বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ ♦ ৫ আষাঢ় ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

কুমারী মেয়েদের ‘ছিপি আঁটা বোতল’এর সঙ্গে তুলনা করে বিপাকে অধ্যাপক

এসবিনিউজ ডেস্ক: কুমারী মেয়েদের ‘ছিপি আঁটা বোতল’ এর সঙ্গে তুলনা করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন কলকাতার নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক।বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় দুই দশক ধরে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক কনক সরকার ইংরেজিতে একটি ফেসবুক পোস্ট দিয়েছিলেন।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া পোস্টটির বাংলা অনুবাদ করলে তাঁর বক্তব্যটা এরকম দাঁড়ায়: “ছেলেরা বোকা বনে যায়। তারা স্ত্রী হিসাবে যাকে পেল সে কুমারী কি না তা বুঝতে পারে না।”
“কুমারী মেয়েরা হলো ছিপি আঁটা বোতল বা সিল করা প্যাকেটের মতো। কেউ কি ছিপি ভাঙ্গা ঠান্ডা পানীয় বোতল অথবা প্যাকেট ছেঁড়া বিস্কুট কিনবে?”
তিনি আরো লিখেন, “তোমার স্ত্রীর ব্যাপারটাও সেরকম। একটি মেয়ে শারীরবৃত্তীয়ভাবে জন্ম থেকেই ‘সিলড’, যতক্ষণ তা খোলা হচ্ছে। কুমারী মেয়েদের বিষয়টা সংস্কৃতি, যৌন-স্বাস্থ্য, মূল্যবোধ – এসবের সঙ্গেই জড়িত।”
ফেসবুকে এমন পোস্টের সাথে সাথেই সমালোচনা শুরু হয়। উপায়ান্তর না দেখে এক ঘন্টার মধ্যেই তিনি পোস্টটি ডিলিট করে দেন, যদিও তার আগেই প্রথমে ফেসবুকে এবং তারপরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে থেকেও সমালোচনা শুরু হয়।
অধ্যাপক সরকার অবশ্য বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “একটু মজা করেই পোস্টটা রবিবার দিয়েছিলাম একটা ক্লোজড গ্রুপের মধ্যে। কিন্তু তারপরেই মুছে দিয়েছি।”
“আসলে ওই লেখাটা ‘মূল্যবোধ ভিত্তিক সামাজিক পরামর্শ’ নামে আমার একটা ধারাবাহিক মন্তব্যের অংশ। সেখানে শুধু মেয়েদের কথা বলিনি, ছেলেদের কথাও বলেছি।”
‘মূল্যবোধ ভিত্তিক সামাজিক পরামর্শ’ বিষয়টা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অধ্যাপক সরকার বলছিলেন, “যতই আমরা চিরাচরিত মূল্যবোধগুলো থেকে সরে আসছি, ততই সংসার, বিয়ে ভেঙ্গে যাচ্ছে।”
“এই বিষয়টা নিয়েই আমি ওই মন্তব্যের সিরিজটা লিখেছিলাম। কিন্তু ওটা নিছক মজাই ছিল।”
নারী আন্দোলনের কর্মী অধ্যাপক শ্বাশতী ঘোষ ওই ফেসবুক কমেন্ট নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বললেন, “মেয়েদের সতীচ্ছদ যে কোনও কারণেই ভেঙ্গে যেতে পারে। সাতার বা সাইকেল চালানো নানা কারণে যে কুমারী মেয়েদেরও সতীচ্ছদ ভাঙ্গতে পারে, তা তো বৈজ্ঞানিক সত্য।”
“একজন অধ্যাপক হয়ে তিনি এটা কী করে বললেন? তাছাড়া, স্ত্রী হিসাবে কুমারী মেয়েই যদি ছেলেদের পছন্দ করতে হয়, স্বামীদের কুমারত্বও তাহলে পরীক্ষা হোক!”
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ছাত্রছাত্রীদের একাংশ বলছেন, অধ্যাপক সরকার শুধু ওই একটা ফেসবুক মন্তব্যে নয়, ক্লাসেও তিনি মেয়েদের প্রতি অসম্মানজনক কথা বলে থাকেন।
“বি এ ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্রীরা লিখিতভাবে ওই শিক্ষকের কন্ডাক্ট নিয়ে আমাকে জানিয়েছে। তারা বলেছে যে তিনি এমন সব বিষয়ের অবতারণা করেন ক্লাসে, যার সঙ্গে বিষয়ের কোনও যোগ নেই,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ওম প্রকাশ মিশ্র।
তিনি আরো বলেন, “ছাত্রীদের পক্ষে অবমাননাকর কথাও তিনি বলে থাকেন বলে ছাত্রছাত্রীরা লিখেছে।” সহকর্মীর ওই ফেসবুক পোস্ট নিয়ে অধ্যাপক মিশ্রর মতে, “এটা মধ্যযুগীয় চিন্তাভাবনা, যার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।”
“এ ধরণের বক্তব্য, কটু মন্তব্য, নারী বিদ্বেষী অবস্থান অনেক দিন ধরেই এই শিক্ষক নিয়ে আসছেন। এটা নিয়ে একটা চাপা অসন্তোষ ছিলই। ছাত্রছাত্রীরা আগেও অনেকবার বলেছে। এখন ছাত্র আর শিক্ষকরা আলোচনা করে ঠিক করব – কী করা হবে।”
শুধু যে বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ছাত্রছাত্রী বা সহকর্মীরা অধ্যাপক সরকারের সমালোচনা করছেন, তা নয়। সামাজিক মাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

Related posts