মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯ ♦ ১ শ্রাবণ ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

বিশেষ মন্তব্য: নীতি-আদর্শের মৌলিক পরিবর্তন হবে না

হারুন হাবীব
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী যে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠন মতপ্রকাশের অধিকার রাখে। সে অর্থে যে কেউ রাজনৈতিক দল বা সংগঠন করতে পারেন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে জামায়াত থেকে বহিস্কৃত বা পদত্যাগকারী নেতাকর্মীদের আরেকটি নতুন দল গঠন খুব একটা বিস্ময়ের সৃষ্টি করে না। তবে দুশ্চিন্তা এখানে- নতুন যে দলটি আত্মপ্রকাশ করেছে, এর সঙ্গে তারাই যুক্ত, যারা স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দীর্ঘকাল ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। এখন দেখার বিষয়, তারা কি সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী তাদের দল পরিচালনা করেন, না নতুন খোলসে, জনগ্রহণযোগ্যতা আদায়ের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীকেই নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস চালান।
আমরা মনে করি, সাম্প্রতিককালে জামায়াতে ইসলামীতে যারা সংস্কারবাদী হয়েছেন, তাদের জীবনের বেশিরভাগ সময় ওই দলটির নীতি-আদর্শে অবিচল থেকেছেন। কাজেই এই নতুন দলের আচরণ নিয়ে একদিকে যেমন অপেক্ষা করার সুযোগ আছে, অন্যদিকে প্রখরভাবে দৃষ্টি রাখারও প্রয়োজন আছে যে নতুন মোড়কে আবার জামায়াতে ইসলামী দলটিই আবির্ভূত হচ্ছে কি-না। আরও একটি বিষয় লক্ষণীয়, যেসব ব্যক্তি জামায়াত থেকে বহিস্কৃত বা দল থেকে পদত্যাগ করেছেন বলা হচ্ছে, তারা বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন অভিযোগ থেকে বা বিভিন্ন কারণে নিজেদের রক্ষা করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন কি-না, সেটাও ভেবে দেখার বিষয়। তবে আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বের বিভিন্ন জনপদের মতোই জামায়াতে ইসলামী দলটি একটি ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদী দল। বিশেষ করে তারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পরীক্ষিত প্রতিপক্ষ এবং গত ৪৮ বছর ধরেও তারা তাদের নীতি-আদর্শের কোনো পরিবর্তন ঘটায়নি। কাজেই জামায়াতের নেতাকর্মীরা নতুন নামে দল করলেও তাদের নীতি-আদর্শের মৌলিক কোনো পরিবর্তন হবে না। এখন সময় বলে দেবে, সামনের দিনগুলোতে তারা কোন রূপে আবির্ভূত হয়।
হারুন হাবীব: মহাসচিব, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম

Related posts