সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯ ♦ ১০ চৈত্র ১৪২৫

Select your Top Menu from wp menus

কলকাতার সবজি বাজারে নারীরাই বেশি!

কলকাতা থেকে ফিরে গাজী জাহিদুর রহমান : পাড়া-মহল্ল¬ার সবজির খুচরা বাজার। কোনো বিক্রেতা বিক্রি করছেন পটল, কেউ টমেটো, কেউ পেঁয়াজ, আরো আছে অনেক কিছু। অন্যদিকে ক্রেতাদের কেউ কিনছেন ঢেঁড়স, কেউ আলু, কেউ কাচা মরিচ। কলকাতার সবজির খুচরা বাজারে এসব ক্রেতা-বিক্রেতার বেশিরভাগই নারী।

ভারতীয় উপমহাদেশের প্রায় সব শহরেই রান্নাঘরের দায়িত্ব থাকে নারীদের হাতে। কলকাতা শহরও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে এ শহরের পাড়া-মহলল্লার খুচরা সবজির বাজার অন্য যেকোনো শহরের চেয়ে আলাদা। সেখানকার ক্রেতা ও বিক্রেতা- উভয় দিকেই নারীদের উপস্থিতি পুরুষের তুলনায় বেশি। সারাদিন গৃহিণীরা আর সন্ধ্যায় কাজ শেষে ঘরে ফেরার পথে পরের দিনের রান্নার জন্য সবজি কেনেন কর্মজীবী নারীরা। আর বিক্রেতারাও নারী।

হাওড়া ব্রিজের শেষদিকের ফুটপাতে ভেন্ডি, পটল, কাঁচা মরিচ বিক্রি করেন রানী দে। ক্রেতাদের ডেকে যাচ্ছেন অনবরত। তিনি জানান, প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে নানা ধরনের সবজি বিক্রি করেন। মানুষ সকালে হাঁটতে বের হওয়ার সময় ও বিকেলে অফিস থেকে ফেরার পথে এসব কিনে থাকেন।

কুদঘাট এলাকায়ও দিনভর সবজি বিক্রি করেন নারীরা। সবজি বিক্রেতা লক্ষ্মী বলেন,ঘরের পুরুষেরা অন্য কাজ করেন। আর নারীরা সবজি বিক্রি করেন। এতে ঝামেলা কম। টুকিটাকি সবজি কিনতেও আসেন পরিবারের নারী সদস্যরাই।

হাওড়া ব্রিজে সন্ধ্যায় সবজি কিনতে এসে নিহারিকা বলেন, বেশি করে কিনে ফ্রিজে রেখে দিলে সবজির স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। কখনো পচে নষ্ট হয়। আর ঘরের পুরুষেরা এসব বিষয়ে বুঝবেন কি করে? রান্নাঘরের কাজতো মেয়েদেরই করতে হয়। শুধু গৃহিণীরাই নন, কর্মজীবী নারীরাও সবজির হিসাব নিকাশ রাখেন নিজের হাতেই। কিভাবে ব্যয় কমিয়ে সংসারের উন্নতি হবে, তার হিসাব কষেন সারাদিন। বাঙালি নারীকে সংসারের লক্ষ্মী বলা হয় এ কারণেই!

 

Related posts