শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯ ♦ ৭ বৈশাখ ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

যদি রাত পোহালে শোনা যেত, বঙ্গবন্ধু মরে নাই

।।ডাঃ মুহাম্মদ আলী মানিক।।

যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই, এই গানের কলিটি যতই শুনতাম ততই স্মৃতি কাতর হয়ে ভাবতাম বঙ্গবন্ধু যদি সত্যিই বেঁচে থাকতেন, তা হলে এ দেশে বিএনপির জন্ম হতোনা, জামায়াত পুনর্বাসিত হতোনা ! সেই সাথে বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করে কোনো কিছু লেখা বা বলার সাহস কারো থাকতোনা আর আমাদের মহান স্বাধীনতার ইতিহাসের বিকৃতিও কেউ করতোনা !
আমার সে স্বপ্ন আজ বাস্তবায়নের পথে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতকে বাংলার মুক্তিকামী মানুষ ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করেছে। ধীরে ধীরে দেশ আজ স্বাধীনতাবিরোধী মুক্ত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছর পর বিএনপি-জামায়াতকে মোমবাতি দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবেনা।
আজ বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তার সুযোগ্য কন্যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফিরে এসেছে , উন্নয়নের জোয়ারে দেশ ভাসছে, মানুষের মাথা পিছু আয় বিএনপি আমলের চেয়ে তিনগুন বেরে গেছে, যেখানে বিএনপির আমলে ৩০% লোক বিদ্যুৎ পেতো, সেখানে এই সরকারের আমলে ৯০% লোক তা পাচ্ছে ! আজ মাত্র ২০% লোক দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে ! ডিজিটাল বাংলাদেশের কল্যানে আজ মানুষ ঘরে বসে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ব্যাঙ্কের টাকা লেনদেন করছে, পরীক্ষার রেজাল্ট জানতে পারছে অর্থ্যাৎ তথ্য সেবা আজ মানুষের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। সারা বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার জাদুর স্পর্শে বদলে গেছে পুরো দেশ, গ্রামগুলো ধীরে ধীরে শহরে পরিণত হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা, বলিষ্ঠতার জন্য দেশে বিদেশে তিনি আজ সমাদৃত।
‘৭০ এর নির্বাচন আমার সচক্ষে দেখার সুযোগ হয়েছিল। সেই সময় বয়স ছিল তেরো , বাড়ির পাশেই বঙ্গবন্ধুর বাসা হওয়াতে বঙ্গবন্ধুর নির্বাচনী প্রচার এখনো চোখের সামনে জ্বল জ্বল করে ভাসছে। মনে পড়ছে রাতের বেলায় কাঁঠালবাগানের আম বাগানে শিল্পপতি জহিরউদ্দিন খানের সেই নির্বাচনী সভার কথা। বড় বড় হ্যাজাক বাতি জ্বালিয়ে আলোকিত মাঠে বঙ্গবন্ধুর দরাজকন্ঠের ভাষণ কয়েক হাজার মানুষকে উদ্বেলিত করেছিল সেই রাতে। এভাবেই টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় ঝড়ের গতিতে নির্বাচনী প্রচার করে বঙ্গবন্ধু নৌকার পক্ষে এমন জোয়ার এনেছিলেন যে জাতীয় পরিষদের ১৬৯ এর মধ্যে ১৬৭ টি আসন পেয়েছিলো আওয়ামী লীগ আর প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০ আসনের মধ্যে পেয়েছিলো ২৮৮ টি। বঙ্গবন্ধুর ডাকে ছাত্র-শিক্ষক, কৃষক-শ্রমিক, শিল্পী-কলাকুশলী-খেলোয়াড় সবাই এক হয়েছিল সেই নির্বাচনে।
সদ্য সমাপ্ত এবারের নির্বাচনেও ‘৭০ এর সেই দৃশ্য ভেসে এসেছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সব পেশার মানুষ এবার নৌকার প্রচারে নেমেছিল, নৌকার পক্ষে এমন জোয়ার ‘৭০ এর পর আর দেখা যায়নি। তাই ফলাফল ও হয়েছে ‘৭০ এর মতো। জননেত্রী শেখ হাসিনা এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করেছেন।
তাই বলছিলাম বঙ্গবন্ধু মরে নাই, মৃত বঙ্গবন্ধু জীবিত বঙ্গবন্ধুর চেয়ে শক্তিশালী। জননেত্রী শেখ হাসিনাই বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি। তার হাতেই মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ সবচেয়ে নিরাপদ, তিনিই আমাদের শেষ ভরসা।
লেখক : সহ -সভাপতি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ।

Related posts