সোমবার, ২১ জানুয়ারী ২০১৯ ♦ ৮ মাঘ ১৪২৫

Select your Top Menu from wp menus

খুলনা বিভাগের ৮ টি সংসদীয় আসন সাম্প্রদায়িক ঝুঁকিতে

স্টাফ রিপোর্টার: খুলনা বিভাগের সংসদীয় ৮টি আসনকে সাম্প্রদায়িক ঝুঁকিপূর্ণ বলে চি‎িহ্নত করা হয়েছে। এই আটটি আসনে জামায়াত শিবিরের অবস্থান অত্যন্ত শক্ত থাকায় কেন্দ্রগুলিতে সহিংসতার আশংকা করা হচ্ছে। খুলনা বিভাগের সংখ্যালঘু অধ্যাষ্যুত মোট ১৬টি আসনে সহিংসতা রোধে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থ্া গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি। পাশাপাশি এসব আসনে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠন করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনে ৭৮৬টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৫২৫টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের শরীক জামায়াতে ইসলাম মোট ৮ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে খুলনা-৫ আসনে প্রার্থী হয়েছেন অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-৬ আসনে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ (বর্তমানে কারাগারে), বাগেরহাট-৩ আসনে এ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-৪ আসনে অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম, সাতক্ষীরা-২ আসনে মুহাদ্দিস আব্দুস খালেক (বর্তমানে কারাগারে), সাতক্ষীরা-৪ আসনে গাজী নজরুল ইসলাম, ঝিনাইদহ-৩ আসনে মতিয়ার রহমান এবং যশোর-২ আসনে আবু সাঈদ মোহান্মাদ শাহাদত হোসাইন। এসব আসনে প্রতিদিনই পোষ্টার ছিড়ে ফেলা এবং পুড়িয়ে দেওয়া, মাইক ভাংচুর, মারামারি ও বোমা হামলার মতো ঘটনা ঘটছে। ফলে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে এই ৮টি আসনকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে চি‎িহ্নত করা হয়েছে।

অপরদিকে সংখ্যালঘু অধ্যাষ্যুত বিভাগের ১৬টি আসনকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে বলা হয়েছে। এই আসনগুলো হচ্ছে ঝিনাইদহ-১, ঝিনাইদহ-৩, ঝিনাইদহ-৪, যশোর-২, যশোর-৪, যশোর-৫, যশোর-৬, মাগুরা-২, বাগেরহাট-১, বাগেরহাট-২, বাগেরহাট-৩, খুলনা-৫, খুলনা-৬, সাতক্ষীরা-২ সাতক্ষীরা-৩  এবং সাতক্ষীরা- ৪।

এ ব্যাপারে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত খুলনা বিভাগের ১৪টি সংসদীয় আসনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছি। সহিংসতার শিকার মানুষের নিরাপত্তা ও তড়িৎ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি বসানোর দাবি করেছি। একই সঙ্গে চিকিৎসক রাখার প্রস্তাব করেছি। একই সঙ্গে ভিকটিমের ন্যায় বিচার নিশ্চিতে আইনী সহায়তার জন্য আমরা কমিটি করেছি। আমাদের পক্ষ থেকে চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্যও কমিটি করেছি। অপরাধ করবে, বিচার হবে না, অপরাধীরা দায়মুক্তি পেয়ে যাবে। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

খুলনার ৬টি আসনের ৭৮৬টির মধ্যে ৫২৫টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ ঃ এদিকে খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনে ৭৮৬টি ভোট কেন্দ্রেরর মধ্যে ৫২৫টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। যা’ মোট ভোট কেন্দ্রের প্রায় ৬৭ শতাংশ। তবে পুলিশ বলেছে এসব ভোট কেন্দ্রে সাধারণ কেন্দ্রের তুলনায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে থাকবে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ৭৮৬টি ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় থাকবে মোট সাড়ে ১২ হাজার পুলিশ ও আনসার।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) সোনালী সেন বলেন, প্রাথমিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে ৫ জন করে পুলিশ এবং সাধারণ প্রতিটি কেন্দ্রে ৩ জন করে পুলিশ মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী পুলিশের সংখ্যা চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রবেশদ্বারগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

 

 

Related posts