বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ ♦ ২৮ অগ্রহায়ন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ ♦ 5 রবিউস-সানি ১৪৪০ হিজরী

Select your Top Menu from wp menus

বেডস’র ‘ন্যাশনাল এনার্জি গ্লোব পদক-২০১৮’ অর্জন

স্টাফ রিপোর্টার: পরিবেশ সংরক্ষণে তাৎপর্যপূর্র্ণ ভূমিকা রাখার জন্যে বেডস ন্যাশনাল এনার্জি গ্লোব পদক ২০১৮ অর্জন করেছে। গত ১৯ নভেম্বর বিকেলে রাজধানী ঢাকার মতিঝিলে বিল্ড-এর সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পদক হস্তান্তর করা হয়। বেডস-এর পক্ষে নির্বাহী প্রধান মাকসুদুর রহমান ও তাঁর সহকর্মীরা পদক গ্রহণ করেন। পদক প্রদান করেন এডভান্টেজ অস্ট্রিয়া প্রতিনিধি, ঢাকাস্থ অস্ট্রিয়ান অ্যাম্বেসির বিজনেস এটাসে ক্রিস্টোফা পিফার।

পদক প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপ্রধান ও সঞ্চালনা করেন বিল্ড (বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট)-এর প্রধান নির্বাহী ফেরদৌস আরা বেগম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ডিসিসিআই (ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি) সাধারণ সম্পাদক এ এচি এম রেজাউল কবির, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক-এর উপ-মহা-ব্যবস্থাপক মো: আব্দুস সোবহান বক্তৃতা করেন। বক্তারা সুন্দরবন উপকূলের পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষত: কার্বন নির্গমন কমাতে সোলার বিদ্যুৎ-এর ব্যবহার বাড়াতে বেডস-এর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

বেডস্ ও কোরিয়া গ্রীন ফাউন্ডেশন (কেজিএফ) কর্তৃক বাস্তবায়িত ইকো-ভিলেজ প্রকল্পের জন্যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মানসূচক পদক প্রদান করা হয়। ইকো ভিলেজ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক ও পরিবেশগত নানাবিধ সমস্যা সমাধান করা; যেখানে পরিবেশ, বিশেষ করে ম্যানগ্রোভ প্রতিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের খুলনা জেলার অন্তর্গত দাকোপ উপজেলার বাণিশান্তা ইউনিয়নে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রকল্পের শুরুতেই সমগ্র প্রকল্পের কার্যক্রমকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়। যথা: গ্রীন হাউজিং, গ্রীন এডুকেশন এবং গ্রীন বিজনেস। গ্রীন হাউজিং কার্যক্রমের মাধ্যমে সুপেয় পানি, বিদ্যুৎ, রান্নার জ্বালনী, নদীভাঙ্গন প্রভৃতি সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। গৃহীত উদ্যোগের ফলে ৪,৫৯৪ জন গ্রামবাসী সৌরশক্তি ও স্থানীয় পানি পরিশোধন পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে নিয়মিত নিরাপদ খাবার পানি পাচ্ছে, ২টি সোলার স্টেশন স্থাপনসহ বিভিন্ন ধরনের সৌরনির্ভর সুবিধা পেয়েছে ১৬টিরও বেশি গ্রামের তিন হাজার পরিবার। এর ফলে বাণিশান্তা ইউনিয়নের ৯০ ভাগেরও বেশি পরিবার এখন সৌরবাতির আলোয় আলোকিত জীবন যাপন করছেন। স্থানীয় জনগোষ্ঠী সৌরশক্তি ব্যবহার করে ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করছে। বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা সৌরবাতির আলোয় একদিকে যেমন রাতে পড়াশুনা করতে পারছে, অন্যদিকে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের মাধ্যমে আধুনিক শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। এ সকল কার্যক্রমের ফলশ্রুতিতেই স্থানীয় সরকার বানিশান্তা ইউনিয়নটিকে বাংলাদেশের প্রথম সৌর ইউনিয়ন হিসেবে ঘোষণা করেছে। স্থানীয় ৩০০ পরিবার পেয়েছে পরিবেশবান্ধব চুলা ব্যবহারের সুবিধা। নদীভাঙ্গনরোধে রোপণ করা হয়েছে ১,২০,০০০ ম্যানগ্রোভ।

গ্রীন এডুকেশন-এর আওতায় ২৫টি বিদ্যালয়ের ৪,০৫০ জন শিক্ষার্থী পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন শিক্ষা এবং ৩০০ জন গ্রামবাসী প্রকৃতি, পরিবেশ ও সুন্দরবনের বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষাসহ পরিবেশবান্ধব কৃষি ও বিকল্প কর্মসংস্থানের উপর প্রশিক্ষণ পেয়েছে। গ্রীন বিজনেস-এর আওতায় স্থানীয় গ্রামবাসীকে পরিবেশবান্ধব পর্যটন, বনজ সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে হস্তশিল্প, স্থানীয় ট্যুর গাইড তৈরিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অনেকেই আজ নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে।

বেডস্ ২০১০ সাল থেকে পরিবেশ সংরক্ষণ, বন্য প্রকৃতি সংরক্ষণ, সুন্দরবনের নিকটবর্তী গ্রামসমূহে বসবাসরত অধিবাসীদের জীবনমান উন্নতকরণ, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং বনজ সম্পদের নিরাপদ ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিতকরণের মত র্কাযক্রমের মাধ্যমে প্রকৃতির সাথে মানুষের সমন্বয় সাধনের লক্ষ্য নিয়ে নিরলস কাজ করে চলেছে।

Related posts