বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ ♦ ৮ ফাল্গুন ১৪২৫

Select your Top Menu from wp menus

চতুর্থ মেয়াদে জনবন্ধু শেখ হাসিনা : সবিনয় প্রত্যাশা

।। মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।।

রাজনীতি সুশাসন ও গণতন্ত্র
> ২০২৪ সনের (জানুয়ারি) নির্বাচনের প্রস্তুতি সূচনা হয়ে গেছে।
> প্রতিটি নিবন্ধিত দলে অন্তত এক-চতুর্থাংশ নারী পদধারী হওয়া বাঞ্চনীয়।
> দ্বাদশতম নির্বাচনে প্রতিটি দলের অন্ততঃ এক পঞ্চমাংশ আসনে নারী প্রার্থীর মনোনয়ন চাই।
> একাদশ সংসদেই ডিপুটি স্পীকার ও পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদে বিরোধীদলীয় প্রার্থীকে নির্বাচন করার বিবেচনা।
> সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা বৃদ্ধি।
> রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি ও শাসনকাজে ভারসাম্য আনা। সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতার সাথে পরামর্শ করে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগও হাই কোর্টবিভাগ,নির্বাচন কমিশন, কমপ্ট্রোলার ও অডিটর জেনারেল, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, সিকিউরিটি এ- এক্সচেঞ্জ কমিশন, বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন অ্যান্ড ডেভেলাপমেন্ট অথরিটি ও সকল সাংবিধানিক পদে রাষ্ট্রপতিনিয়োগ দিতে পারার ক্ষমতা।
> সংবিধানের ৭০নং অনুচ্ছেদ কেবলমাত্র সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ও অর্থবিল তথা জাতীয় বাজেট পাশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য রাখা।
> সংসদ সদস্যগণের জন্য অর্থনীতি ও পরিকল্পনাবিদ, প্রযুক্তি এবং সংসদীয় রীতিনীতি বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং সার্বক্ষনিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগ।
> রাজনৈতিক দলের সভাপতি ছাড়া বাকী সকল পদে সরাসরি ভোটে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
> অঙ্গসংগঠনসমূহের সাথে রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক শিথিল করা।
> দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের সুপারিশ বিবেচনা করা।
> জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৈধ প্রার্থীগণের জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অর্থ সহায়তা প্রদান মাধ্যমে নির্বাচনী খরচের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দ্বার উন্মোচন করা।
> জাতীয় সংসদে নতুন সদস্যগণের শপথের দিন থেকে এক বছরের মধ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত সকল আপত্তি ও মতবিরোধ নিষ্পত্তি করার জন্য আরপিও সংশোধন ও হাইকোর্ট বিভাগ পর্যায়ের ট্রাইবুন্যাল গঠন।
> দুর্নীতি দমনে দৃশ্যমান অগ্রগতি তথা স্বচ্ছতা ও নৈতিক শক্তির জয়গান আনা।
পরিকল্পিত উন্নয়ন ও অর্থনীতি
> বাজার ব্যবস্থায় থেকে ও অর্থনৈতিক সম্প্রসারনে একটি নিয়ামক কাঠামো সৃষ্টি করা।
> মন্ত্রী পদমর্যাদার একজন ডেপুটি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে অর্থনীতি ব্যাপী সমন্বিত এবং সকল খাত একে অন্যের পরিপূরক এ কথা মাথায় রেখে বর্তমানপাঁচশালা পরিকল্পনার হলিস্টিক পরিবর্তন করা।
> প্রতিটি মন্ত্রনালয়ের প্ল্যানিং সেলের ক্ষমতায়ন করা।
> কঠিন আর্থিক শৃঙ্খলা মান্যকারী পরীবিক্ষণ, পর্যবেক্ষন ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা সৃষ্টি করা।
> প্রকল্পের সময় নির্ঘন্টক প্রকৃত অগ্রগতির সাথে অর্থবয়ের মনিটরিং কথা। অহেতুকভাবে দীর্ঘায়িত ছোট খাটো প্রকল্প এক বছরের সম্প্রসারণ দিয়ে সমাপ্ত করা। প্রকল্প সংখ্যা চার পাঁচশতে নামিয়ে এনে বাকী সম্পূরক উন্নয়ন কর্মকা- জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করা।
> রেল ও জল পথকে ব্যাপক উন্নয়নমূলক অবকাঠামোসহ বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করে তোলা।
> বাহাদুরাবাদ ঘাট-ফুলছরিঘাট রেলসেতু নির্মাণ, ক্রমান্বয়ে রেলকে ব্রডগেজীকরণ ও ডাবল লাইনে রূপান্তর করে নিরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ ট্রেন চালিত করা। রেলপথকে টঙ্গি পর্যন্ত থামিয়ে দিয়ে ঘন ঘন চলা কমিউটার ট্রেন চালু করা।
> মেট্রোরেল ও উড়ালসেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি পাতাল ও আকাশ রেল সম্পর্কে দৃঢ় পদক্ষেপে অগ্রসর হওয়া।
> শিল্পায়ন তথা কর্মসংস্থানে আয় রোজগার বৃদ্ধি, স্বয়ংক্রিয়ভাবে দারিদ্র হ্রাস এবং বৈষম্য বৃদ্ধির রাশ টেনে ধরা।
> উৎপাদন ও রপ্তানীতে বহুমুখিতা আনয়নে চামড়া ও চামড়াজাত শিল্প, ঔষধশিল্প, মৎস্য রপ্তানীতে হিমায়িত কাঁচামাছের বিপরীতে কৌটাভর্তি রান্না করা মাছ রপ্তানী, হালকা কারিগরী ও প্লাস্টিক শিল্প, সিরামিকস, খেলাধূলার সরঞ্জাম, মটর সাইকেল, ফলের প্রক্রিয়াজাতকরণ, শাক সবজী ও ফুলের আকর্ষণীয় প্যাকেজকরনে অগ্রাধিকার ভিত্তিক মনোযোগ দেওয়া।
> প্রসার, গভীরায়ণ ও উদ্ভাবনী শক্তিতে পাটজাত দ্রব্য দেশে বিদেশে বিশেষভাবে সমাদৃত হতে পারে। দেশে পলিথিন নিষেধাজ্ঞা কঠোর হস্তে বাস্তবায়ন করতে হবে। পাটসুতা প্রধান তবে মিশ্রণ তন্তুকে আকষর্নীয় করে বস্ত্র বয়ন এবং মটর যানের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায় ব্যাবহারযোগ্য মানে নিয়ে যাওয়া।
> উচ্চমজুরীর কারণে চীন তৈরী পোষাক খাতে বিশ^ বাজার দখল করা অংশ ক্রমেই ছেড়ে দিচ্ছে। ভারত, পাকিস্তান আর তেমন প্রতিযোগিতায় নেই। সবচেয়ে বড় প্রতিযোগি ভিয়েতনামও এতে আগ্রহ হারাচ্ছে। শ্রীলংকা, কম্বোডিয়া ও আফ্রিকা এখনও ছোট তরফ। সে সুযেগে গত চার দশকে সৃষ্ট বিশ^মানের উদ্যোক্তাগণ অকৃপণ হাতে শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা ও মজুরী বৃদ্ধিতে সমন্বয় সাধন করে বাজার বৈচিত্র্য এবং ২০২৩ সন নাগাদ ৬০০০ কোটি ডলারের রপ্তানী আনতে পারেন, উচ্চতর মান ও দামের তৈরী পোষাক এবং নতুন নতুন বাজারের সন্ধান ও জরুরী।
> ১০০টি বিশেষ শিল্প অঞ্চলের ১০টি অগ্রাধিকার প্রাপ্ত। তৈরী পোষাকে প্রদত্ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ রাষ্ট্রীয় খরচে যে বিপুল প্রণোদনা রয়েছে তার সমতুল্য প্যাকেজে পৃথিবীর সপ্তম বৃহৎ বস্ত্র আমদানী কারক বাংলাদেশে বস্ত্রশিল্পের প্রসার এখন সময়ের দাবী। কাঁচা তুলা আমদানী সহজ বটে। অগ্রপশ্চাৎ সংযোগ মাধ্যমে বর্তমানে ১টির স্থলে ৩টি রূলস অব অরিজিন পালিত হয়ে অগ্রগামী বাংলাদেশকে সুবিধাজনক উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
> আলোকিত কৃষিবিজ্ঞানী সাত্তার ম-ল ফল উৎপাদনে বাংলাদেশে নীরব বিপ্লবের কথা উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশের আনাচে কানাচে প্রক্রিয়াজাতকরণে অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোগে আত্মকর্মসহ ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা জরুরী। বছরে ১০ লক্ষ টন কাঁঠাল উৎপাদন হয়। এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও মজাদার ফল। কাঁঠালের স্বাদ ও পুষ্টি বছরব্যাপি মিলবে এবং কর্মসংস্থান হবে। এমনকি রপ্তানী ও হতে পারে। তেমনিভাবে আম, কলা, পেঁপে, লিচু, পেয়ারা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ও বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রপ্তানী ও কর্মসংস্থানে সবচেয়ে বেশী সুযোগ আছে আনারসের জেলী ও জ্যামে। এ ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের আগে চেষ্টা করা যায়।
> শেখ হাসিনা সরকারের উৎসাহে লালমনিরহাটও অন্যান্য প্রতিবেশী এলাকার কম উর্বর জমিতে ভ’ট্টা চাষের শুরু ১৯৯৭ সনে। এখন ফলন ১৭ লক্ষ টন। হাঁস, মুরগী সুরক্ষা ও গো খাদ্যের বাইরে ভুট্টা অন্যান্য দেশ সমূহের মত প্রক্রিয়াজাত করা হলেবিশ^সেরা করণ ভোজ্য তেল প্রস্তুত ও কর্মসংস্থান তথা সমৃদ্ধি বাড়াবে।
> উন্নতমানের প্যাকেট করা ফালি পনির ও দুঁধের গুড়ো তৈরীতে বাংলাদেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচানের সম্ভাবনা আছে। আমদানী শুল্ক ও আগাম প্রস্তুতি ঘোষণা দরকার।
> পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ক্যাশুনাট উৎপন্ন হয়। চার বছরের মাথায় গাছ ফলাবতী হয়। বড় মাপ ও পরিধিতে ক্যাশু ফলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে শুকানোও ভাজা হলে কর্মসংস্থান ও ঘরে বসে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ব্যবস্থা হতে পারে।
> বছরে আট লক্ষ টন আলু উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে- আপাত দৃষ্টিতে উন্নত মানের। অথচ পটেটো চিপস, ফেঞ্চ ফ্রাই এবং কর্ণ ফ্লেক্স এর কোনটাই এখানে তৈরী হয়না। যত দিন গড়াবে ততই মা বাবা উভয়ে কর্মজীবি হবে। বাড়বে তৈরী খাবারের চাহিদা। আলুভিত্তিক খাবারে উদ্যোক্তা বিনিয়োগকারী সৃষ্টি করতেই হবে কারণ একদিকে আলূ কিষাণ কিষাণির আয় রোজগার বাড়াবে।
অন্যদিকে তেমনি হবে বাড়তি কর্ম সংস্থান। প্রয়োজন হলে ফ্লেক্স, ফ্রাই ও চিপস তৈরী উপযোগি আলুবীজ আমাদানী করতে হবে।
> গভীর সমুদ্রে ভারত ও মায়ানমার বছরে ৮০ লক্ষ টন মাছ ধরে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে উদ্যোক্তাদের সুযোগসুবিধা দেয়া হলে ব্লু ইকনমির একটি সুবিধা মিলবে।
পর্যটন শিল্পে কর্মসংস্থানের বিপুল সম্ভাবনা
> বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের অগ্রগতি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সসীম নয় অসীম। প্রাথমিকভাবে ভৌতিক অবকাঠামো নির্মাণ পর্যায়ে ককসবাজার, সৈয়দপুরে ও বরিশালে আঞ্চলিক মানসম্পন্ন বিমানবন্দর নির্মাণ করা যায়। সিলেটে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পূর্ণরূপ দেয়ার এখনই সময়। টাংগাইলের শক্ত ভিত মাটি যাহা দেশের কেন্দ্রে অবস্থিত, সীমান্ত থেকে দূরে সেখানে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত এলাকায় সেনা ক্যান্টনমেন্ট হয়নি সেখানে বিশাল মাপে ও মানের অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর নির্মাণ করার কাজ চিন্তা করা যেতে পারে। ককসবাজারের ৮০ মাইল দীর্ঘ সোনালী বিচে ধনাঢ্য পরিব্রাজকের চাহিদা মেটাতে সক্ষম শতাধিক কটেজ এবং তিন চারটি গল্্ফ কোর্স নির্মাণে ব্যক্তিখাতকে প্রনোদনা দেয়া যেতে পারে। অনুরূপভাবে সিলেটের বড় চা বাগানগুলিতে গলফ কোর্স নির্মাণ করলে ঐ অঞ্চলে গড়ে উঠা চমৎকার সব রিসোর্টের আরও বেশী লাভজনক ব্যবহার নিশ্চিত হবে । আগামী দশকটি হবে উত্তর বাংলার চোখ ধাঁধানো অগ্রগতির। বগুড়ার টিএমএসএস দু’টোর আদলে আরও পর্যটন আকর্ষন করা টাওয়ার নির্মান করে সৈয়দপুরে নেমে প্রাচীন দীঘি, সাগর, মসজিদ, মন্দির ও স্থাপত্যের দর্শন আনন্দে ভ্রমনবিলাসীদের পাওয়া যাবে। অবশ্যই শান্তি ও আইনের শাসন হতে হবে নিñিদ্র।
> বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইনস এর দৈন্যদশা কাটিয়ে প্রায় অর্ধশত বিদেশী এয়ার লাইন্সের কাড়ি কাড়ি মুনাফা করার পর্যায়ে যেতে হবে। অন্ততঃ পাঁচ বছরের জন্য বেসামরিক পরিবহনে ইউনিয়ন কর্মকা-কে নিয়ন্ত্রিত করার চিন্তা করা যেতে পারে। ৩৩ বছরের পুরনো রাডারটি আশা করি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন, মালখালাস, যানবাহন ও সামগ্রিক নিরাপত্তা, এয়ার সার্ভিসে আনা শিল্প উপাদানের উৎপাতবিহীন দ্রুত ছাড়করণ এবং ‘টিকিট নাই’ অবস্থায় প্লেনে উঠে অর্ধেক সীট খালি ধরনের গ্লানি থেকে উদ্ধার পেতে হবে। উন্নতমানের ব্যবস্থাপনা চালু করার জন্য কৃতসংকলন পদক্ষেপ জরুরী।
> ব-দ্বীপ পরিকল্পনা আলোচিত হচ্ছে। তবে যমুনা নদী বক্ষ মাঝে এক কিলো মিটার বিস্তারে রিভার ডিভাইডার মাধ্যমে দুষ্প্রাপ্য ভূমি সৃষ্টি করে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োাগ শিল্পায়ন তথা কর্মসংস্থানে ভূমি সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। দু পাশে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি ও নদী শাসনে বাঁধ দেয়া যেতে পারে।
> অর্থ, ব্যাংকিং ও বীমা খাতে সমস্যা আছে তবে সংকট নেই। সদিচ্ছা থাকলে পুনঃ তফসিলের বিধি যথা দুইবারের বেশী পুনঃতফসিল নয়, পুনঃতফসিলে স্বীকৃত পরিশোধের শতকরা ১০ ভাগ নগদে পরিশোধ করা হলে তবেই পুনঃ তফসিল, শর্ত ভাঙলেই পুনঃতফসিল বাতিল এবং খুবই বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া তৃতীয়বার পুনঃতফসিল হবে নাঃ এ সকল বিধান প্রয়োগ করা জরুরী। সুদ মওকুফে নৈতিক সংকট আছে এবং রয়েছে এক ধরণের হটকারিতা। মূল ঋণের অংশ বিশেষ মওকুফের ত প্রশ্নই আসেনা। যার ঋণ মন্দ বা খেলফি হয়ে যায়, তিনি বা তার প্রতিষ্ঠান ঐ ঋণগ্রস্ত প্রকল্পটির একটি নিজস্ব মূল্যায়ন করতে পারেন এবং তার সবচেয়ে সম্পূর্ণ অকলুষিত সম্পদে এবং ব্যক্তিগত গ্যারান্টি মাধ্যমে যেন ঋনটি বর্ণিত বিধি অনুসারে পুনঃতফসিল করান তার বিধান করা যায়। এ ছাড়া ও অন্যান্য সহজতর ফর্মূলায় ঋনখেলাপ পরিস্থিতি সম্পূর্ণে আয়ত্তে এনে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করা ‘ভাল’ ঋনগ্রহীতাদের শাস্তির হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে কারও তেমন ক্ষতি করতে হবেনা।
> ২০০০ সন থেকে আলোচিত এক্কুইজশন ও মার্জার আইন পাশ করা জরুরী।
> জানুয়ারি-ডিসেম্বর অর্থবছর চালুর বিষয়ে সুপারিশ বিবেচনা করা যায়।
> অজনপ্রিয়তায় সর্বজনীন ব্যাংক আমানতে আবগারী শুল্ক প্রত্যাহার করা যেতে পারে।
অবকাঠামো নির্মাণ, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ
> গত এক দশকে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি চোখ ধাঁধানো এবং তা বিশ^কে চমকে দিয়েছে। ভৌতিক অবকাঠামো নির্মাণে সরকার প্রধান জনবন্ধু শেখ হাসিনার অকুতোভয়, টেকসই, উদ্ভাবনী ও সামনে থেকে অসাধারণ নেতৃত্ব সৌভাগ্যে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় নতুন নবতর মাত্রা যুক্ত হয়েছে।
> দরকার সঞ্চয় এবং বিনিয়োগযোগ্য তহবিল। বন্টন কনসাল্টিং গ্রুপের প্রক্ষেপনে যে সোয়া কোটি লোকের মাথাপিছু আয় ৪০০০ মাকিন ডলার অন্ততঃ তাদের কাছ থেকে আয়কর আদায় করা জরুরী। সমীক্ষা করে দেখা গেছে কর হার বনাম কর রাজস্ব স্থিতিস্থাপকতা এমন যে বর্তমানে আয়কর ও কর্পোরেট করের স্তরগুলোকে পুনর্বিন্যাস করে করের হার কমালে কর রাজস্ব অনেক বেড়ে যেতে পারে। প্রয়োজন একটি করদাতা বান্ধব, আধুনিক, নিñিদ্র বাস্তবায়নযোগ্য, সহজ কর ব্যবস্থা। এর জন্য করজালের বিস্তার এবং মূসকের আদায় ব্যবস্থা সম্পর্কে ব্যাপক প্রশিক্ষণ ও বুঝানো সমঝানো প্রয়োজন। ২০২৩ সাল নাগাদ করঃ জিডিপি অনুপাত অন্ততঃ শতকরা ২০ ভাগ এবং বিনিযোগঃ জিডিপি বর্তমানের শতকরা ৩১ ভাগের বিপরীতে শতকরা ৩৮/৩৯ ভাগে না নিলে দু’অঙ্কের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি অর্জন নাও হতে পারে।
> সঞ্চয় পত্রের লভ্যাংশ না কমিয়ে আগে এর ব্যাপক অপব্যবহার, দুর্নীতি ও কারচুপি রোধ করা জরুরী।
> শতকরা ২ ভাগ ইকুইটি ছাড়া কোম্পানীর পরিচালক নির্বাচত হওয়া যাবে না এ বিধানটি রহিত করা যেতে পারে।
সময়ও সুযোগ এখন বাংলাদেশের
> অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে দৃষ্টিনন্দনভবেই ঘটেছে সামাজিক অগ্রগতি। ৭২ এর ৪৩ বছর গড় আযুূ এখন ৭২ বছর। হাজার জন্মে শিশুমৃত্যু ২০০ থেকে ২৯ তে নেমেছ। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মেয়ে শিশুর ভর্তি অনুপাত শতকরা ৫০ ভাগ। উচ্চশিক্ষায় শতকরা ৪৩ ভাগ হলে ও অগ্রগামী। ওয়ালর্ড ইকনমিক ফোরাম বলে দিচ্ছে লিঙ্গ সমতায় বাংলাদেশের সূচক ৪৮ এবং দক্ষিণ এশিয়াতে সর্বশীর্ষে। বাংলাদেশের আয়তন পৃথিবীতে ৮৪তম আর জনসংখ্যা ৮ম বৃহত্তম। দশক ঘুরতেই কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতি হবে পৃথিবীতে ২৪ তম। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের ১৩৪ অনুচ্ছেদে সামাজিক সুরক্ষা বলয়ে উপকারাভোক্তার সংখ্যা এবং ভাতার পরিমাপে প্রতিবছর শতকরা বিশ ভাগ হারে বাড়িযে ২০১৮-২৩ সনে আড়াই গুণ করা যেতে পারে।
> গৃহস্থালী কাজকে জিডিপিতে আনা জরুরী।
> বিশেষ করে আইনের শাসন দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করা, ভূমি ও জলাধার দখলধারীদের আইনের আওতায় আনা এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, জরুরী যানবাহন নিয়ন্ত্রনে বাধ্যতামূলকভাবে ‘বাম লেনের গাড়ী বায়ে যাবে’ নীতি চালু করা, ট্রাফিক বাতির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ এক হাতে আনা, স্কুলভর্তি নিজ মহল্লায় ও স্কুলবাসে যাতায়াত বাধ্যতামূলক করা উচিত। সেবাসমূহের বিল ইন্টরনেট বা ব্যাংকে পরিশোধ হবে। ঢাকায় সব প্রবেশ পথে টোল মেশিনে ফি আদায় হবে। অফিস আদালতে ফ্লেকসি টাইম চালু করা যেতে পারে। আনিসুল হক-সাঈদ খোকন ফর্মূলা বাস্তবায়নে ৬০০ বৃহদাকার বাস পুরানো সব লক্কর ঝক্কর পাবলিক যানকে প্রতিস্থাপন করতে পারে। একই সাথে ১৫ বছরের পুরানো সকল গণ পরিবহনের উপর রোড ট্যাক্সের হার দ্বিগুণ করা যেতে পারে।
বাংলাদেশে এখন অগ্রাধিকার শিল্পায়ন ও কর্ম সংস্থান
> বাংলাদেশে এখনই বিকেন্দ্রী করণের উপযুক্ত সময়। জনবন্ধু শেষ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী গ্রামকে শহরের অনুরূপ করতে হলে অন্যান্য ক্ষেত্র ছাড়া ও কৃষি উৎপাদন ও বিপনন সমবায়ে খাদ্য মওজুদ, সৌরবিদ্যুৎ ও অতিশয় সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা যায়।
> ঢাকা থেকে কযেকটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, পরিদপ্তর, খেলার মাঠ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঢাকার বাইরে স্থানান্তরের চিন্তা করা যায়।
> ২৯শে ডিসেম্বর নির্বাচনের আগের দিন ভিডিও কনফারেন্সিং এ আওয়ামী লীগ সভাপতি যিনি এখন চতুর্থ মেয়াদে প্রজাতন্ত্রের সরকারের প্রধানমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষনা করেন যে বৈষম্য দূর করা হবে। অর্থাৎ বাজার ব্যবস্থাধীনে গ্রুতগতি সমষ্টিক অর্থনৈতিক সম্প্রসারনের অপরিহার্য অনুযঙ্গঁ হিসাবে আয়, সম্পদ ও সুযোগে যে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে তা দূর করতে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতির পিতা ও তার কন্যা যিনি নিজগুণেই অসাধারণ নেতা কল্যান রাষ্ট্রে একটি সমতাপ্রবণ সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলতে যে স্বপ্ন সাধনা করেছেন ২০১৯-২০২৩ সময়ে তাই যেন সম্ভব হয়। ১৯৯৬-২০০১ সনের “গ্রোথ উইথ ইকুইটি” সে পথ প্রদর্শন করে গেছে বটে।
> বাংলাদেশের সামনে এখন জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী ও মহান স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী । কাজেই কাজ করতে হবে অবিরাম।
> সফল নেতা হিসাবে শেখ হাসিনা যেমন বাংলাদেশে অপরিহার্য তেমনি এর অগ্রযাত্রা ও অবধারিত। তবে বাজার অর্থনীতি ও ব্যক্তিখাত একটি অগ্নিপরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়ে। দেশের বিনিয়োগের সিংহভাগই (সাধারণভাবে শতকরার ৭৫-৮০ ভাগ) ব্যক্তি খাতে তবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী শিল্প উৎপাদনের থেকে ব্যবসা বাণিজ্যে নজর বেশি। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ হালে কেন স্থবির তার দায়ভার সমভাবে সরকার ও বেসরকারে ন্যস্ত। দেশের ৭৫-৮০ ভাগ ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যক্তি মালিকানায়। একাদশতম সংসদের শতকরা ৬১ ভাগ ব্যবসায়ী-শিল্পপতি। অর্থ, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্বে এখন ব্যক্তিখাতের শিরোমনিগণ।
> চলমান বাজার ও ব্যাংকিং বাবস্থাধীনে নীতি কৌশলে গতি এনে সরকারের অপেন পিট কয়লা আহরনে আরও সমৃদ্ধ হবে অবকাঠামো সুবিধার উৎপাদনশীল খাত। “ইটলস” বিজয় পরবর্তীতে গ্যাসে অনুসন্ধানে ১২ নং কুপে ৫নং কাঠামোতে বেসরকারী খাতে বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান তথা দারিদ্র নিরসন ও বৈষম্য হ্রাস করে ব্যক্তিখাত এখন অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে। এটি বেসরকারী খাতের নেতৃত্বের একটি অগ্নি পরীক্ষাও বটে।
লেখক : অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ এবং সমাজকমী

Related posts