শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯ ♦ ৭ বৈশাখ ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

বিশ্ব জয় সুন্দরবনাঞ্চলের কাঁকড়ার

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনে চিংড়ি ও জাতীয় মাছ ইলিশের পরই এখন কাঁকড়ার অবস্থান। সাদা সোনা ক্ষ্যাত চিংড়ীর পরেই বাংলাদেশে মাছ প্রজাতির এই কাঁকড়া শিল্পে এসেছে অভাবনীয় সাফল্য।
ভাইরাস আক্রমণ ও উৎপাদন খরচ কম থাকায় থাকায় দেশের উপকুল অঞ্চলে দিন দিন কাঁকড়ার চাষ ও খামার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে চিংড়িতে ভাইরাস, রপ্তানি হ্রাস এবং দাম কমে যাওয়াতে চিংড়ি চাষীরা কাঁকড়া চাষে ঝুঁকছেন।
আন্তজার্তিক বাজারের কাঁকড়ার চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সাতক্ষীরায় কাঁকড়া চাষ কৃষকের মাঝে নব জাগরণ সৃষ্টি করেছে। অনুকূল পরিবেশের কারণে সুন্দরবন সংলগ্ন উপকুলীয় অঞ্চলে কাঁকড়া চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় চিংড়ী চাষের পাশাপাশি সাতক্ষীরায় কৃষকদের মাঝে রপ্তানিজাত এ কাঁকড়া চাষের আগ্রহ বাড়ছে। জেলায় সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর, আশাশুনি, দেবহাটা ও কালিগঞ্জ উপজেলা সহ বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ৬ সহস্রাধিক কাকড়া চাষী রয়েছে।
বর্তমানে সাতক্ষীরায় চাষ হওয়া এসব কাঁকড়া আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বিদেশীদের খাবার টেবিলের মেনুতে যেসব খাদ্য এখন স্থান পাচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ থেকে যাওয়া সুন্দরবনের সুস্বাদু শিলা প্রজাতির কাঁকড়া। এক প্রকার সুন্দরবনের কাঁকড়ার এখন বিশ্বজয়।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ হেক্টর জমিতে কাঁকড়ার চাষ হয়ে থাকে। এর গড় উৎপাদন প্রতি বছর ৩ হাজার মেট্রিক টন। গত বছর ৩২০০ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়।
চলতি বছর ৩ হাজার ৫’শ মেট্রিক টন কাঁকড়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকারভেদে প্রতি কেজি কাঁকড়া ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে। জেলাতে মোট ৪৫২টি কাঁকড়ার ঘের রয়েছে।
আর ছোট-বড় মিলে প্রায় ২ হাজার সরকারি ও বেসরকারি কাঁকড়া মোটাতাজাকরণ খামার গড়ে উঠেছে। আর সপ্ট সেল খামার রয়েছে ৪২টা। যেখানে ৪২ লক্ষ প্লাসটিকের খাঁচায় কাঁকড়া মোটাতাজাকরণ চাষ হচ্ছে।
বাংলাদেশের জাতীয় রপ্তানী আয়ে উপাদানগুলোর মধ্যে কাঁকড়ার অবদান এখন গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সাতক্ষীরায় চাষ হওয়া এসব কাঁকড়া আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
বিদেশীদের খাবার টেবিলের মেনুতে যেসব খাদ্য-খাবার এখন স্থান পাচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম সুস্বাদু বাংলাদেশ থেকে যাওয়া এ শিলা প্রজাতির কাঁকড়া। প্রতি বছর বাংলাদেশ হতে নির্দিষ্ট আকারের প্রচুর পরিমানে কাঁকড়া বিদেশে রপ্তানী হয়ে থাকে।
বৈদেশীক মুদ্রা অর্জনে চিংড়ি ও জাতীয় মাছ ইলিশের পরই এখন কাঁকড়া একটি উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রেখে চলেছে। বর্তমানে কাঁকড়া রপ্তানী করে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে।
মৎস্য বিভাগের সূত্র মতে, প্রাথমিক হিসেবে কাঁকড়ার গড় উৎপাদন দেশে বাৎসরিক প্রায় ১৩ হাজার টন। যার বাজার মূল্য ৪৫০ কোটি টাকা। উৎপাদিত এসব লোনা পানির কাঁকড়ার সিংহভাগ উৎপাদিত হয় সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট থেকে।
এর মধ্যে শুধু সাতক্ষীরা জেলা থেকে লোনা পানির এই সুস্বাদু কাঁকড়ার গড় উৎপাদন হয় ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেট্রিক টন। কাঁকড়ার ঘিলুর জন্য দেশে ও বিদেশে চাহিদা বেশি। খেতেও অত্যন্ত সুস্বাদু।
বর্তমানে র্বামা, শ্রীলংকা কোরিয়া, ভারত, চীন, তাইওয়ান, যুক্তরাষ্ট, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, জাপান, হংকং এবং আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের লোনাপানিতে উৎপাদিত কাঁকড়া রপ্তানি হচ্ছে।
আর এই শিল্পের সাথে সরাসরি জড়িত এখন সাতক্ষীরা ও খুলনার সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক নারী ও পুরুষ। যে কারণে চিংড়ি চাষের পাশাপাশি কাঁকড়া চাষ এ অঞ্চলের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখছে।
জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, দেশে ১২ প্রজাতির কাঁকড়া রয়েছে। এদের মধ্যে মাইলা ও শীলা উন্নত মানের। ১৯৯৩ সাল হতে উপকূলীয় জলাশয়ে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত কাঁকড়া অপরিকল্পিত ভাবে কাঁকড়ার চাষ শুরু হয়।
শীলা প্রজাতির স্ত্রী কাঁকড়া আন্তর্জাতিক বাজার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চিংড়ি চাষের পরেই উপকূলীয় অঞ্চলে এই শীলা কাঁকড়া চাষ বেশ লাভজনক হয়ে উঠে। এর পর থেকেই প্রান্তিক চিংড়ি চাষীরাই কাঁকড়া উৎপাদনে ঝুকেপড়ে এবং ফ্যাটেনিং পদ্বতিতে কাঁকড়া চাষ শুরু করে। এর পর থেকে ধীরে ধীরে সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলাতে কাঁকড়া চাষ শুরু হয়।
এসব অঞ্চলের মধ্যে সব চেয়ে বেশি পরিমানে চাষ হচ্ছে বঙ্গপোসাগরের কোল ঘেষে সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর উপজেলার,কলবাড়ী, নোয়াবেকি, হরিনগর, চুনকুড়ি, সুন্দরবন, ভেটখালী, ছোট বেটখালি, মুন্সিগঞ্জ, কলবাড়ী, বুড়িগোয়ালিনি, পোড়াকটলা, দাতিনাখালী গাবুরা, ঝাপা, পদ্দপুকুর, কুটিঘাটা ও কালিগঞ্জ উপজেলার বন্দকাটি, শ্রীপুর, রতনপুর, ধলবাড়ী এবং আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা, চাঁপড়া, আশাশুনি, ঘোলা, হাড়িভাঙ্গা, পুইজালা, তুয়ারডাঙ্গা, বড়দল, খাজরা, মনিপুরি, দরগাপুর ও প্রতাপনরে।
সুন্দরবন সংলগ্ন নদ-নদী থেকে কাঁকড়ার পোনা সংগ্রহ করে তা চাষ করা হয়ে থাকে। চিংড়ী ঘেরে বা কাঁকড়ার পুকুরে কাঁকড়ার পোনা ছাড়ার পর তা ২ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে বড় হয়ে পরিপক্ক কাঁকড়ায় পরিনত হয়।
যার এক একটির ওজন দাঁড়ায় ১৭০ থেকে ১৮০ গ্রাম। অল্প সময়ের মধ্যে কাঁকড়া বড় হয়ে খাবার ও বিক্রির উপযুক্ত হয়ে ওঠার কারণে এ ব্যবসায় লাভ বেশি। সে কারণে সাতক্ষীরায় কাঁকড়ার চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
এ অঞ্চলে শীলা কাঁকড়া, লাল কাঁকড়া, পাতি কাঁকড়া ও ধান ক্ষেতে দেখা যায় এমন গোলাকৃতির কাঁকড়া সহ প্রায় ৪/৫ প্রজাতির কাঁকড়া চাষ হয়ে থাকে। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে চাহিদা বেশি শীলা প্রজাতির কাঁকড়া।
কাঁকড়ার মাংস শুধু সুস্বাদুই নয় যথেষ্ট পুষ্টিকরও বটে। শীলা কাঁকড়ার দেহে ৭১-৭৪% পানি, ১৯-২৪% প্রোটিন, ৬% ফ্যাট ও ২-৩% খনিজ পদার্থ থাকায় বহির্বিশ্বে শীলা কাঁকড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। যেটি বিদেশে রপ্তানি হয়ে থাকে।
কাঁকড়া চাষের সঙ্গে জড়িত একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে জানা গেছে, সুন্দরবন সংলগ্ন নদীগুলোতে যে পরিমান কাঁকড়া ধরা পড়ে তা প্রাকৃতিকভাবে রেনু থেকে বড় হয়।
এ অঞ্চলের ১২ মাস লবনাক্ত পানি কাঁকড়া চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। তাছাড়া চিংড়ি চাষের জন্য প্রচুর জমি ও অর্থের প্রয়োজন হলেও কাঁকড়া চাষের জন্য জমি ও অর্থ দুটোই কম লাগে।
ফরিদ নাইন স্টার এগ্রো বিডি লিমিটেডের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম জানান, কাঁকড়া অল্প জায়গায় অনেক বেশি চাষ করা যায়। আমরা স্থানীয় চাষী বা বাজার থেকে ন্যায্যমূলে কাঁকড়া কিনে আনি।
তারপর প্লাস্টিকের খাঁচায় একটি করে কাঁকড়া রেখে দুই/তিন সপ্তাহ পরিচর্যার পর কাঁকড়ার খোলস পরিবর্তন করা হয়। এতে কাঁকড়ার ৮০ ভাগ ওজন বৃদ্ধি পায়। চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর কাকড়াঁ প্যাকেটজাতকরণ করা হয়।
এ পদ্ধতিতে কাঁকড়ার খোলস নরম থাকে। এর চাহিদাও বেড়েছে। দামও পাওয়া যায় ভাল। একশ টাকা কেজি কিনে চাষ করে প্রকার ভেদে ৪০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করে থাকেন। এতে লাভ বেশি ও রোগবালাই কম হওয়ায় সাতক্ষীরায় ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে খাচায় কাঁকড়া চাষ পদ্ধতি।
জেলার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের কলবাড়ি ব্রীজ সংলগ্ন খাস জমিতে বিশেষ এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থায়নে ইনোভেশন ইন পাবলিক সার্ভিসের আওতায় উপজেলা প্রশাসন গড়ে তুলেছেন কাঁকড়া মোটাতাজাকরণ খামার।
দুই বিঘা জমির এই খামারে সাড়ে পাঁচ হাজার খাচায় কাকড়া মোটাতাজা করা হচ্ছে। যার ব্যবস্থাপনায় রয়েছে স্থানীয় বাগদী সম্প্রদায়ের আদিবাসীরা। কেজি প্রতি ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত কাঁকড়া বিক্রি করে থাকেন তারা।
শুধু বাগদী সম্প্রদায়ের মানুষ নয়, চিংড়ি চাষের তুলনায় লাভ ও ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা না থাকায় অনেকেই ঝুঁকে পড়েছেন কাঁকড়া চাষে। যার ফলশ্রতিতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ইতোমধ্যে জেলায় ২ হাজার কাঁকড়া মোটাতাজাকরণ খামার গড়ে উঠেছে। আর এ খাত থেকে ক্রমেই বাড়ছে রপ্তানি আয়।
দেবহাটার কাঁকড়া চাষী সুপদো দাস জানান,অল্প সময়ের মধ্যে কাঁকড়া বড় হয়ে খাবার উপযুক্ত হয়ে ওঠে। পোনা কাঁকড়া পেতেও তেমন কোনো সমস্যা হয়না। সুন্দরবন সংলগ্ন নদ-নদী ও নদীর খাল থেকে পোনা কাঁকড়া সংগ্রহ করা হয়।
পোনা কিনতে হয় না, ঝুঁকি কম ও পরিবেশ বান্ধব। নোনা পানির এসব পোনা কাঁকড়া ছোট ছোট পকেট ঘেরে রেখে অথবা নোনা পানি সংযুক্ত ছোট ছোট পুকুর তৈরী করে বাঁশের চটা ও নেট জাল দিয়ে ঘিরে তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে তা বড় করে তোলা হয়। এর মধ্যে স্ত্রী কাঁকড়ার ঘিলুর জন্য চাহিদা বেশি, খেতেও সুস্বাদু।
দেবহাটার বদরতলা এলাকার কাঁকড়া চাষি মানিক চন্দ্র বাছাড় জানালেন, এল্লারচর মৎস্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে কাঁকড়া চাষে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি কাঁকড়া চাষ করেছেন। প্রথমে ১শ’খাঁচা নিয়ে কাঁকড়া চাষ শুরু করেন।
বর্তমানে তার ঘেরে ২২ শতক জমিতে ১৫শ খাঁচায় কাঁকড়া চাষ হচ্ছে। এবছর সে কাঁকড়া বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা লাভ ও করেছে। চিংড়ির চেয়ে কাঁকড়া চাষে খরচ কম লাভ বেশি। তাই সে চিংড়ির পরিবর্তে খাঁচায় কাঁকড়া চাষ করেন।
দেবহাটার নোড়ারচক এলাকার কানাই লাল মন্ডলের স্ত্রী মনিকা রাণি। যিনি বর্তমানে তিনি একজন উদ্যোক্তা ও স্থানীয় মহিলা সমিতির সভানেত্রী। তার নের্তৃত্বে ৫৫ জন মহিলা পুকুরে খাঁচায় কাঁকড়া চাষ করছেন। সরকারি ভাবে তাদেরকে ১৫০টি খাঁচা দেওয়া হয়েছে। এতে তার দল কাঁকড়া চাষে সুফল দেখছে। শ্যামনগরের কাকড়া চাষি বিশ্বজিৎ কুমার মন্ডল জানান, প্রতিদিন বাজার থেকে ছোট সাইজের কাকড়া কিনে খাচায় রেখে মোটাতাজা করা হয়। খাঁচায় কাঁকড়া খাবার হিসেবে তারা প্রতিদিন একটি করে তেলাপিয়া মাছ খাচায় দেন।
কয়েকদিনের মধ্যে খোলস পরিবর্তন করলেই ওজন বেড়ে যায় কাঁকড়ার। মোটাতাজা করার জন্য প্রয়োজনীয় কাকড়া জোগান দেওয়া সম্ভব হলে রপ্তানি খাতে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হতে পারে।
সাতক্ষীরার নলতা বাজারের কাকড়া ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান চঞ্চল ফিসের স্বত্বাধিকারী চঞ্চল কুমার জানান, খামারি ও কৃষকদের নিকট থেকে কাঁকড়া পাইকারী কিনে রাজধানী ঢাকার মিরপুর ও আব্দুল্লাহপুর কাঁকড়ার আড়তে ট্রাক যোগে সরবরাহ করে থাকেন।
সেখান থেকে মুলত বড় বড় ব্যবসায়ীরা বিমানযোগে এসব জীবিত ও রোগমুক্ত কাঁকড়া বিদেশে রপ্তানি করে থাকেন।
সাতক্ষীরা জেলা কাঁকড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোপাল চন্দ্র জানান, সাতক্ষীরা থেকে প্রতি বছের রপ্তাণিজাত কাঁকড়া উৎপাদন হয়ে থাকে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার মেট্রিকটন। আর এসব কাঁড়ড়া আমেরিকা, সিঙ্গাপুর, চীন,জাপান, মালেশিয়া ও তাইওয়ানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়ে থাকে।
সরকার যদি কাঁকড়া চাষের উপর স্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন তাহলে এ শিল্পের ভবিষৎ আরো ভালো হবে।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সরদার জানান, প্রতি বছর কাঁকড়া রপ্তানি করে সরকার বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। সারা দেশে যে পরিমাণ কাঁকড়া বিদেশে রপ্তানী করা হয়ে থাকে তার মধ্যে চিটাগং ও কক্সবাজারের উৎপাদিত কাঁকড়ার পরেই সাতক্ষীরা জেলার অবস্থান।
চলতি বছর সাতক্ষীরা থেকে ২৫০ কোটি টাকার কাঁকড়া রপ্তানী লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যার পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মেট্রিকটন।

Related posts