মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯ ♦ ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

একটি আধুনিক ও উজ্জ্বল সিদ্ধান্ত ঢাকায় পাতালরেল

।।ড. আতিউর রহমান।।
চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শেখ হাসিনা অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করতে শুরু করেছেন। নিয়মিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের কথা শুনছেন এবং দূরদর্শী সব নীতিনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। এবারের নির্বাচনী ইশতেহার দেওয়ার সময়ই যথেষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে নতুন ছন্দে তিনি দেশ পরিচালনা করবেন। দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পাশাপাশি তিনি তারুণ্যদীপ্ত জনবান্ধব সরকার পরিচালনার অঙ্গীকার করেছিলেন। শুধু সংখ্যায় নয়, গুণমানের জনসেবা দেওয়ার প্রত্যয় তিনি সেদিন প্রকাশ করেছিলেন। সোনারগাঁও প্যান প্যাসিফিক হোটেলের বলরুম সেদিন করতালিমুখর ছিল কয়েক মিনিট ধরে। কূটনীতিক, নাগরিকসমাজ, দলীয় নেতা ও কর্মীরা তাঁর এই দৃঢ় উচ্চারণকে মন খুলেই স্বাগত জানিয়েছিলেন। আর নির্বাচনোত্তর নতুন সরকার গঠন করেই তিনি তাঁর সেই প্রতিশ্রুতিমতো দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন। তাঁর প্রতিদিনের কর্মতালিকা খেয়াল করলেই বোঝা যায়, তিনি সামনে থেকে সুনির্দিষ্ট ভিশন নিয়ে কিভাবে দেশ গড়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মূল সুর তিনিই বেঁধে দিচ্ছেন। ওই সুরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাকিদের এখন চলতে হবে। প্রশাসনকেও সেই বাস্তবতা মেনে নিয়ে আরো দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও জনস্বার্থে সুসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে নিজেদের প্রস্তুত রাখতে হবে। সুনির্দিষ্ট ফলাফলনির্ভর কর্মসূচি বাস্তবায়নে সময় বেঁধে লক্ষ্য পূরণে তাদের সদাই তৎপর থাকতে হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্যই তা জরুরি হয়ে পড়েছে।
এমনি এক বাস্তবতায় একটি স্মার্ট সিদ্ধান্তের খবর পেলাম। সম্প্রতি গণমাধ্যম সূত্রে জানতে পারলাম যে ঢাকা শহরকে আরো গতিময় করার জন্য সরকার ২৬.৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাতালরেল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমআরটি-১ প্রকল্পের অধীনে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা তথা জাইকার অর্থায়নে এই পাতালরেল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী জুনে জাইকার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার এই প্রকল্পের ঋণ চুক্তিটি স্বাক্ষর করবে। দশমিক ৯৫ শতাংশ সুদে ৩০ বছর মেয়াদি আড়াই বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পটির চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। দুটি পর্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। প্রথম পর্যায়ে ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত চালু হবে পাতালরেল। খিলক্ষেত, যমুনা ফিউচার পার্ক, নতুনবাজার, বাড্ডা, হাতিরঝিল, রামপুরা, মালিবাগ ও রাজারবাগ হয়ে লাইনটি কমলাপুর পর্যন্ত যাবে। এই অংশের দৈর্ঘ্য হবে ১৬.৪০ কিলোমিটার। দ্বিতীয় পর্যায়ের পাতালরেল লাইনটি নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত যাবে। যাওয়ার পথে লাইনটি যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা এবং পুলিশ অফিসার কল্যাণ হাউজিং সোসাইটি স্পর্শ করবে। এ পর্যায়ের রেললাইনটির দৈর্ঘ্য হবে ১০.২০ কিলোমিটার। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেড এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৫ সাল নাগাদ এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা যাবে। জাইকার এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, মোট ৪.৯১ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে। তার মানে অর্ধেকটারও বেশি খরচ বহন করবে জাইকা। বাকিটা আমাদের বাজেট থেকে বহন করতে হবে।
নানা কারণে পাতালরেল নির্মাণের এই সিদ্ধান্তটি স্মার্ট বলে মনে হয়েছে আমাদের কাছে। প্রথমত উড়াল সেতু, এমআরটিএ, বাস ও অন্যান্য পরিবহন মাটির ওপরেই চলবে। তাই চাইলেও মাটির ওপরের যানজট পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না। আর আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণে যেহেতু রাজধানী ঢাকা শহরের গুরুত্ব কমার সম্ভাবনা খুব একটা নেই, তাই মাটির ওপরের পরিবহন জটলা বেশ খানিকটা থেকেই যাবে। এসবের সমন্বয় আরো অনেক দিন চ্যালেঞ্জিং কর্ম হিসেবেই থেকে যাবে। আর এসব পরিবহন যে পরিমাণ জ্বালানি পুড়বে ও ধোঁয়া ছাড়বে, তাতে পরিবেশ সহায়ক পরিবহন কাঠামো গড়ে তোলাও আরেক চ্যালেঞ্জিং কর্মযজ্ঞ হিসেবে জনগণের জন্য মাথাব্যথার কারণ বলে বিবেচিত হবেই। অথচ আমরা সবাই চাই সবুজ নগরী। স্বস্তির নগরী। আর সে জন্যই পাতালরেল অনেকাংশেই মাটির ওপরের পরিবহন বিশৃঙ্খলা না বাড়িয়ে অনেকটাই সবুজ পরিবহন হিসেবে চালু হবে বলে প্রত্যাশা করা যায়। পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত বর্ধিষ্ণু নগরের নাম ঢাকা। এই ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে চাইলে পাতালরেলের বিকল্প নেই। তা ছাড়া এ কথাও তো সত্যি যে মাটির ওপরে এমআরটি করতে গিয়ে জমি অধিগ্রহণ, বিভিন্ন পরিষেবার ডালপালা পেরোনোসহ নানা প্রতিবন্ধকতা পায়ে ঠেলে আমাদের এগোতে হচ্ছে। অন্যদিকে আমাদের দ্রুত নগরায়ণের এই রাজধানী শহরের নিচের পুরোটা জমিই নির্ভেজাল এবং সরকারের হাতে। মাটির নিচে ‘বোরিং’ প্রযুক্তিও এখন খুবই উন্নত। একটু গর্ত করে মেশিন ঢুকে যায় নিচে এবং কাটতে থাকে মাটি। সেই মাটি বস্তাবন্দি করে ওপরে আনা যায়। একই সঙ্গে ওই মেশিন দিয়েই মাটির নিচে রেল বসানোর জন্য টানেল করা, প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করা, রেললাইন বসানোর মতো সব অবকাঠামো নির্মাণের কাজও সম্পন্ন করা সম্ভব। সে জন্য পাতালরেল নির্মাণ করার সময় কলকাতার মতো এখন আর তেমন জনভোগান্তি হওয়ার আশঙ্কা নেই। প্রযুক্তিনির্ভর এই মেগা প্রকল্পটি তাই পাঁচ-ছয় বছরেই শেষ করা সম্ভব হবে বলে মনে হয়। প্রকল্পের ‘টাইম লাইন’ সেভাবেই ধরা হয়েছে। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে আমরা আমাদের প্রবাসী প্রকৌশলীদের নিশ্চয় যুক্ত করতে পারি। আমাদের প্রকৌশলীরাই টোকিও পাতালরেল নির্মাণে ভূমিকা রেখেছে। ছয় বছর আগে সিলিকন ভ্যালিতে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে প্রবাসী প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলাপের সময় এসব কথা জেনেছিলাম। তাদের বাংলাদেশে এসে পাতালরেল নির্মাণের ওপর একটি উপস্থাপনা দেওয়ার অনুরোধ করেছিলাম। আওয়াল সাহেবের নেতৃত্বে তাঁরা বাংলাদেশ ব্যাংকে এসে এ ধরনের একটি উপস্থাপনাও দিয়েছিলেন। সেই উপস্থাপনায় তাঁরা প্রথমে বিমানবন্দর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রকল্প নেওয়ার কথা বলেছিলেন। এ জন্য তাঁদের সম্ভাব্য বাজেট ছিল পাঁচ বিলিয়ন ডলার। এই পরিমাণ অর্থ জোগাড় করার সংগতি আমাদের কিন্তু ছিল। তাই উচ্চপর্যায়ে এ প্রকল্প নিয়ে কথা বলার আশ্বাসও আমি তাঁদের দিয়েছিলাম। সেই সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরুপাক্ষ পালও আমাদের ওই আলাপে অংশ নিয়েছিলেন। সময়ের ঘূর্ণিপাকে আমরা এ প্রকল্পটি নিয়ে খুব বেশিদূর এগোতে পারিনি। তবে এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আমাদের কোনো সন্দেহ ছিল না। বিরুপাক্ষও এ নিয়ে লিখেছেন। আমিও লিখেছি (দেখুন ‘ঢাকায় গতি বাড়াতে চাই পাতালরেল’, দৈনিক সমকাল, ৮ অক্টোবর ২০১৮)। ভালো লাগছে যে নতুন সরকার পাতালরেল নির্মাণের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তটি নিয়ে আগামী দিনে ঢাকা শহরের গণপরিবহনে গতি আনার এক দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করেছে। নিঃসন্দেহে এই মুহূর্তে ঢাকায় মাটির ওপরে নানা কর্মকাণ্ড চলছে। তা সত্ত্বেও আমাদের নগরায়ণের যে গতি ও ব্যাপ্তি লক্ষ করছি তাতে পাতালরেল নির্মাণের এই সিদ্ধান্তটি খুবই যুগোপযোগী হয়েছে। আর জাপান আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু। এমআরটি নির্মাণে তারা শুধু আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছে তা কিন্তু নয়। অনেক জাপানি বিশেষজ্ঞের প্রাণ ঝরে গেছে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়। ধর্মান্ধ, উগ্রপন্থীদের হাতে তাঁদের রক্ত ঝরেছে এই ঢাকার মাটিতে। সেই মাটির নিচে জাপানি অর্থায়নে পাতালরেল হচ্ছে। এটিই বড় কথা। এমআরটি ও পাতালরেল নির্মাণের মাধ্যমে রক্তের আখরে লেখা দুই রাষ্ট্রের এই বন্ধন চিরজীবী হোক, সেই প্রত্যাশাই করছি।
প্রস্তাবিত এই পাতালরেল প্রকল্পটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সর্বশেষ ‘ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক’ সাময়িকীতে বাংলাদেশ উপকূল অঞ্চল থেকে লাখ লাখ জলবায়ু শরণার্থীর ঢাকাসহ অন্যান্য নগরমুখী হওয়ার প্রবণতার কথা পর্যালোচনা করা হয়েছে। নগরে আসা এসব দুঃখী মানুষের খাওয়া, পরা, বাসস্থান, শিক্ষা, নিরাপত্তা, চিকিৎসা সমস্যা ছাড়াও নিরাপদ গণপরিবহনের সমস্যাও তীব্র রূপ ধারণ করছে। আরো আছে নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা। জীবন চলাকে পরিবেশবান্ধব করার এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার অংশ হিসেবেই পাতালরেল প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল। প্রযুক্তির ব্যবহার করে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে সাহসী উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রী এক দশক আগে নিয়েছিলেন, তারই অংশ এই পাতালরেল প্রকল্প। গুণমানের পরিবহন সেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই প্রকল্পটি তিনি হাতে নিয়েছেন। একই সঙ্গে সব গণসেবাকে ডিজিটাল করার নানামুখী উদ্যোগ নতুন সরকার গ্রহণ করছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের কল্যাণেই মানুষের প্রত্যাশা অনেকটাই বেড়ে গেছে। এখন তারা শুধু সেবার বস্তুগত সংখ্যায় সন্তুষ্ট নয়। তারা চায় গুণমানের সেবা। আর ফলাফলনির্ভর উন্নয়নের অংশ হিসেবেই প্রস্তাবিত পাতালরেল জনগণের প্রত্যাশা অনেকাংশেই পূরণ করবে বলে মনে হয়।
অবশ্যই এ প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে ২০২৫ সাল লেগে যাবে। তবে এমআরটি প্রকল্পটি তার বেশ আগেই সম্পন্ন হবে। আর আগেই যেমনটি বলেছি, এই প্রকল্পটি সম্পন্ন হলেও ঢাকায় যে হারে জনবসতি বাড়ছে তাতে মানুষের যাতায়াত দুর্ভোগ পুরোপুরি নিরসন হবে না। সে জন্য আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন বেশ কিছু উদ্যোগ নিতেই হবে। সমকালে প্রকাশিত পাতালরেল বিষয়ক লেখাটি পড়ে কানাডায় প্রবাসী এক পাঠক মোহাম্মদ এন চৌধুরী বেশ কিছু প্রস্তাব রেখেছেন। তিনি মনে করেন, অন্তর্বর্তীকালীন এই সময়টায় আমরা কমিউটার ট্রেনের সংখ্যা আরো বাড়িয়ে এবং এর সঙ্গে সম্পূরক উপযুক্ত শাটল বাস সার্ভিস যুক্ত করে ঢাকা ও এর আশপাশের মানুষের পরিবহন সমস্যা বেশ খানিকটা লাঘব করতে পারি। কল্পনা করুন, গাজীপুর থেকে একজন কর্মকর্তা ভোর ৬টায় বাসে উঠে মতিঝিলে অফিস করতে চাইলে তাঁকে প্রায় ১৭ ঘণ্টা ঘরের বাইরে থাকতে হয়। বিকেল ৬টায় মতিঝিল থেকে ফের গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হলেও তিনি রাত ১১টার আগে কিছুতেই পৌঁছতে পারেন না। তাহলে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে তিনি কতক্ষণই বা থাকতে পারেন? এভাবে দিনের পর দিন ১৭-১৮ ঘণ্টা বাইরের জীবন কাটিয়ে তিনি কয়দিনই বা তাঁর কর্মজীবন ভালোভাবে সচল রাখবেন?
এই সংকটের সমাধানের জন্য এন চৌধুরী প্রস্তাব করেছেন যে ১. কমলাপুর থেকে গাজীপুরে যাতায়াতকারী কমিউটার ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে। আর এসব ট্রেন চলাচলের জন্য সকাল ৭টা ৩০ থেকে ১০টা ৩০ মিনিট এবং বিকেল ৪টা ৩০ থেকে ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই রেলপথে শুধুই কমিউটার ট্রেন চলবে। অন্য আন্ত জেলা ট্রেন এ সময়টায় এই লাইনে চলবে না। কমলাপুর থেকে টঙ্গী হয়ে গাজীপুর পর্যন্ত ১৫ মিনিট পর পর কমিউটার ট্রেন চলবে। কমলাপুর থেকে সম্পূরক শাটল বাস চালু করে যাত্রীদের মতিঝিল-দিলকুশা পৌঁছে দেওয়া হবে একই টিকিটে। একইভাবে টঙ্গী বা গাজীপুর থেকেও শাটল ট্রেন চালু করা যেতে পারে। তেজগাঁও থেকে অনুরূপ বাস চালু করে যাত্রীদের কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। একই দামের টিকিটে যাত্রীরা এসব স্টেশন থেকে ওঠানামা করে শাটল বাস ব্যবহার করতে পারবে। একটি সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা এভাবেই গড়ে উঠতে পারে।
তা ছাড়া আন্ত জেলার ট্রেনগুলো টঙ্গী থেকেও যাত্রা শুরু করতে পারে। কমিউটার ট্রেনে গিয়ে ওইখান থেকে দূরের যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে ট্রেন ভ্রমণ করতে পারে। সে জন্য টঙ্গী স্টেশনকে আপগ্রেড করার প্রয়োজন হবে।
আমারও মনে হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন এই উদ্যোগ নিলে গণপরিবহনের যাত্রীদের জীবনে খানিকটা হলেও স্বস্তি মিলবে।
এ ছাড়া আগামী দিনের বাংলাদেশে রাজধানীর আশপাশে বেশ কিছু আধুনিক নগরী আমাদের গড়ে তুলতে হবে। বুলেট ট্রেন দিয়ে এসব নগরীর সঙ্গে ঢাকায় সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব। ঠিকমতো পরিকল্পনা নিতে পারলে টাঙ্গাইল, নরসিংদী, ময়মনসিংহ থেকে রওনা হয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে কর্মস্থলে পৌঁছানো সম্ভব। সে জন্য চাই দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং সময়মতো তার বাস্তবায়ন। আশা করছি, চলমান উন্নয়ন অভিযাত্রার অংশ হিসেবেই আমাদের গতিময় ঢাকা স্বপ্ন পূরণ হবে।
লেখক : অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর
dratiur@gmail.com

Related posts