শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯ ♦ ৭ বৈশাখ ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

টয়লেটে মেয়েরা কি বেশি সময় কাটায়?

এসবিনিউজ ডেস্ক: বলা হয়ে থাকে পাবলিক টয়লেটে মেয়েদের সময় বেশি লাগে। এর একটি কারণ হয়ত, পাবলিক টয়লেটে মেয়েরা কেবল প্রাকৃতিক কাজ সারতেই যায়না।
মেয়েরা সেখানে কথাবার্তা বলে, বন্ধুত্ব করে, মেকআপ ঠিক করে আর নিজেদের সম্পর্কের ঝামেলা সারাই করে।
গত প্রায় ১০ বছর যাবত পাবলিক টয়লেটে মেয়েরা ঠিক কী কী কাজকর্ম করে, তার ছবি তুলছেন সামান্থা জ্যাগার।
সাধারণ কোন ক্যামেরায় নয়, হাতব্যাগে বহন করা যায় এমন আকারের ৩৫মিমি শুটিং ক্যামেরায় তিনি এসব ছবি তুলেছেন।
ব্রিটেনের ম্যানচেস্টার ও লিডস শহরের বিভিন্ন পাবলিক টয়লেট, পাব আর ক্লাবের মেয়েদের টয়লেটে এসব ছবি তোলা হয়েছে।
সামান্থার তোলা বিপুল সংখ্যক ফটোগ্রাফের একটি অংশ নিয়ে লন্ডনে হবে এক প্রদর্শনী, সামান্থা যার নাম দিয়েছেন ‘লুসেন আপ’।
যাদের ছবি তোলা হয়েছে, তাদের কেউ সামান্থার বন্ধু, বাকী সব অপরিচিত নারীর সঙ্গে তার দেখা হয়েছে পাবলিক টয়লেটেই।
সামান্থা তার প্রদর্শনীর ছবিগুলোর মধ্য দিয়ে জীবনের এক স্বল্পালোচিত বা প্রায় অনালোচিত গল্প বলতে চেয়েছেন।
সামান্থা বলছেন, এই প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য হচ্ছে, টয়লেটের চার দেয়ালের মধ্যেও যে বন্ধুত্ব হতে পারে সেই গল্প বলতে চেয়েছেন।
কেন মেয়েরা টয়লেটে বেশিক্ষণ থাকে?
মেয়েরা টয়লেটে বেশি সময় কাটায়, এমন কোন বৈজ্ঞানিক তথ্য বা জরিপ নেই। তবে সাধারণভাবে এমনটাই ধারণা করা হয়।
বলা হয়ে থাকে, টয়লেটের পরিবেশ ও পরিস্থিতি এজন্য এক বড় ভূমিকা পালন করে থাকে।
অর্থাৎ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেবার ক্ষেত্রে মেয়েদের কাছে টয়লেটের পরিচ্ছন্নতা একটি ব্যপার।
এছাড়া টয়লেট সাড়ার পরের পরিচ্ছন্নতাতে মেয়েদের সময় বেশি লাগে কিনা তা নিয়ে নানা ধরণের আলোচনা রয়েছে।
তবে, পথেঘাটে, ক্লাবে বা পাবের মেয়েদের টয়লেট অনেক সময়ই সাজঘর হিসেবেও ব্যবহার হয়।
লেডিস টয়লেটে সামান্থার বন্ধুত্ব
দশ বছর ধরে বিশেষ একটি বিষয় নিয়ে কাজ করার কারণে লেডিস টয়লেট থেকে পরিচয় হয়ে পরবর্তীতে অনেক নারী সামান্থার ভালো বন্ধুতে পরিণত হয়েছেন এমন উদাহরণ রয়েছে।
নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা সামান্থা ম্যানচেস্টারেই বাস করছেন বহু বছর।
“কৈশোরে শখের বশেই আমি ছবি তোলা শুরু করি, কিন্তু মাত্র গত বছরই আমি হঠাৎ খেয়াল করে দেখলাম, আমার তোলা ছবির একটি বড় অংশই হচ্ছে টয়লেটের মধ্যে তোলা।”
“আমার মনে হলো, এই ছবিগুলোর ভেতর দিয়ে মেয়েদের পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং বন্ধুত্ব বোঝা যায় তাদের একেবারে নিজেদের মত করে কাটানো সময়ে তাদের আচরণের মধ্য দিয়ে।
টয়লেটের ভেতরে মেয়েরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাও আমি বুঝতে পারি এই সময়ে।”
“গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে চাকরি বদলানো, সম্পর্ক ভাঙ্গা কিংবা সামনে এগুনোর তড়িৎ সিদ্ধান্ত।
এটা আজব একটা ব্যপার, কিন্তু ক্যামেরার লেন্সের ভেতর দিয়ে আমি গত ১০ বছর ধরে তাই দেখছি।”
প্রদর্শনীর ছবিগুলোর অনেকগুলোতেই সামান্থাকে দেখা যাবে।
কারণ যাদের ছবি তোলা হয়েছে, তাদের অনেকেই শেষ মূহুর্তে প্রদর্শনীতে নিজেদের বিশেষ মূহুর্ত দেয়ালে টাঙানো অবস্থায় দেখতে চাননি। যে কারণে সেগুলোতে সামান্থা নিজের নতুন করে পোজ দিয়েছেন।
ছবিগুলোতে দেখা যাবে, মেয়েরা টয়লেটে মেকআপ করছে, পরস্পরকে সাহায্য করছে।
“কেঁদে অনেকের বুক ভেসে যাচ্ছে, প্রেমে প্রতারিত হয়ে চলতে থাকা জীবনে হঠাৎ থমকে যাচ্ছেন কেউ কেউ, কেউ সান্ত্বনা দিচ্ছেন, কেউ কূট তর্ক করছেন। কোথাওবা সিঙ্ক উপচে পড়ছে সাজের সরঞ্জামে।”
লন্ডনের অনেক পাবলিক টয়লেটে, বিশেষ করে মেয়েদের টয়লেটে হেয়ার ড্রায়ার থাকে, এক টয়লেটে চুল শুকচ্ছেন এমন একটি ছবি সামান্থার বিশেষ পছন্দের তালিকায় রয়েছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

Related posts