শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৯ ♦ ৭ বৈশাখ ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

খুলনার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারায় নগরীকে গড়ে তোলা হবে: মেয়র

স্টাফ রিপোর্টার: খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, খুলনার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারা বজায় রেখে এই নগরীকে গড়ে তুলতে হবে। ইতোপূর্বে নির্বাচনী ইশতেহারে খুলনার সংস্কৃতিক কর্মকান্ড বিকশিত এবং উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে আমি যে প্রতিশ্রুত ব্যক্ত করেছিলাম সেগুলি পূরণসহ সাংস্কৃতির উন্নয়নে আরো কিছু কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে চাই। এজন্য সম্মিলিত প্রয়াস দরকার।
সিটি মেয়র বুধবার (২০মার্চ) নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে খুলনার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তৃতা করছিলেন। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নগরী খুলনার সাহিত্য-সাংস্কৃতিক উন্নয়নে পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশন এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। সিটি মেয়র ঐতিহ্যবাহী নাট্য সংগঠন খুলনা নাট্য নিকেতনের উন্নয়নসহ করোনেশন হল উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সিটি মেয়র নগরবাসীর সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনা এবং বিনোদনের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে পাবলিক হল প্রাঙ্গণে পরিকল্পিতভাবে বহুতল বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, স্বাচ্ছন্দে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য ছোট-বড় একাধিক হলসহ মেলা আয়োজনের পরিসর নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, আমরা শিশুদের নিয়ে প্রতিটি জাতীয় দিবস পালন শুরু করেছি। তাদেরকে সংস্কৃতি মনস্ক এবং দেশেপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার জন্য কেসিসি’র এ ধরণের কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে। তিনি আরো বলেন, খুলনা মহানগরী এলাকা সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর সাথে সঙ্গতি রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বিস্তারের লক্ষ্যে উদ্যোগ নেয়া হবে। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে নানামুখী প্রচেষ্টার কথা পুন:ব্যক্ত করে তিনি বলেন যে কোন মূল্যে ময়ূর নদীসহ ২২ খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে এবং খুলনাকে জলাবদ্ধতা মুক্ত সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
সভায় উত্থাপিত প্রস্তাবনাসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন এবং কমিটি কর্তৃক গৃহীত কর্মপরিকল্পনা সুপারিশ আকারে প্রেরণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
সভায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সাংস্কৃতিক উন্নয়নে প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন রূপান্তর-এর প্রধান নির্বাহী স্বপন গুহ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার সাধন রঞ্জন ঘোষ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক জাফর ইমাম, অধ্যাপক অসীত বরণ ঘোষ, প্রফেসর মো: মাজহারুল হান্নান, অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির, কেসিসি’র কাউন্সিলর শেখ মো: গাউসুল আযম, খুলনা শিল্পকলা একাডেমীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মকবুল হোসেন মিন্টু, খুলনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এস এম হাবিব, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাহেব আলী, সাবেক সভাপতি ওয়াদুদুর রহমান পান্না, এ কে হিরু, জেলা কালচারাল অফিসার সুজিত কুমার সাহা, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট-খুলনার আহবায়ক হুমায়ুন কবীর ববি, লোসাউক-এর চেয়ারপার্সন ড. নাজমুল আহসান দিপু, পরিচালক পারভীন আক্তার আজাদ, কবি বিষ্ণুপদ সিংহ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এ্যাড. মিনা মিজানুর রহমান, গোলাম মোস্তফা সিন্দাইনী, এম এম মাসুদ মাহমুদ, হিমাংসু সরকার, মহানগর আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মো: কামরুল ইসলাম বাবলু, খুলনা নাট্য নিকেতনের সাধারণ সম্পাদক মোখলেসুর রহমান বাবলু, সুজলা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর সভাপতি শেখ আব্দুস সালাম, সুর-ঝংকার-এর সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. হেমন্ত সরকার, আব্বাস উদ্দিন একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বাচ্চু, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক এম এম জাফর ইকবাল, মঞ্চকথার সভাপতি সফিকুর রহমান মানিক, ময়ূরী নাট্যগোষ্ঠীর সভাপতি এ্যাড. লিয়াকত আলী খান, যাত্রা শিল্প উন্নয়ন পরিষদ-খুলনার সিনিয়র সহ-সভাপতি এ্যাড. মেহেদী ইনসার, দৈনিক পূর্বাঞ্চলের চীফ রিপোর্টার অমীয় কান্তি পাল, বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী বাসুদেব বিশ্বাস বাবলাসহ খুলনার বিভিন্ন সামাজিক,সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠনের প্রতিনিধিগণ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন।

Related posts