বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ♦ ৩ আশ্বিন ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

মধুর সম্পর্কের পাশাপাশি ঝগড়াও হতো : কবরী

সারাহ বেগম কবরী : রাজ্জাক সাহেবের সঙ্গে যখন আমার প্রথম দেখা তখন আমি কিছুই ফিল করিনি। তখন রাজ্জাক সাহেব ওতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি। আমিও জনপ্রিয় হয়ে উঠিনি। রাজ্জাক সাহেব আগে থেকেই সিনেমায় কাজ করে আসছেন আর আমি ‘সুতরাং’ সিনেমার কাজ শেষ করেছি।

গাজী মাজহারুল আনোয়ার ‘যোগাযোগ’ নামের একটি সিনেমা নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। তার বাসায় আমাকেও ডেকেছেন আর রাজ্জাক সাহেবকেও। সেদিনই আমাদের প্রথম সামনা-সামনি কথা হয়। শেষ পর্যন্ত ওই সিনেমাটি আর নির্মাণ হয়নি। এর পরে ‘ময়নামতি’ সিনেমার কাজের সময় আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে। একে অপরের কাছ থেকে শিখেছি। আমরা নিজেদের মধ্য ভাবের আদান-প্রদান করেছি। বিভিন্ন বিষয়ে কথাবার্তা এক্সচেঞ্জ করেছি। সিনেমার চরিত্র নিয়ে কথা বলেছি। সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে আমাদের বন্ধুত্ব হয়েছে। বিষয়টি এমন না যে, উনার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমার প্রেম হয়ে গেল। বরং কাজ করতে গিয়ে দুজনের মধ্যে দারুণ বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে। দুজনই পেশাদারিত্বের সঙ্গে, ভক্তির সঙ্গে কাজ করেছি আমরা। এভাবেই অভিনেতা-অভিনেত্রী, বন্ধু হিসেবে ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত একসঙ্গে কাজ করেছি। এর মধ্যে কত কথা হয়েছে। এর মধ্যে ভালোবাসা তৈরি হতেই পারে। আমরা শুধু জুটি হিসেবে সফল হয়েছি তা নয়, আমরা পেশাদার শিল্পী হিসেবেও স্বাক্ষর রাখতে পেরেছি।

আমাদের মধ্যে মধুর সর্ম্পকের পাশাপাশি ঝগড়াও হতো। আমাদের ঘনিষ্ঠ একজন পরিচালক কামাল আহমেদ ছিলেন। উনি আমাকে ছাড়া কাউকে ভাবতে পারতেন না। একবার রাজ্জাক সাহেবের সঙ্গে এমন কঠিন ঝগড়া হয়েছে যে, আমরা একসঙ্গে আর কাজ করবো না। কামাল ভাই একটা স্ক্রিপ রেডি করলো। আমাকে যখন বললো ‘অধিকার’ সিনেমার কাজের জন্য, আমি কামাল ভাইকে বলে দিয়েছি- কামাল ভাই আমিতো রাজ্জাক সাহেবের সঙ্গে কাজ করবো না। রাজ্জাক সাহেবও বললো- আমিও আর করবীর সঙ্গে কাজ করবো না। সবাইতো মাথায় হাত। এর পরে আমি বললাম- আমি এই সিনেমা করতে পারি তবে রাজ্জাক সাহেবের সঙ্গে করবো না। এরপর এই সিনেমায় তিনি আমার সঙ্গে বুলবুল আহমেদকে নিলেন আর রাজ্জাক সাহেবের সঙ্গে শাবানা। আমাদের মধ্যেকার ঝগড়ার কারণেই এরকম একটা ঘটনা ঘটেছিল। তবে সিনেমাটি দারুণ হিট হয়েছিল।

আর একবার একটা ঘটনা ঘটেছিল। শুরুর দিকের সিনেমায় কবরী-রাজ্জাক নাম দেয়া হতো। হঠাৎ করে রাজ্জাক সাহেব বায়না ধরেছেন তার নাম আগে দিতে হবে। বলেন-এটা হতেই হবে তা না হলে আমি শুটিং করবো না। এটাতে আমি খুব রাগ করতে লাগলাম। আমাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে লাগলো। তবে এরকম কিছু দূরত্ব দুরন্ত আকারে বেরিয়ে এসেছে জনপ্রিয় জুটির মধ্য দিয়ে। রাজ্জাক সাহেবের সঙ্গে আমার গোপন কোনো প্রেম ছিল না। আমাদের প্রেম ছিল পর্দায়, আমাদের প্রেম হয়েছে অভিনয়ের মাধ্যমে। আমরা যখন অভিনয় করেছি তখন চোখে চোখে কথা বলতাম। আমরা বডি ল্যাঙ্গুয়েজে বলতাম। আমাদের মনে হয়েছে একজন আর একজনের জন্য তৈরি হয়েছি। আমি বলতে পারি এই বোঝাপড়াটা ঢাকাই চলচ্চিত্রে আর কখনো আসবে কি না আমার সন্দেহ। ভালোলাগা, ভালোবাসার মধ্যে একটা ছেলে একটা মেয়ে শুধু কি প্রেম করে বিয়ে করার জন্য? শুধু কি বন্ধুত্ব হয় বিয়ে করার জন্যই? আমি বলবো, না। তার থেকেও উপরের প্রেমটা হবে শারীরিক কোনো লেনাদেনার সর্ম্পক থাকবে না সেখানে। একটা মেয়ে একটা ছেলের বন্ধুত্ব অনেক বেশি প্রগাঢ় হতে পারে বলে মনে করি। কারণ এতে কোনো শর্ত নেই। রাজ্জাক সাহেবের সঙ্গে আমার কোনো শর্ত ছিল না। শুধু ছিল আমাদের পেশাদারিত্ব। এটাই আমাদের শর্ত ছিল। আমরা দুজন দুজনকে প্রশংসা করতাম। উনি না করলে জোর করে আদায় করে নিতাম। আমরা আমাদের কাজের মধ্যে কার্পণ্য করিনি বলেই আজ পর্যন্ত টিকে আছি। আমাদের জুটি প্রথাটা পেশাদারিত্ব থেকে আমাদের দূরে সরাতে পারেনি। আমাদের মধ্যে যেমন বন্ধুত্ব ছিল, তেমনি প্রতিযোগিতাও ছিল।

অনুলিখন : রাহাত সাইফুল

সূত্র: রাইজিংবিডি

 

 

 

Related posts