সোমবার, ২৭ মে ২০১৯ ♦ ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

‘ভবন নির্মাণে আমাদের কৌশলগত প্রযুক্তিগত ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা রয়েছে’

নজরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপকের প্রধান কর্মক্ষেত্র নগরায়ণ ও নগর উন্নয়নবিষয়ক গবেষণা। তার বর্ণাঢ্য ও সুবিশাল কর্মজীবনের বিচিত্র অর্জন ও অভিজ্ঞতা আমাদের সবাইকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। তিনি নগর গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও সাম্মানিক চেয়ারম্যান। তবে তার কর্মজীবন শুধু নগর গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ এমন নয়। এর বাইরেও তার বিস্তৃত জগত্ রয়েছে। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম সফল শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী, পরিবেশবিদ, শিল্পজগতের সক্রিয় ব্যক্তিত্ব এবং একজন সুলেখক। তিনি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত ন্যাশনাল অ্যাটলাস অব বাংলাদেশ শিরোনামের বইয়ের প্রধান সম্পাদক তিনি। নগর পরিকল্পনা, গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ, ভবিষ্যত্ নগরায়ণসহ নানা বিষয়ে সম্প্রতি একটি দৈনিকের সঙ্গে কথা বলেন। তা হুবহু তুলে ধরা হলো-
শুরুতে আপনার ন্যাশনাল অ্যাটলাস অব বাংলাদেশ বইটি ও এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাই।
ন্যাশনাল অ্যাটলাস অব বাংলাদেশ বা বাংলাদেশ জাতীয় অ্যাটলাস মূলত বাংলাদেশের সামগ্রিক ভৌগোলিক দেশ পরিচিতি, একটি মানচিত্র সংকলন। ইংরেজি ও বাংলা দুই ভাষায়ই প্রকাশিত হয়েছে। মুখ্য উদ্দেশ্য দেশবাংলাকে পরিপূর্ণভাবে জানা। অ্যাটলাসের প্রথম অধ্যায়টি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ভূগোলের ওপর। এতে খ্রিস্টপূর্ব প্রায় দেড় হাজার বছর থেকে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের অভ্যুদয় পর্যন্ত বিবর্তন দেখানো হয়েছে। বাকি ১৫টি অধ্যায় সমকালীন বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ভূগোল বা প্রাকৃতিক পরিবেশ, আর্থসামাজিক পরিবেশ, প্রশাসনিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিষয়ক। প্রাকৃতিক ভূগোল ও পরিবেশ পরিবর্তনশীল, এমনকি দেশের পরিসরও পরিবর্তনশীল। যেমন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের আয়তন ছিল ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৭৬ বর্গকিলোমিটার, এখন তা ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪০ বর্গকিলোমিটার। এটি সম্ভব হয়েছে মেঘনা মোহনা ও বঙ্গোপসাগরে নতুন নতুন দ্বীপ জাগার কারণে। এ পরিবর্তনকে আমরা বলব প্রাকৃতিক ভৌগোলিক পরিসরের পরিবর্তন। ভূতত্ত্ব, মৃত্তিকা, জলবায়ু, নদ-নদী ও পানিসম্পদ, খনিজ সম্পদ, বনজ সম্পদ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষিসম্পদ, কৃষি কর্মকাণ্ড, শিল্পসম্পদের পাশাপাশি বাংলাদেশের সামাজিক পরিচিত যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভাষা, জাতিগোষ্ঠী, ঐতিহ্য ইত্যাদি বিষয় অ্যাটলাসে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের কোন জেলায় কতটুকু অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে, জিডিপি কত, মানচিত্রের সাহায্যে তা দেখানো হয়েছে। সামগ্রিকভাবে পুরো দেশের পরিপ্রেক্ষিতে কখনো বিভাগভিত্তিক, কখনো জেলাভিত্তিক এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে উপজেলাভিত্তিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যেমন জনসংখ্যার বিস্তরণ, ঘনত্ব এগুলো আমরা উপজেলাভিত্তিক তুলে ধরেছি। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সম্পদের বিস্তরণগুলো জেলা অনুসারে দেখানো হয়েছে। কোন জেলায় কী ধরনের শিক্ষা ও স্বাক্ষরতার হারসহ স্কুল, কলেজ, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানবিষয়ক মানচিত্র রয়েছে। বাংলাদেশের নানামুখী আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ে বেশকিছু মানচিত্র স্থান পেয়েছে। মোট ১৬টি অধ্যায়ের সাহায্যে এ বিষয়গুলো আমরা তুলে ধরেছি। এর মধ্যে প্রশাসনিক এলাকাভিত্তিক অধ্যায়টি তুলনামূলকভাবে বিশাল। এখানে আটটি বিভাগের ও ৬৪টি জেলার মানচিত্র এবং বিবরণ রয়েছে। ১১টি সিটি করপোরেশনের প্রতিটি পৃষ্ঠাব্যাপী মানচিত্র এবং বর্ণনা রয়েছে। রাজধানী ঢাকা নিয়ে রয়েছে ১০টি মানচিত্র। বাংলাদেশ জাতীয় অ্যাটলাস বা মানচিত্র সংকলনের পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪৬০, যেখানে মোট ৪২৫টি মানচিত্র এবং ২৫০ পৃষ্ঠা তথ্যভিত্তিক বিবরণ রয়েছে। অ্যাটলাসটি বেশ বড় আকারের (৩৩.৭০–২৬.২৫ সে.মি. বা ১র্র্৪ –১র্র্০ ), বোর্ড বাঁধাই। প্রধান সম্পাদক নজরুল ইসলাম ও সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম নাজেম। প্রায় ৪০ জনের একটি টিম অ্যাটলাসের কাজে বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পৃক্ত ছিল। জাতীয় অ্যাটলাসের প্রচ্ছদ করেছেন খ্যাতনামা প্রচ্ছদ শিল্পী সমর মজুমদার। অভ্যন্তরীণ বিন্যাস আমার নিজের, সঙ্গে ছিল দুজন তরুণ কার্টোগ্রাফার। প্রকাশনার প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা করেছে মূলত বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি ও বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট। প্রকাশক বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। আমাদের বিশ্বাস প্রকাশনাটি উন্নত মানের হয়েছে।
একজন নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে আপনি সমসাময়িক বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণের কথা বলা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়ের ওপর দৃষ্টি দেয়া জরুরি বলে মনে করেন?
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮-তে ‘আমার গ্রাম-আমার শহর: প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ’—এ কথা উল্লেখ রয়েছে। নিঃসন্দেহে খুবই প্রশংসনীয় অঙ্গীকার। ‘আমার গ্রাম-আমার শহর: প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ’-এর ভূমিকায় বলা হয়েছে, ‘গ্রামকে শহরে উন্নীত করার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।’ বিষয়টি কিছুটা বিভ্রান্তিকর। কেননা এতে বাস্তু বা ভৌত পরিবর্তনের ইঙ্গিত থাকে। আমার মনে হয় না, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমনটা চেয়েছেন। ইশতেহারে ‘লক্ষ্য ও পরিকল্পনা’ অংশে অবশ্য স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে, ‘উন্নত রাস্তা-ঘাট, যোগাযোগ, সুপেয় পানি, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও সুচিকিত্সা, মানসম্পন্ন শিক্ষা, উন্নত পয়োনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি, কম্পিউটার ও দ্রুতগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সুবিধা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ মানসম্পন্ন ভোগ্য পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামকে আধুনিক শহরের সকল সুবিধাদি দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ ইশতেহারে কোথাও কিন্তু বলা হয়নি, গ্রামের ভৌত চেহারা বদলে দেয়া হবে। আমি খুবই আশ্বস্ত হয়েছি, যখন দেখলাম যে ঘরবাড়ি বানিয়ে দেয়া হবে বা কেমন বাড়ি বানাতে হবে, এটা একেবারও বলা হয়নি। বরং বলা হয়েছে, রাস্তা বানানোর পাশাপাশি যাবতীয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সেখানে পৌঁছে দেয়া হবে। এর চেয়ে উত্তম বিষয় আর কী হতে পারে!
আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ, বাংলাদেশের গ্রামগুলো সাধারণ অর্থেই অত্যন্ত সুন্দর। ‘ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড়’ বাংলাদেশের গ্রাম একদিনে নয়, বরং হাজার হাজার বছর ধরে তৈরি হয়েছে। কোনো বাস্তু পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী বা স্থপতি কিন্তু সেখানে খুব একটা যাননি। আমার ভয়, তারা গেলেই বিপদ হতে পারে; যদি না বাংলার গ্রামকে সঠিকভাবে ধারণ করেন, অনুভব করেন, বোঝেন এমন কেউ সেখানে যান। বাংলার গ্রাম নতুন করে সাজাতে অসাধারণ বুদ্ধিমান ও সৃজনশীল স্থপতি ও পরিকল্পনাবিদের প্রয়োজন হবে। তাছাড়া সুযোগ-সুবিধা নেয়ার বিষয়েও সাবধান হতে হবে। বৈদ্যুতিক লাইন যাবে, কিন্তু এর তারটি কীভাবে নেয়া যাবে, পোলটা কোথায় বসবে, কৃষিজমির ক্ষতি হবে কিনা, তা ভাবতে হবে। এক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুত্ বরং সুবিধাজনক।
বাংলার গ্রামগুলোও তো বৈচিত্র্যময়। তাই সব ধরনের গ্রামের ক্ষেত্রে একই পরিকল্পনা কতটা কার্যকর?
বাংলাদেশের গ্রামগুলো নিয়ে খুব বেশি না হলেও কিছু গবেষণা রয়েছে। এলাকাভেদে বিভিন্ন ভৌগোলিক পরিবেশে একেকটি গ্রাম কিন্তু একেক রকম। বাড়িঘরের বৈচিত্র্য রয়েছে। সমতলের বাড়ি এক রকম, পাহাড়ি এলাকার বাড়িগুলো অন্য রকম, বরেন্দ্র এলাকার বাড়ি অন্য রকম। সেদিনও দেখলাম টেলিভিশনে একজন বলছেন, আমরা পাহাড়ে খাঁজকাটা শুরু করলাম, তার পর থেকে দেখি মাটি ধস শুরু হলো। হাজার হাজার বছর ধরে পাহাড়ে মানুষ বাস করেছে। তাদের কিন্তু সমস্যা হয়নি। তারা স্বচ্ছন্দে পাহাড়ে বসবাস করত, পাহাড় কাটত না। প্রকৃতির সঙ্গে বসবাসে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতালব্ধ লোকজ্ঞানই কিন্তু মূল বিষয়। আগে গ্রামের মানুষ বাড়িতে খুব একটা বিদেশী গাছ লাগাত না। আমাদের গ্রামগুলোর অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নদীর পাশ দিয়ে হয় রৈখিক গ্রাম। কোনো কোনো গ্রাম এক কিলোমিটারের মতোও লম্বা হয়। তীর ভাঙনপ্রবণ নদীর ধারের গ্রামের ঘরবাড়িগুলো এমন করে তৈরি করা হতো, যাতে খুব দ্রুত ঘর খুলে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেয়া যায়। হাওড় এলাকার বাড়িগুলো গুচ্ছ। একটি জায়গাকে টিলার মতো উঁচু করে কয়েকটি পরিবার মিলে বাড়ি তৈরি করে থাকে। আবার কিছু বাড়ি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। ভবিষ্যত্ জনপদ পরিকল্পনায় এ ধরনের বাড়িগুলোকে সরিয়ে আনা যায়; গুচ্ছবদ্ধ করা যায়। ভৌত সেবা সংযোগে তাতে সুবিধা হয়।
কম্প্যাক্ট টাউনশিপের কথা বলা হচ্ছে, এ নিয়ে আপনার মতামত জানতে চাই।
একজন প্রবাসী বাঙালি অর্থনীতিবিদ কম্প্যাক্ট টাউনশিপের ধারণা দিয়েছেন। তিনি মূলত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষত বন্যা থেকে সুরক্ষা দানকারী ব্যবস্থা চিন্তা করেছিলেন। টাউনের আদর্শ জনসংখ্যা ভাবা হয়েছিল ২০ হাজার। এক্ষেত্রে বাস্তু পরিকল্পনাবিদ ও স্থপতিদের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে। কম্প্যাক্ট টাউনের ধারণাটি বিবেচনাযোগ্য, কিন্তু গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্য ও পরিবেশ ধরে রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। কম্প্যাক্ট টাউনশিপের ধারণায় মূলত নতুন কোনো খোলা জায়গায় একটি পরিকল্পিত ছোট শহর গড়ার চিন্তা থাকে। স্যাটেলাইট টাউন বা অন্য কোনো নতুন শহর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে কম্প্যাক্ট টাউনশিপের ধারণা বিবেচনাযোগ্য।
বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ নগরায়ণ নিয়ে কী ভাবছেন?
২০০১ থেকে ২০১১ সাল—এ শুমারি দশকে বাংলাদেশে জনসংখ্যাগত একটি বিপ্লব হয়ে গেছে। আর তা হলো, ওই দশকে দেশের গ্রামীণ এলাকার মোট জনসংখ্যা বৃদ্ধির চেয়ে শহর এলাকার জনসংখ্যা বেশি বেড়েছে। এর মানে গ্রামে তুলনামূলকভাবে জনসংখ্যা আগের মতো বাড়ছে না, বরং মাইগ্রেশন, শহরমুখীনতা এবং কাজের সন্ধানে বিদেশে পাড়ি দেয়ার কারণে গ্রামে জনসংখ্যা বৃদ্ধি কমে গেছে। অনেক গ্রামে রীতিমতো ঋণাত্মক বৃদ্ধি। গ্রামীণ উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্তদের অনেকেই আর গ্রামে থাকেন না। নিম্নবিত্ত ও বিত্তহীনরাও শহরমুখী। এখনো আমরা কেউ কেউ মনে করি, আমাদের দেশের জনসংখ্যা খুব বড় সমস্যা নয়। এটা কিন্তু ভুল ধারণা। বাংলাদেশকে এর জনসংখ্যা কমানোর বিষয়টি নিয়ে আরো সচেতন হতে হবে। এদিকে গ্রামের জনসংখ্যা কমে যাচ্ছে। গ্রামকে গ্রামের মতো রেখে সেখানে শহুরে সুযোগ-সুবিধা তৈরি করে দিতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, পয়োনিষ্কাশন ও সুপেয় পানির বন্দোবস্ত করা। এদিকে প্রতিটি গ্রামে কিন্তু উচ্চপর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তৈরির প্রয়োজন নেই। এগুলো ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে নির্মাণ করতে হবে। যেমন প্রাইমারি স্কুল গ্রামে, হাই স্কুল হবে ইউনিয়নে, উপজেলা পর্যায়ে কলেজ, ভোকেশনাল ও টেকনিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হবে জেলা পর্যায়ে। অবশ্য কোনো কোনো বড় জনসংখ্যার গ্রামে হাই স্কুল হতে পারে, এমনকি একাধিক হাই স্কুলও হতে পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা মতো বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় যদি অদূর ভবিষ্যতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় দিতে পারি, তা হবে অসাধারণ কাজ। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১০ হাজার কিংবা ২০ হাজার হবে তা নয়, দুই হাজার শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ও হতে পারে। নির্বাচিত অল্প কিছু অনুষদ ও বিভাগ নিয়ে একেকটি বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে।
আমাদের কৃষিজমি-সংক্রান্ত কিছু নিয়ম রয়েছে। যেমন তিন ফসলি চাষের জমি কোনো অবস্থাতেই রূপান্তর করা যাবে না। এমনকি দুই ফসলি কৃষিজমি চাষের জন্য রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, জলাশয়, পুকুর, নদী, খাল-বিল কোনো অবস্থাতেই ভরাট করা যাবে না। যদি নিতান্তই করতে হয়, তাহলে সঠিক পরিকল্পনামাফিক করতে হবে। পাহাড় কাটা যাবে না। এ-সংক্রান্ত আইন আছে। আইনটা মেনে চলতে হবে। মানাতে হবে।
পল্লী অঞ্চলের নগরায়ণ কিন্তু নতুন কথা নয়। ষাটের দশকেও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন চিন্তায় একটা ধারণা ছিল ‘আরবান সার্ভিসেস ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসআরডি)’ বা পল্লী উন্নয়নের জন্য নগর সেবা। ‘আরবানাইজেশন অব রুরাল এরিয়াজ’ বা ‘গ্রামের নগরায়ণ’ অথবা ‘ডিফিউজড আরবানাইজেশন’ অর্থাত্ ‘বিস্তৃত নগরায়ণ’ ইত্যাদি পুরনো তত্ত্বের প্রয়োগ ভাবা যায়। আমরা কিন্তু ৫০-৬০ বছরের পুরনো কিছু ভালো থিওরি বা তত্ত্ব প্রয়োগ করতে চাইছি। তার আগে অবশ্যই আমাদের দেশটাকে সম্পূর্ণভাবে জানতে হবে। এর উন্নয়নের জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা লাগবে, আর এ পরিকল্পনার একটি রূপ হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা’ বা ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান’। ২১০০ সাল পর্যন্ত প্রায় ৮২ বছর মেয়াদি একটি মেগা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ প্রধানত ব-দ্বীপ হলেও এখানে পাহাড়ি অঞ্চল রয়েছে। সেজন্য পার্বত্য চট্টগ্রামকে ব-দ্বীপ পরিকল্পনার মধ্যে একটা ‘হটস্পট’ বিবেচনা করা হয়েছে। পরিকল্পনার একটি অধ্যায় আছে ‘আরবানাইজেশন অ্যান্ড সেটেলমেন্ট’। নগর ও গ্রাম জনপদ অর্থাত্ গোটা দেশ পরিকল্পনা। ব-দ্বীপ পরিকল্পনার বিশেষজ্ঞ কমিটিতে আমি একজন সদস্য হিসেবে রয়েছি। ব-দ্বীপ পরিকল্পনাটা মূলত পানিসম্পদ ও নদীবিষয়ক। এর মাধ্যমে নদীগুলোকে সচল রাখা ও পানি সংরক্ষণ করার বিষয়টি বলা হয়েছে। তবে এর মধ্যে অন্য সব ধরনের উন্নয়ন সমস্যার কথাই চলে এসেছে। ৮০ থেকে ১০০ বছর পরে বাংলাদেশের ভৌত চেহারা কী হবে, এটা কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ভাবছেন। এত সূদুরপ্রসারী পরিকল্পনা পৃথিবীর খুব বেশি দেশে হয়তো হয়নি। এক্ষেত্রে আমাদের শুধু পরিকল্পনা করলেই হবে না, লক্ষ্য ঠিক রেখে এগোতে হবে। ২১০০ সালের বাংলাদেশকে আসলে একটি মেগালোপলিস বা প্রধানত নগরায়িত দেশ ভাবা যায়। দেশের অধিকাংশ মানুষ তখন হবে নগরবাসী। দেশটি তখন হবে উন্নত দেশ।
শহরবিন্যাস পরিকল্পনা কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে?
বাংলাদেশে শহরের সংখ্যা বর্তমানে ৫০৫। এর মধ্যে এক লাখ জনসংখ্যার বড় শহর প্রায় ৪৫টি। বৃহত্তর বা মেগাসিটি ঢাকার জনসংখ্যাই প্রায় দুই কোটি, বিশ্বের নবম বৃহত্তম মেগাসিটি। শহরবিন্যাস পরিকল্পনা জরুরি। বর্তমানে ঢাকার জনসংখ্যা কমানোর কথা বলা হচ্ছে। আমি মনে করি, এটা সম্ভব। বাইরে স্যাটেলাইট টাউন করে এর কিছুটা করা যায়। তবে এ টাউনগুলো হতে হবে স্বনির্ভর। এখানে কর্মসংস্থান থাকতে হবে। ওখানে থাকব আর ঢাকায় এসে কাজ করব, এমন নয়। পূর্বাচল যদি একসময় ১০ লাখ লোকের শহর হয়, তার মধ্যে কর্মক্ষমদের ৯০ শতাংশ যেন সেখানেই কাজ পায়। এভাবে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। সেখানেই শিল্প-কারখানা, বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুর ব্যবস্থা করতে হবে। ওখানকার বাসিন্দাদের যেন কাজের জন্য খুব একটা বাইরে আসতে না হয়।
একইভাবে বিভাগীয় শহর, জেলা শহর এমনকি উপজেলা শহরেও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। সোজা কথা, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। ১০০টি ‘বিশেষ অর্থনৈতিক জোন’ তৈরির কথা বলা হচ্ছে। এর কোনো কোনোটিতে যদি এক লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়, তাহলে সেই এক লাখ লোকের সেবা দেয়ার জন্য লাগবে হয়তো আরো সমপরিমাণ মানুষ।
অনেকে ঢাকা থেকে রাজধানী সরিয়ে নেয়ার কথা বলছেন, যার কোনো দরকার নেই। ঢাকায় রাজধানী থাকবে, সচিবালয় থাকবে, কিন্তু সচিবালয়ে লোক থাকবে খুব কম। সবকিছুর বিকেন্দ্রীকরণ হবে। ঢাকা থেকে শুধু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। স্কুলের শিক্ষককে তার বদলির কাগজে স্বাক্ষর করাতে কেন ঢাকা আসতে হবে? এগুলো জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। প্রশাসনিক ব্যবস্থার পরিবর্তন জরুরি। এমনিতে বর্তমানে স্থানিক বিস্তরণের দিক থেকে আমাদের দেশের শহর ব্যবস্থাটা বেশ ভালো। সারা দেশেই শহর রয়েছে, বিশেষ করে জেলা পর্যায়ে মাঝারি ও বড় শহর রয়েছে। এগুলোয় সেবার মান বাড়াতে হবে। উপজেলা পর্যায়েও মান বাড়াতে হবে।
কিন্তু শহরগুলো তো অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠছে। এমনকি ভবন, রাস্তা-ঘাট সব অপরিকল্পিতভাবে হচ্ছে।
পরিকল্পনা দুই ধরনের হতে পারে। এক. অপপরিকল্পনা বা ভুল পরিকল্পনা, দুই. শুদ্ধ সুচারু বা আদর্শ পরিকল্পনা। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনায় তাদের নিজস্ব নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আছে, তারা কেন সঠিকভাবে পরিকল্পনা করে না কিংবা ঢাকায়ই কেন করা হয় না? প্রতিটি উপজেলায় মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি হচ্ছে, এটা কে করবে? আমাদের কি প্রয়োজনীয় লোকবল আছে? আমরা ২০ থেকে ৩০ বছর আগে দেশের বিভিন্ন শহরের পরিকল্পনা করার কথা শুনেছি। এগুলো কোথায়? মূল বিষয় হচ্ছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় জনবল থাকতে হবে। বড় কথা, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সদিচ্ছা থাকতে হবে। যেমন ঢাকার সর্বশেষ (মহাপরিকল্পনা) ‘কাঠামো পরিকল্পনা’ তৈরি হলো ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে, কিন্তু আজ পর্যন্ত এটি অনুমোদন পায়নি। এর মধ্যে আবার ‘ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান’ তৈরি হচ্ছে। মূলটা হয়নি অথচ আমরা অন্যদিকে চলে গেছি। তারও আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান (ডিএমডিপি) করা হয়েছিল, অনেক কষ্টে (১৯৯৭) অনুমোদন পাওয়া গেলেও তেমনভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। খোদ রাজধানীতেই যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে বাকি শহরগুলোর অবস্থা কী, তা আন্দাজ করা যায়। আগে নগরের মাস্টারপ্ল্যান করার কাজ সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার অধীনে ছিল। সিটি করপোরেশনের অধীনেই পরিকল্পনা বিভাগটাকে শক্তিশালী করা যেত। নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করে আমরা দ্বন্দ্ব তৈরি করেছি। এর কোনো দরকার ছিল না। একটি উপজেলা শহরের তুলনায় পুরো উপজেলা অনেক বড়। আমাদের গোটা বাংলাদেশকে নিয়েই জাতীয় ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা করা দরকার। তাছাড়া শুধু পরিকল্পনা করলেই চলবে না, তা যেন বাস্তবায়নও করা হয়। আর এটি বাস্তবায়নের জন্য আনুষঙ্গিক প্রয়োজনীয়তা যেমন জনবল, সমন্বয় এগুলো যেন ঠিক থাকে। উপজেলা পরিকল্পনা দেখভাল করবে উপজেলা পরিষদ, যার প্রধান হলেন উপজেলা চেয়ারম্যান। কিন্তু বর্তমানে যে প্রক্রিয়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হচ্ছেন, সেখানে আমরা বেশি কিছু আশা করতে পারি না। হতে পারে এদের মধ্যে অনেকেই ভালো আবার অনেকে তা না-ও হতে পারেন। তাই পরিকল্পনা তৈরির পাশাপাশি বাস্তবায়নে নেতৃত্ব কে দেবেন, তাও চিন্তা করতে হবে।
সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয় সম্পর্কিত আপনার পরামর্শ কী?
প্রথমত, সমন্বয়ের অভাব সবসময়ই আছে। ঢাকার কথাই যদি ধরি, অনেকেই বলেন ঢাকার জন্য একটা সমন্বিত ব্যবস্থা সম্ভব হবে যদি নগর সরকার তৈরি করা হয়। শহরের মেয়র ও তার কাউন্সিলের লোকেরা বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ বা বিভাগের মধ্যে সমন্বয় করবেন এবং নেতৃত্ব দেবেন। অথচ এরই মধ্যে নগর পরিকল্পনা, পানি ও বিদ্যুত্ যথাক্রমে রাজউক, ওয়াসা ও ডেসার ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। শহরের বড় তিনটি সেক্টরই মেয়রের আওতা থেকে সরিয়ে দেয়া হলো। এদিকে মেয়রের অধীনে এগুলো আবার ফেরত আনতে চাওয়া হচ্ছে, যা নিতান্তই কঠিন। তবে সবকিছু একটা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অধীনে আনতে হবে। বিষয়গুলো সমন্বয়ের প্রয়োজন। কোন সংস্থার কী দায়িত্ব, তা নির্ধারণ জরুরি। সমাধানের লক্ষ্যে এক যুগ আগে ‘ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন কমিটি’ গঠিত হয়েছিল। কিছুদিন কাজ হলো, কিন্তু পরবর্তীতে আর এগোয়নি। এ ধরনের কমিটির শক্তিশালী আইনি ভিত থাকতে হবে।
আমি মনে করি, এ শহরে নগর সরকার গঠন নিকট ভবিষ্যতে বাস্তবে সম্ভব নয়। রাজধানী ঢাকার ভৌগোলিক পরিসরে একাধিক সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার বাস্তবতাও একটি বড় সমস্যা। সেক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে একটি মেট্রোপলিটন বা মেগা সিটি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল হতে পারে। সেখানে একজন জ্যেষ্ঠ¬ মন্ত্রীকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। শুধু বয়সে বা পদে সিনিয়র নয়, যিনি একাধারে কর্মতত্পরও; সত্যিকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে যোগ্য নেতৃত্ব দিতে পারবেন।
আমাদের রাজধানীটাকে নিয়ে খুব গুরুত্বসহকারে উচ্চপর্যায়ের চিন্তা করতে হবে। আমাদের অ্যাটলাসে রাজধানী ঢাকা নিয়ে আমরা অনেক মানচিত্র দিয়েছি। উদ্দেশ্য, সবাই যাতে ঢাকা নিয়ে চিন্তা করতে আগ্রহী হন। আমরা ২০ তলা ভবনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ঘাবড়ে যাচ্ছি। হংকংয়ে অসংখ্য ভবন ৫০ তলার উপরে। তারা যদি ৫০ তলার উপরে নিরাপদে থাকতে পারে, আমরা কেন পারব না। তার মানে আমাদের কৌশলগত, প্রযুক্তিগত ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা রয়েছে। বাংলাদেশ যদি ভবিষ্যতে ২০ কোটি জনসংখ্যাকে ধারণ করতে পারে, সেক্ষেত্রে রাজধানী হিসেবে ঢাকাকে দুই কোটি বা তিন কোটি মানুষকে জায়গা দিতেই হবে। তবে এজন্য প্রচণ্ড শক্তিশালী ও কঠোর নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন দরকার। সুশাসন নিশ্চিত না হলে কোনো কিছুই ঠিক হবে না। আমরা সুপরিকল্পিত দেশ ও নগরের পাশাপাশি সুব্যবস্থাপনাসমৃদ্ধ মানবিক ঢাকা চাই। ঢাকা শুধু গুলশান, বনানী, বারিধারার উচ্চবিত্তের মডেল টাউনই নয়; মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বাসাবো, কড়াইল, লালবাগ, হাজারীবাগের বাসিন্দাদেরও বসবাসযোগ্য শহর চাই। রাজধানীতে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত, বিত্তহীনও রয়েছে। ঢাকার বাসিন্দাদের ৫০ শতাংশই নিম্নবিত্ত ও বিত্তহীন। এখানেও অনেকে মন্তব্য করতে পারেন যে নিম্নবিত্ত ও বিত্তহীনের উন্নয়ন করতে থাকলে তো ঢাকার বাইরের সবাই ঢাকামুখী হবে? সেজন্য কিছু ব্যবস্থা আগেভাগেই নিতে হবে। ১০ বা ২০ বছরের মধ্যে ঢাকার জনসংখ্যা শুধু স্থিতিশীল রাখা নয়, কমাতে হবে। বিকেন্দ্রীকৃত উন্নয়ন মডেলে তা হতে পারে। ঢাকার কাছাকাছি স্যাটেলাইট টাউন তৈরির মাধ্যমে এবং জেলা ও উপজেলা শহরের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে তা করা যায়। শহরের সুবিধাগুলো গ্রামে নিয়ে যেতে হবে। যেমন দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও ভেবেছেন। ধারণাটি নতুন নয়, তবে অঙ্গীকারটি নতুন ও অত্যন্ত প্রশংসনীয়। (দৈনিক বণিক বার্তা থেকে সংগৃহীত)

Related posts