রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৯ ♦ ২ ভাদ্র ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

খুলনায় পাটকল শ্রমিকদের রাজপথ-রেলপথ অবরোধ

স্টাফ রিপোর্টার:বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে খুলনাঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা রাজপথ-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন।
শনিবার (১১মে) বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মহানগরীর নতুন রাস্তা, আটরা ও রাজঘাটে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।
গত রোববার (০৫মে) বিকেল থেকে খুলনা-যশোর অঞ্চলের নয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের সাধারণ শ্রমিকরা মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়ে বকেয়া মজুরী পাওনা পরিশোধসহ নয় দফা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। পরদিন থেকে ধর্মঘটের পাশাপাশি বিকেল চারটা হতে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত তিন ঘন্টা রাজপথ-রেলপথ অবরোধসহ রাজপথেই আসর ও মাগরিবের নামাজ আদায় ও রাস্তায়ই ইফতারীর মাধ্যমে পাওনা পরিশোধের দাবিতে অটল রয়েছেন তারা।
শ্রমিকরা অবরোধ চলাকালে রাস্তায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। শ্রমিকদের আন্দোলনে খুলনার শিল্পাঞ্চল উত্তাল হয়ে উঠেছে। সড়ক অবরোধ থাকায় মহাসড়কের যাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের ডাকে খুলনার ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, ইস্টার্ন, আলিম এবং যশোরের জেজেআই ও কার্পেটিং জুট মিলের শ্রমিকরা এ আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছেন।
আন্দোলনরত শ্রমিক নেতারা বলেন, শনিবার সকাল ছয়টা থেকে মিলের উৎপাদন বন্ধের চলমান কর্মসূচিরর পাশাপাশি এবং বিকেল চারটা থেকে নতুন রাস্তা, আটরা ও রাজঘাটে অবরোধসহ রাস্তায় ইফতারী ও দু’ওয়াক্তের নামাজ আদায় করা হয়। এছাড়া আগামীকাল রোববার প্রতিটি মিলে গেটসভা করে সারাদেশের ২৬টি পাটকলে একযোকে একই কর্মসূচীর কথা জানানো হবে। যেটি সম্প্রতি ঢাকায় পাটকল শ্রমিক লীগ ও সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। অর্থাৎ সোমবার থেকে সারাদেশে একযোগে ধর্মঘট ও তিন ঘন্টার রাজপথ-রেলপথ অবরোধ এবং আসর ও মাগরিবের নামাজ আদায় ও ইফতারীর মধ্যদিয়ে প্রতিদিনের কর্মসূচী শেষ হবে।
ক্রিসেন্ট জুট মিল সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন জানান, সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ সুপারিশ বাস্তবায়ন, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক কর্মচারীদের পি. এফ. গ্র্যাচুইটি ও মৃত শ্রমিকের বীমার বকেয়া প্রদান, টার্মিনেশন, বরখাস্ত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল, শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগ ও স্থায়ী করা, পাট মৌসুমে পাটক্রয়ের অর্থ বরাদ্দ, উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিলগুলোকে পর্যায়ক্রমে বিএমআরই করাসহ প্রশাসন ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু আমাদের দাবিগুলো এখনও বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমরা রমজানের মধ্যেও রাজপথে আবার নামতে বাধ্য হয়েছি।

Related posts