বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ ♦ ৫ আষাঢ় ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন

এসবিনিউজ ডেস্ক: মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধভাবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয়ে বাঙালি জাতি রোববার বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ বরণ করেছে।
বাঙালীর সার্বজনীন প্রাণের উৎসব নববর্ষকে বরণের মধ্য দিয়ে জাতি জীর্ণ-পুরাতনকে পেছনে ফেলে সম্ভাবনার নতুন বছরে প্রবেশ করলো। রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপি বর্ণিল উৎসবে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হয়েছে।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে দেশবাসীসহ সমগ্র বাঙালিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বাঙালির আত্মপরিচয়ের তালাশ আহবানে রমনার বটমূলে ছায়ানট ১৪২৬ বঙ্গাব্দ বরণ করে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে বাঁশিতে রাগ আহীর ভাঁয়রো পরিবেশনার মধ্য দিয়ে রমনা বটমূলে শুরু হয় ছায়ানটের প্রভাতী আয়োজন।
একক ও সম্মিলিত কন্ঠে সংগীত পরিবেশনা আর কবিতায় ছায়ানটের শিল্পীরা স্বাগত জানান পহেলা বৈশাখকে। নানান রঙের পোশাকে এ সময় রমনার বটমূলে শতাধিক শিল্পী তাদের সুর-ছন্দ আর তাল-লয়ে বৈশাখের বন্দনা করে স্বাগত জানান নতুন বছর ১৪২৬-কে। তাদের সে আয়োজনে ছিলো বৈশাখের মগ্নতা, হৃদয়ে নতুনকে কাছে পাওয়ার তৃষ্ণা।
বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে দল এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।
জাতীয় সংসদের উপনেতা এবং দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এইচ টি ইমাম, আমির হোসেন আমু এবং তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং এডভোকেট সাহারা খাতুন অন্যান্যের মধ্যে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর কন্যা এবং বিশ্ব অটিজম আন্দোলনের অগ্রপথিক সায়মা ওয়াজেদ হোসেন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থল গণভবনের ব্যাংকোয়েট হলে প্রবেশ করলে আওয়ামী লীগ এবং দলের সহযোগী সংগঠনের শিল্পীবৃন্দ বিখ্যাত রবীন্দ্র সঙ্গীত এবং বর্ষবরণের গান ‘এসো হে বৈশাখ’ এবং ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’ পরিবেশন করেন।
পরে, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ এবং সভাপতিমন্ডলীসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে অতিথিদের বিভিন্ন বাঙ্গালি খাবার যেমন- মোয়া, মুড়কি, মুরলি, কদমা, এবং জিলেপি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।
বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণ থেকে বাংলা নববর্ষের বর্ণিল আকর্ষণ ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।
উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি শাহবাগ মোড় হয়ে টিএসসি ঘুরে চারুকলায় এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় অনেক বিদেশি অতিথিও উপস্থিত ছিলেন।
শোভাযাত্রায় আবহমান বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রতীকী উপস্থাপনের জন্য নানা বিষয় স্থান পায়।
মঙ্গল শোভাযাত্রায় নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকলেও তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের কাছে হার মানে সবকিছুই। ঢাক-ঢোলের বাদ্য আর তালে তালে তরুণ-তরুণীদের নৃত্য, হৈ-হুল্লোড় আর আনন্দ-উল্লাস মাতিয়ে রেখেছিল পুরো শোভাযাত্রা।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে হওয়া এ মঙ্গল শোভাযাত্রা।
কেবল দেশের বড় শহরগুলোতেই নয়- এবারের বর্ষবরণ দেশের উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
সকল বিভাগীয় শহর, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, উপজেলা শহর ও নদীবন্দর এলাকায় শোভাযাত্রার মধ্যদিয়ে বাংলা নববর্ষ বরণ উৎসব উদযাপিত হয়।
বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনসমূহ এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে। অভিজাত হোটেল ও ক্লাব বিশেষ অনুষ্ঠানমালা ও ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের আয়োজন করা হয়।
এ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি সকালে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বৈশাখী মেলার আয়োজন করে একাডেমি।
জাতীয় প্রেসক্লাব বর্ষবরণে তাদের সদস্য ও পরিবারবর্গের জন্য সকাল থেকে খৈ, মুড়ি-মুড়কি, বাতাসা ও বাঙালি খাবারের আয়োজনসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিও (ডিআরইউ) তাদের সদস্য ও পরিবারের সদস্যদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিশেষ খাবারের আয়োজন করে।
উল্লেখ্য, কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য বাংলা সন গণনার শুরু মোঘল সম্রাট আকবরের সময়ে। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌর সনের ওপর ভিত্তি করে প্রবর্তিত হয় নতুন এই বাংলা সন।
১৫৫৬ সালে কার্যকর হওয়া বাংলা সন প্রথমদিকে পরিচিত ছিল ফসলি সন নামে, পরে তা পরিচিত হয় বঙ্গাব্দ নামে। কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে বাংলাবর্ষের ইতিহাস জড়িয়ে থাকলেও এর সঙ্গে রাজনৈতিক ইতিহাসেরও সংযোগ ঘটেছে।

Related posts