বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ ♦ ২৮ অগ্রহায়ন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ♦ 5 রবিউস-সানি ১৪৪০ হিজরী

Select your Top Menu from wp menus

রাখাইনে পৃথকই থাকছে রোহিঙ্গারা

এসবিনিউজ ডেস্ক: রাখাইন রাজ্যে গত বছর সহিংসতার সময় রোহিঙ্গাদের জন্য সাময়িক আশ্রয় শিবির বন্ধ করে দীর্ঘমেয়াদের জন্য নতুন শিবির নির্মাণ করছে মিয়ানমার সরকার। তবে নতুন শিবির নির্মাণ করা হলেও সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্নই রাখা হচ্ছে রোহিঙ্গাদের। বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের ওপর বিশ্বের যখন নজর ছিল ঠিক সেই সময় রাখাইনের আশ্রয় শিবির থেকে অবৈধভাবে সাগর পাড়ি দিয়ে দেশ ছেড়েছে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা। জীবন বাজি রেখে তাদের এই দেশত্যাগের প্রচেষ্টা এটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে রাখাইনে শিবিরে থাকা ১ লাখ ২৮ হাজার রোহিঙ্গা ও বাস্তুচ্যুত সংখ্যালঘু মুসলমানদের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

রাখাইনে থাকা ১৮টি আশ্রয় শিবিরের মধ্যে একটি মধ্য রাখাইনের মেইবন শহরে অবস্থিত।  ২০১২ সালে এ শহরে বৌদ্ধ চরমপন্থিদের সঙ্গে রোহিঙ্গা মুসলমানদের সাম্প্রদায়িক সংঘাত বেধেছিল। প্রায় তিন হাজার মুসলিম পরিবারকে তাদের আবাসস্থল থেকে উচ্ছেদ করে টাউংপ শিবিরে নিয়ে আসা হয়। মেইবন শহরটি এখন কেবল বৌদ্ধ অধ্যুষিত একটি শহরে পরিণত হয়েছে।

চলতি বছর সরকার আশ্রয় শিবিরের কাছে ধান ক্ষেতে ২০০ নতুন বাড়ি নির্মাণ করেছে। বন্যার পানিতে এই ক্ষেতগুলো তলিয়ে যায় জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও সরকার তা কানে তোলেনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স পাঁচটি শিবিরের ১২ জনেরও বেশি বাসিন্দার সাক্ষাৎকার নিয়েছে। সাক্ষাৎকার ও জাতিসংঘের নথিতে দেখা গেছে, আশ্রয় শিবিরের কাছেই নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে যে এলাকা থেকে তারা পালিয়ে এসেছে সেই এলাকায় তাদের ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাদের বেঁচে থাকার অবস্থার পরিবর্তন খুব সামান্যই হয়েছে।

রাখাইনের নিদিন শিবিরের নেতা কিয়াও আয়ে টেলিফোনে রয়টার্সকে বলেছেন, ‘হ্যা, আমরা নতুন বাড়িতে উঠেছি-এটা সত্য। তবে আমরা কখনো নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারব না, কারণ আমরা কোথাও যেতে পারি না।’

বাংলাদেশে তরুণ রোহিঙ্গা কর্মী খিন মাউং বলেস, ‘তারা যদি নৌকায় করে যাওয়া বেছে নেয়, তাহলে এটা আইডিপি (অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত জনগণ) শিবিরের অবস্থার সুস্পষ্ট প্রমাণ।’

Related posts