রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯ ♦ ১০ চৈত্র ১৪২৫

Select your Top Menu from wp menus

খুবির ব্যবসায় প্রশাসনের কৃতি শিক্ষার্থীদের এ্যাওয়ার্ড প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান বলেছেন, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা শিক্ষালাভের সুযোগ পায় তারা সৌভাগ্যবান। কারণ, এখানে শিক্ষার যে ব্যয় তার সিংহভাগ বহন করে রাষ্ট্র। কিন্তু এ ব্যয়ের অর্থ যোগান দেয় এ দেশের সাধারণ মানুষ। তাই শিক্ষার্থীদের পাস করার পর সে দায়বদ্ধতার কথা মনে রাখতে হবে এবং দেশের সেবা দিয়ে সেই ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
তিনি বুধবার (২০ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থীদেরকে ডিনস এ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। এওয়ার্ড প্রবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভালো ফলাফল অর্জন করার ব্যাপারে অনুপ্রেরণা তৈরি হবে বলে উপাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি প্রফেসর এমিরেটাস অরুণ কুমার বসাককে একজন আদর্শ শিক্ষক, নিরন্তর গবেষক ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন তার মতো নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক দেখা যায় কম।
ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. ফিরোজ আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও গবেষক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর এমিরেটাস ড. অরুণ কুমার বসাক।
তিনি চ্যালেঞ্জেস এন্ড এনহেন্সমেন্ট অব কোয়ালিটি এডুকেশন শীর্ষক তার বক্তৃতায় আমাদের এ উপমহাদেশের প্রাচীন শিক্ষা, গবেষণার ঐতিহ্য ও কিংবদন্তী শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, সমাজ সংস্কারক, সাহিত্যিকদের অনেকের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বিশ্বের বিজ্ঞানের অনেক সূত্র, উদ্ভাবনা, আবিস্কার ও প্রযুক্তির উন্মেষের সাথে আমাদের এ উপমহাদেশের খ্যাতিমানদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তবে তিনি হতাশার সাথে উল্লেখ করেন নতুন প্রজন্ম এবং তাদের পরিবার পরীক্ষা পাসে গ্রেড প্রাপ্তির বিষয়ে যতোটা তৎপর প্রকৃত শিক্ষা অর্জনে তা নয়। তিনি বিশেষ করে মৌলিক জ্ঞানের অভাবের সাথে সাথে বিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রে হাতে কলামে কাজ তথা ল্যাবরেটরি বা ব্যবহারিক শিক্ষায় অনীহা বা দুর্বলতাকে ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য খুবই হতাশার বলে উল্লেখ করে এ পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার তাগিদ দেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ব্যবসায় ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর মোঃ মিজানুর রহমান, প্রফেসর ড. এটিএম জহিরউদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আয়োজক কমিটির পক্ষে ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক তরুণ কান্তি বোস।
অনুষ্ঠানে ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের ২০০৪ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিবিএ প্রোগ্রামে ডিস্টিংশনপ্রাপ্ত ২২ জন এবং ২০০৪ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এমবিএ প্রোগ্রামে ডিস্টিংশনপ্রাপ্ত ৩৩ জনকে এই ডিনস এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। সিজিপিএ ৪এর মধ্যে ৩.৭৫ বা তার উর্ধে প্রাপ্তদেরকে এই এওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এসময় বিভিন্ন স্কুলের ডিন এবং উক্ত স্কুলের অধীন দুইট ডিসিপ্লিনের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনালগ্নে যে চারটি ডিসিপ্লিন নিয়ে শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হয় তার মধ্যে বিবিএ ছিলো। এ ডিসিপ্লিন থেকে ২০০৪ সালের আগে পর্যন্ত উত্তীর্ণ গ্রাজুয়েটদের একবার ডিনস এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এবার দ্বিতীয়বারে এ এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হলো। তবে উক্ত স্কুলের অধীন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ডিসিপ্লিন নামে আরও একটি নতুন ডিসিপ্লিন তিন বছর আগে চালু হয়েছে।

Related posts