বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ ♦ ২৮ অগ্রহায়ন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ♦ 5 রবিউস-সানি ১৪৪০ হিজরী

Select your Top Menu from wp menus

মমতার নিষেধাজ্ঞা

এসবিনিউজ ডেস্ক: এবার সিবিআইকে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  এখন থেকে পশ্চিমবঙ্গে স্বাধীনভাবে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই কোনো মামলার তদন্ত করতে পারবে না।

দুদিন আগে অন্ধপ্রদেশ রাজ্য সরকার সরকারি বিজ্ঞপ্তি জানিয়ে বিনা অনুমতিতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইকে রাজ্যে প্রবেশে নিষেধজ্ঞা আরোপ করে।

ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার আগের একটি আইনের সংশোধন করে জানায়, এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে সিবিআইয়ের গোয়েন্দারা অভিযানের আগে রাজ্যের আগাম অনুমতি নিতে হবে।

ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেইশন ইতিমধ্যে পশ্চিমবেঙ্গর আলোচিত সারদা, নারদা ও রোজভ্যালিসহ বেশ কিছু চিটফান্ড কান্ডের তদন্ত চালাচ্ছে। ওই কান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও নেতা।  যদিও সেই মামলার তদন্ত করছে সিবিআইয়ে দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশে। তাই এ ক্ষেত্রে সরকারের কোনো আপত্তি গ্রাহ্য হবে না।

 

সরকারি সূত্রের খবর, ১৯৮৯ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার এক নির্দেশনায় সিবিআইকে রাজ্যে প্রবেশের সাধারণ সম্মতি দিয়েছিল। বামফ্রন্ট সরকারের সেই সাধারণ সম্পতি শুক্রবার(১৬ নভেম্বর) বাতিল করে মমতা সরকার।

এদিকে, তৃণমূল সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আইনপরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন বিজেপির শীর্ষ নেতা রাহুল সিনহা। একইভাবে সমালোচনা করেন বামফ্রন্ট নেতা সুজন চক্রবর্তী।

বিজেপি নেতা রাহুল সিন্হা বলেন, ‘চন্দ্রবাবুকে অনুসরণ করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এই রাজ্যে এটা চলবে না। সিবিআইকে আটকানো যাবে না।’

তার ভাষায়, তৃণমূল নেতাদের জেলে যাওয়ার সময় হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিজেপির ওই শীর্ষ নেতা। তারা একের পর ঘোটালা করে যাচ্ছে আর আইন তাদের ছেড়ে দেবে, সেটা হবে না। আইন আইনের পথে চলবে।’

বাম নেতা সুজন চক্রবর্তীও বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপধ্যায় এক সময় হাসপাতালে কুকুর ঢুকল কেন তার তদন্তের জন্য সিবিআইকে ডাকার দাবি জানাতেন। আজ তিনি রাজ্যে সিবিআইয়ের ঢুকতে না দেওয়ার নোটিশ করেছেন। গোটা বিষয়টিই হাস্যকর।’

শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) নেতাজি ইনডোরে দলীয় একসভায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিবিআই নিয়ে মন্তব্য করেন।

মমতা বলেন, চন্দ্রবাবু সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমিও সিবিআইকে ঢুকতে দেবো না রাজ্যে।

১৯৪৬ সালের দিল্লি পুলিশ অ্যাশস্টাব্লিমেন্ট অ্যাক্টে সংযোজিত ধারা অনুযায়ী রাজ্যে কোনো তদন্তের জন্য সিবিআইকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের অনুমতি নিতে হয়।

১৯৮৯ সালে বাম জামানায় সাধারণ সম্মতি দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রীয সংস্থাগুলো নিজের মতো তদন্ত করতে পারতো রাজ্যে। তাদের আর তদন্তের আগাম অনুমতি নিতে হতো না।

তবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের নতুন নিয়মে এখন থেকে সিবিআইকে রাজ্য সরকারের কাছে তদন্তের জন্য আগামী অনুমতি নিতেই হবে।

Related posts