারে। এজন্য কৃষকদের মাঝে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য গণমাধ্যমের সহায়তায় ব্যাপক প্রচারেরও প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়। এ লক্ষ্যে আরও যে সমস্ত পরামর্শ দেয়া হয় তা হলো: ১. কৃষকদের সময়মত রোগের অনুকূল আবহাওয়া সম্পর্কে অবহিত করানোর ব্যবস্থা করা; ২. কৃষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা; ৩. উপজেলা এবং তৃণমূল পর্যায়ে আরো বেশি কৃষিবিদ ও ডিপ্লোমা কৃষিবিদ নিয়োগের ব্যবস্থা করারও আহবান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে রোগাগ্রস্থ মাঠে করণীয় সম্পর্কে বলা হয়, ১. বীজতলা অথবা মাঠে রোগ দেখা মাত্র জমিতে পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষণ করা।  ২. আক্রান্ত জমিতে হেক্টর প্রতি ৮০০ মিলি লিটার (বিঘা প্রতি ১০০ মিলি লিটার) হিনোসান অথবা হেক্টর প্রতি ২.৫ কেজি (বিঘা প্রতি ৩০০ গ্রাম) বেনলেট বা টপসিন এম স্প্রে করা।

রোগাক্রান্তের আগে করণীয় সম্পর্কে বলা হয়, ১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন জাত লাগানো-বোরো মৌসুমে বিআর৩, বিআর১৪, বিআর১৬ ও ব্রি ধান৪৫, আউশ মৌসুমে বিআর৩, বিআর১৫, বিআর২০, বিআর২১, ব্রি ধান৪৩; আমন মৌসুমে বিআর৫, বিআর১০, ব্রি ধান৩২, ব্রি ধান৩৩, ব্রি ধান৪৪ লাগানো। ২. সুস্থ বীজের ব্যবহার- সুস্থ্য গাছ হতে বীজ সংগ্রহ করা এবং দাগী বা অপুষ্ট বীজ বেছে ফেলে দিয়ে সুস্থ বীজ লাগানো; ৩. পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা-আক্রান্ত জমির খড়কুটা পুড়িয়ে ফেলা এবং ছাঁই জমিতে মিশিয়ে দেওয়া। ৪. বিষ শোধন- থায়োফানেট মিথাইল নামক কার্যকরী উপাদান বিশিষ্ট ছত্রাকনাশস ১ লিটার পানিতে ৩ গ্রাম মিশিয়ে ১০-১২ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখলে বীজ শোধিত হয়। এই শোধিত বীজ লাগালে বীজতলায় চারা অবস্থায় পাতা ব্লাস্ট কম হবে। ৫. সুষম সার প্রয়োগ- সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার করা এবং আক্রান্ত জমিতে ইউরিয়া সারের উপরি প্রয়াগ বন্ধ রাখা। পটাশিয়মের অভাবযুক্ত সমিতে পর্যাপ্ত পটাশ সার অথবা আমাদের দেশের কৃষকের প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী ছাই ব্যবহার করা। রোগের প্রাথমিক অবস্থায় বিঘা প্রতি ৫ কেজি পটাশ সার উপরিপ্রয়োগ করা।

ব্লাস্ট রোগের আক্রমনের অনুকূল অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়,১. ধান আক্রমনপ্রবণ জাতের হলে;

২. মাটি বেলে জাতীয় ও শুকনো হলে; ৩. মাটিতে পটাশ সার কম ও ইউরিয়া সার (নাইট্রোজেন) বেশি হলে; এবং ৪. আবহাওয়া রোগের অনুকূলে হলে অর্থাৎ রাতে ঠান্ডা, দিনে গরম ও সকালে পাতায় শিশির পড়লে।

এ ধরনের একটি জনগুরুত্বপুর্ণ বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করায় সাংবাকিদরে পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনের সবাইকে ধন্যবাদ জানানো হয়। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

এক্সক্লুসিভ

সাক্ষাৎকার

আইন-আদালত

শিল্প-সাহিত্য

ভ্রমণ

ফিচার

পরিবেশ

আবহাওয়া

রাশিফল


Ad Space