বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ ♦ ৫ আষাঢ় ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

পশ্চিমবঙ্গে ‘মোদি শাড়ি’ ‘মমতা শাড়ি’ কেনার ধুম

এসবিনিউজ ডেস্ক: নির্বাচনের মওসুমে ভারতের বাজারে এসেছে ভোটের শাড়ি। বাম-বিজেপি থেকে কংগ্রেস-তৃণমূল, বিভিন্ন দলের প্রতীক সম্বলিত শাড়ি বিক্রি হচ্ছে কলকাতার নিউ মার্কেটে। শাড়িতে রয়েছে মোদি-মমতার পাশাপাশি রাহুলের ছবিও। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন। এই নির্বাচন শুধুই দিল্লির ক্ষমতা দখলের লড়াই নয়, ভারতবাসীর অন্যতম পার্বণও বটে। দোল-দীপাবলি-ঈদ-বড়দিন প্রতি বছর আসে, কিন্তু দেশ জুড়ে এত বড় ভোট উত্সব আসে পাঁচ বছর অন্তর। সেই উত্সব ঘিরে মেতে উঠেছে মানুষ। তার ছোঁয়া দেখা যাচ্ছে সর্বত্র। বাদ যাচ্ছে না পোশাকও। বাজারে এসে গেছে নতুন ডিজাইনের শাড়ি। তাতে থাকছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রতীক। শাড়িতে শোভা পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর হাসিমুখ। কলকাতার নিউ মার্কেটের দোকানে এমনই ডিজিটাল প্রিন্টের শাড়ি মিলছে। দোকানের বাইরে কাঁচের শোকেসে থরে থরে সাজানো রয়েছে ভোটের শাড়ি।
প্রতিটি শাড়িই সুন্দরভাবে ডিজাইন করা। বিজেপির পদ্ম, কংগ্রেসের হাত ও তৃণমূলের ঘাসফুল প্রতীক দেখা যাচ্ছে। কোথাও বড় মাপের প্রতীক, কোথাও ছোট ছোট অসংখ্য প্রতীকে আঁচল ভরে দেওয়া হয়েছে। কমিউনিস্টদের কাস্তে-হাতুড়িও বাদ নেই। বামপন্থি শিবিরে সেই অর্থে কোনো সর্বময় নেতা-নেত্রী নেই, তাই তাদের শাড়ি সেজে উঠেছে শুধু প্রতীকে। প্রতি শাড়িতে নির্দিষ্ট দলের রংকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস ও তৃণমূলের ক্ষেত্রে যা সবুজ, বিজেপির ক্ষেত্রে গেরুয়া, বামেদের বেলায় আবার লাল। নবীন ইসরানির শাড়ি বিপণী নিউ মার্কেটে আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তার দোকানে শাড়ি কিনতে এসে নারীরা বিস্মিত হচ্ছেন ভোটের শাড়ি দেখে। এটা কি বিপণনের কৌশল?
নবীন ডয়চে ভেলেকে বলেন, “আমরা বিভিন্ন উত্সবে থিমের শাড়ির পসরা রাখি। দোল, দীপাবলি, পয়লা বৈশাখে সেই পার্বণের সঙ্গে মানানসই শাড়ির চাহিদা থাকে। সেভাবেই নির্বাচনের মওসুমে ভোটের শাড়ি রেখেছি। আমার দোকান ৯ বছরের পুরনো। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের সময়ও এই ধরনের শাড়ি তুলেছিলাম। ”নির্বাচনের প্রচারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের দেখা যায়, প্রিয় প্রতীকে ছাপানো শাড়ি বা টি-শার্ট পরে মিছিলে হাঁটছেন। কারো মুখে থাকে পছন্দের নেতার মুখোশ কিংবা মাথায় লাল-গেরুয়া-সবুজ টুপি। ডিজাইনার শাড়ির জন্য অবশ্য মোদি-মমতার ভক্তদের একটু বেশি টাকাই খরচ করতে হচ্ছে। একেকটি শাড়ির দাম রাখা হয়েছে ভারতীয় মুদ্রায় ১,২৩০ টাকা। তবু শাড়ির চাহিদা রয়েছে। মানুষ এসে খোঁজ করছে। ক্রেতারা হঠাত্ দেখে কিনেও নিচ্ছেন।
কলকাতার ব্যবসায়ীরা আপাতত এই সমস্যার কোনো সমাধান দিতে পারছেন না। তারা বলছেন, এক-একটি দলের প্রতীক ও নেতার ছবির থিমে শাড়ি এসেছে। কিন্তু, যত মত তত পথ মার্কা শাড়ি আসেনি যেখানে এক আঁচলে সব দলের প্রতীক মিলবে, মিলবে এক ডিজাইনে মোদি-মমতা-রাহুলের ছবি। তা নাই বা হলো, যিনি যে দলের সমর্থক, সেই নেতার ছবি দেওয়া শাড়ি কিনে ফেলতেই পারেন! এখানে উত্সব উদ্যাপনটাই বড় ব্যাপার। সূত্র; ডয়চে ভেলে

Related posts