বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ♦ ৩ আশ্বিন ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

কলকাতায় গাড়িচাপায় দুই বাংলাদেশি নিহত, চালক গ্রেফতার

এসবিনিউজ ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় গাড়িচাপায় দুই বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় গাড়িচালক পারভেজ আরসালানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পারভেজ আরসালান কলকাতার বিখ্যাত রেস্তোরাঁ আরসালান-এর মালিকের ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার তাকে গ্রফতার করা হয়। রোববার পারভেজকে আদালতে তোলা হবে। দুর্ঘটনার সময় তিনিই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বলে জানায় পুলিশ।

শুক্রবার মধ্যরাতে কলকাতার শেকসপিয়র সরণি এবং লাউডন স্ট্রিটের সংযোগস্থলে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় কাজী মুহম্মদ মইনুল আলম (৩৬) ও ফারহানা ইসলাম তানিয়া (২৮)।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তারা চিকিসার জন্য কলকাতা এসেছিলেন। নিহতদের মধ্যে মইনুলের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলায়। তিনি গ্রামীণফোনে কর্মরত ছিলেন। তানিয়ার বাড়ি ঢাকার মোহাম্মদপুরে। সিটি ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি। দুর্ঘটনায় আহত অন্য বাংলাদেশির নাম জিহাদ।

কলকাতা পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মিরাজ খালিদ জানান, কলকাতার মারকুইস স্ট্রিটের ভিআইপি হোটেলে উঠেছিলেন ওই তিন বাংলাদেশি। শুক্রবার রাতে প্রবল বৃষ্টির কবল থেকে বাঁচতে পুলিশের একটি আউটপোস্টে আশ্রয় নিয়েছিলেন তারা। রাত দুইটার দিকে কলকাতার বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামের দিক থেকে প্রচণ্ড গতিতে আসা একটি জাগুয়ার গাড়ির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মার্সিডিজ গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জাগুয়ার গাড়িটি মার্সিডিজটিকে নিয়েই ধাক্কা মারে সড়কের পাশে থাকা ওই পুলিশ আউটপোস্টে। এতে চাপা পড়েন সেখানে থাকা তিন বাংলাদেশি।

পুলিশ কর্মকর্তা মিরাজ জানান, দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে কলকাতার এসএসকেম হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিসকরা দু’জনকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, জাগুয়ার গাড়িটি ১০০ কিলোমিটার গতিতে চলছিল বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে। ক্রসিংয়ের কাছে সিগন্যাল ভেঙে আউটপোস্টে ধাক্কা দেয় গাড়িটি। এ ঘটনায় মার্সিডিজ গাড়ির চালকও গুরুতর আহত হয়ে ওই হাসপাতালে চিকিসাধীন।

কলকাতা পুলিশ জানায়, ওই তিন বাংলাদেশি রাতে খাবার খেয়ে হোটেলে ফেরার পথে বৃষ্টির কবলে পড়েন। আশ্রয় নেন পুলিশের ওই আউটপোস্টে।

এদিকে গাড়ির ধাক্কায় আউটপোস্টটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার পরই সেখানে ছুটে যায় শেকসপিয়র সরণি থানার পুলিশ। তারাই আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। জাগুয়ার ও মার্সিডিজ গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার জাগুয়ার গাড়ির মালিক আরসালান পারভেজকে সায়েন্স সিটির কাছের একটি ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় জামিনঅযোগ্য ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের পর দুই বাংলাদেশির লাশ কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে হস্তান্তর করা হবে।

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, নিহত কাজী মুহম্মদ মইনুল আলমের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ পৌর এলাকার ভুটিয়ারগাতি গ্রামে। তার বাবার নাম অ্যাডভোকেট মো. খলিলুর রহমান।

গ্রামীণফোনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মইনুল ঢাকাতেই বসবাস করতেন। এ দুর্ঘটনায় আহত জিহাদ তার চাচাতো ভাই। নিহত ফারহানা ইসলাম তানিয়া ঢাকার মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন সড়কের মো. আমিরুল ইসলামের মেয়ে।

 

Related posts