রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯ ♦ ১০ চৈত্র ১৪২৫

Select your Top Menu from wp menus

চার বিশিষ্ট ব্যক্তিকে স্বর্ণপদক দিলেন প্রধানমন্ত্রী

এসবিনিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মির্জাপুর কুমুদিনী কমপ্লেক্সে কিংবদন্তীতূল্য রাজনৈতিক নেতা তদানীন্তন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (মরণোত্তর), জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ (মরণোত্তর) চার বিশিষ্ট ব্যক্তিকে দানবীর রনোদা প্রসাদ সাহা স্বর্ণ পদক হস্তান্তর করেছেন।

স্বর্ণ পদকপ্রাপ্ত অপর দুই ব্যক্তি হলেন-নজরুল বিশেষজ্ঞ এবং গবেষক প্রফেসর রফিকুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দীন। প্রধানমন্ত্রী কুমুদিনী কমপ্লেক্সে পদকপ্রাপ্ত এবং তাদের প্রতিনিধিদের হাতে স্বর্ণ পদক হস্তান্তর করেন।

কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের ৮৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বিশিষ্ট ৪ ব্যক্তিকে ‘দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা স্বর্ণ পদক’ হস্তান্তর করেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে শেখ রেহানা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সোহরাওয়ার্দীর পক্ষে শেখ রেহানা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণ পদক গ্রহণ করেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে তার নাতনী খিলখিল কাজী স্বর্ণ পদক গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে বৃহস্পতিবার সকালে কুমুদিনী কমপ্লেক্স হেলিপ্যাডে পৌঁছান। পরে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষার্থীরা বর্ণাঢ্য ডিসপ্লে প্রদর্শন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কুমুদিনী কমপ্লেক্স মনোরমভাবে সজ্জিত করা হয়।

সকালে প্রধানমন্ত্রী কুমুদিনী কমপ্লেক্স থেকে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে ৩১টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বিকেলে একই স্থানে তিনি জেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

ট্রাস্টের পরিচালক (শিক্ষা) ও ভারতেশ্বরী হোমসের সাবেক অধ্যক্ষ একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রতিভা মুৎসুদ্দী বলেন, আরপি সাহা নামে পরিচিত রনোদা প্রসাদ সাহা ছিলেন একজন প্রখ্যাত ব্যবসায়ী ও জনহিতৈষী ব্যক্তিত্ব। তিনি তার সব সম্পদ দেশ ও মানুষের জন্য দান করেছেন। ভারতেশ্বরী হোমস, কুমুদিনী উইমেনস মেডিকেল কলেজ, কুমুদিনী হাসপাতাল, রণদা প্রসাদ সাহা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমুদিনী নাসিং স্কুল ও কলেজ, টাঙ্গাইল কুমুদিনী গার্লস কলেজ, মির্জাপুর ডিগ্রি কলেজ, মির্জাপুর এস কে পাইলট বয়েজ অ্যান্ড গার্লস হাইস্কুল, মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজের মতো অনেক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন আরপি সাহা।

১৯৭১ সালের ৭ মে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আরপি সাহা ও তার একমাত্র ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহাকে তাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। কুমুদিনী পরিবার এই মহান দানবীরের নামে ২০১৫ সালে রনোদা প্রসাদ স্বর্ণপদক প্রবর্তন করে।

কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট বেঙ্গল (বিডি) পরিচালক শ্রীমতি সাহা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন আর পি সাহার নীতি ও ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাজীব প্রসাদ সাহা। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ভাষা সৈনিক ও ট্রাস্টের পরিচালক প্রতিভা মুৎসুদ্দি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে আর পি সাহা ও স্বর্ণপদকপ্রাপ্তগণের সংক্ষিপ্ত জীবনী এবং কুমুদিনী ট্রাস্টের ৮৬ বছরের কর্মকাণ্ড ভিডিও উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাসস

Related posts