শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৯ ♦ ৮ ভাদ্র ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে পদত্যাগ করছেন

এসবিনিউজ ডেস্ক: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে ঘোষণা করেছেন, তিনি আগামী ৭ই জুন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন ।
ব্রেক্সিট অর্থাৎ ব্রিটেনের ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ত্যাগের ব্যাপারে তার নতুন পরিকল্পনা তার মন্ত্রীসভায় ও পার্লামেন্টে অনুমোদিত হবে না এটা স্পষ্ট হবার পরই তিনি পদত্যাগের ঘোষণা এলো।
লন্ডনে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে এক আবেগপূর্ণ বিবৃতিতে মিসেস মে তার বিদায়ের কথা ঘোষণা করেন। সংক্ষিপ্ত বিবৃতির শেষে তার গলা ভেঙে আসে, চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে।
তবে কনসারভেটিভ পার্টি একজন নতুন নেতা নির্বাচিত না করা পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
ব্রিটেনের বিরোধীদল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করে ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নিয়েছেন।
যেদিন তিনি বিদায় নেবেন সেদিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার দু’বছর ৩২৭ দিন পুরো হবে। মার্গারেট থ্যাচারের পর তিনি ব্রিটেনের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী।
ব্রেক্সিটকে কেন্দ্র করে এ নিয়ে দু’জন কনসারভেটিভ প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় নিতে হলো। প্রথমজন ডেভিড ক্যামেরন – যিনি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে থাকা-না-থাকার প্রশ্নে গণভোট দিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের সেই গণভোটে ৫২ শতাংশ ভোট ইইউ ত্যাগের পক্ষে এবং ৪৮ শতাংশ ইইউতে থাকার পক্ষে পড়ে। এর পরই ডেভিড ক্যমেরন পদত্যাগ করেছিলেন – কারণ তিনি গণভোটের সময় ইইউতে থাকার পক্ষে প্রচারাভিযান চালিয়েছিলেন।
দ্বিতীয় জন হতে যাচ্ছেন টেরিজা মে। তিনি প্রধানমন্ত্রী হবার সময় অঙ্গীকার করেছিলেন যে তিনি ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু কি ভাবে সেই ব্রেক্সিট হবে – তার এমন কোন পরিকল্পনা তিনি দিতে পারেন নি যা পার্লামেন্টের অনুমোদন পায়।
তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রী হবার পর তিনি যে মধ্যবর্তী নির্বাচন দেন, তাতে কনসারভেটিভ পার্টি নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে ডিইউপির সমর্থন নিয়ে তাদের সরকার গঠন করতে হয়। এর পর থেকেই টেরিজা মে’র জনপ্রিয়তা ক্রমাগত কমতে থাকে।
ব্রেক্সিটকে কেন্দ্র করে তার মন্ত্রীসভার অনেক সদস্য একের পর এক পদত্যাগ করতে থাকেন।
অন্যদিকে ব্রেক্সিট কিভাবে বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে মিসেস মে’র পরিকল্পনাটি যদিও ইইউ নেতাদের অনুমোদন পেয়েছিল, কিন্তু ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে এটি পর পর তিন বার তুলেও তা পাস করাতে ব্যর্থ হন মিসেস মে।
এর পর তিনি বিরোধীদল লেবার পার্টির সমর্থন নিয়ে পরিকল্পনাটি পাস করানোর চেষ্টা করেন মিসেস মে। এর পর তিনি আরেকটি সংশোধিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন, কিন্তু এর যে তীব্র বিরূপ সমালোচনা হয় তাতে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে তার মন্ত্রীসভায় বা পার্লামেন্টে – কোথাও এটা পাস করানো যাবে না।
এর পরই মিসেস মে’কে অবিলম্বে পদত্যাগের জন্য পার্টির নেতারা চাপ দিতে থাকেন। তারা বলতে থাকেন, দলের জনপ্রিয়তার ধস ঠেকাতে ও ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের স্বার্থে মিসেস মে’কে সরে যেতে হবে – যাতে নতুন কেউ নেতৃত্ব নিতে পারেন।
অবশেষে আজ শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী মিসেস মে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করলেন।
মিসেস মে বলেছেন, তিনি আশা করেন তার উত্তরসূরী যিনি হবেন তিনি ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করতে পারবেন, যার পক্ষে ২০১৬ সালের গণভোটে ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছিল।
কনসারভেটিভ পার্টি এখন নতুন একজন নেতা নির্বাচন করবে – যিনি পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন।
পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সম্ভাব্যদের তালিকায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও লন্ডনের সাবেক মেয়র বরিস জনসন, সাবেক ব্রেক্সিট মন্ত্রী ডমিনিক রাব, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট, এবং পরিবেশমন্ত্রী মাইকেল গোভের নাম রয়েছে।

Related posts