বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ♦ ৩ আশ্বিন ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

লাভজনক পদে থাকতে পারবেন না উদ্যোক্তারা

এসবিনিউজ ডেস্ক: ধানমন্ডিতে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের (বিওটি) সদস্য লাভজনক পদ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বিওটি চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করছেন ট্রেজারার হিসেবে এবং অপর একজন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হিসেবে।

উত্তরায় অবস্থিত একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের একজন সদস্য আছেন উপাচার্য হিসাবে আর চেয়ারম্যান একটি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বনানীর একটি নামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের একাধিক সদস্য একই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এসব পদে থেকে বিওটির সদস্যরা বিভিন্ন অঙ্কের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বলছে, এভাবে বিওটির সদস্যদের লাভজনক পদে থাকা অবৈধ। এ ক্ষেত্রে ইউজিসি ট্রাস্ট আইনের উল্লেখ করা হয়। বিওটির সদস্যরা যাতে লাভজনক পদে না থাকে সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইতিমধ্যে নির্দেশনামূলক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হলেও বিওটির সদস্যরা বিভিন্ন পদে থেকে লাভবান হচ্ছেন। বিওটির সদস্যরা বিভিন্ন সভায় উপস্থিত থেকে আর্থিক সুবিধা নেন। এ সুবিধার অঙ্ক খুবই কম। তাই বেশি সুবিধা লাভের জন্য তারা ভিসি, প্রো-ভিসি, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, পরিচালক, শিক্ষকের মতো বেতনভুক্ত চাকরি করছেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী উদ্যোক্তারা ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করেন। ট্রাস্টি আইনের আলোকে এই ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। এই ট্রাস্ট আইনেই বলা আছে, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যরা কোনো লাভজনক পদে থাকতে পারবে না।

ইউজিসি কর্মকর্তারা বলছেন, কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি, প্রো-ভিসি বা ট্রেজারার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নানা কূটকৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়। ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা এই পদে নিয়োগ পেতে বা নিয়োগ বিলম্ব করতে নিয়োগের প্রস্তাবনায় ভুল তথ্য দেয়। নিয়ম অনুযায়ী, ভিসি, প্রো-ভিসি বা ট্রোজারার—এই গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদন প্রয়োজন। রাষ্ট্রপতির কাছে ওই পদের জন্য যোগ্য তিনজন প্রার্থীর নাম পাঠাতে হয়। রাষ্ট্রপতি এর মধ্যে থেকে একজনকে ওই পদে নিয়োগ দেন। ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার পদে নিয়োগের জন্য একজন যোগ্য বাকি দুজন ‘অযোগ্য’ প্রার্থীর নাম ইউজিসিতে প্রস্তাব পাঠায় ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান। বা এমন তিন জন ব্যক্তির নাম পাঠানো হয় যার তিন জনই অযোগ্য। কোনো প্রার্থী নিয়োগের অযোগ্য হলেই ফাইল ফেরত পাঠানো হয়, যাতে নিয়োগপ্রক্রিয়া বিলম্ব হয়। এছাড়া আরো অনিয়ম করে থাকেন উদ্যোক্তারা। এই গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে নিয়োগের জন্য ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের নাম প্রস্তাব করা হয়। সম্প্রতি এ লক্ষ্যে নতুন নির্দেশনা জারি করে ইউজিসি। ইউজিসি, ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার পদে নিয়োগের জন্য ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য নন এমন তিন জন যোগ্য প্রার্থীর নাম প্রস্তাব আকারে পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে লাভজনক পদে না থাকারও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন বলেন, এ ধরনের চিঠি আমরা পাঠিয়েছি। ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ নেই।

দেশে বর্তমানে ১০৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এর আলোকে পরিচালিত হচ্ছে।

Related posts