মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯, ৩০ আশ্বিন, ১৪২৬, ১৫ সফর, ১৪৪১

Select your Top Menu from wp menus

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে কোপার ফাইনালে ব্রাজিল

স্পোর্টস ডেস্ক: সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে কোপা আমেরিকা ২০১৯’র ফাইনালে নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক ব্রাজিল। দলের হয়ে জয়সূচক গোল ২টি করেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও রবার্তো ফিরমিনো।

বুধবার (০৩ জুলাই) ব্রাজিলের অন্যতম বড় শহর বেলো হরিজন্টের এস্টাডিও মিনেইরো স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হয় বাংলাদেশ সময় বুধবার (০৩ জুলাই) সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে। সরাসরি সম্প্রচার করে পিপি টিভি।

ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই দুর্দান্ত এক আক্রমণ সাজায় স্বাগতিকরা। তবে রবার্তো ফিরমিনোর সে প্রচেষ্টা রুখে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক ফ্রাঙ্কো আরমানি। সেটি আবার ছিলো অফসাইডও।

নবম মিনিটের মাথায় ফের আর্জেন্টাইন রক্ষণে হামলা চালায় ব্রাজিল। ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল হেসুসকে রুখতে গিয়ে নিয়ম বহির্ভূত ফাউল করে বসেন নিকলাস তালিয়াফিকো। ফলে ম্যাচের দশ মিনিট হওয়ার আগেই প্রথম হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।

তবু গোলের প্রথম সুযোগটা তৈরি করেছিল আর্জেন্টিনাই। ফাঁকায় থাকা লিওনার্দো পারেদেস ১২ মিনিটের মাথায় দুর্দান্ত এক শট নেন ব্রাজিলের গোলবারের উদ্দেশ্যে। যা পরাস্ত করে গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারকেও। কিন্তু তা একটুর জন্য চলে যায় বারের ওপর দিয়ে।

মিনিটদুয়েক বাদে নিজেদের রক্ষণভাগে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসিকে ফেলে দেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো। যেটিকে রেফারি ফাউল না দিলেও দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এদিকে ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে মাত্র ১৯ মিনিটেই প্রথম গোল করে ফেলে ব্রাজিল। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানি আলভেসের দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ের ফায়দা নেয় স্বাগতিকরা।

দলের অধিনায়ক দানি দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বল সামনে বাড়ান রবার্তো ফিরমিনোর উদ্দেশ্যে। যিনি বল রিসিভ না করে সরাসরি নিচু পাস দেন ডি-বক্সে ফাঁকায় দাঁড়ানো গ্যাব্রিয়েল হেসুসের উদ্দেশ্যে। সুযোগসন্ধানী হেসুস কোনো ভুল করেননি গোলের সহজতম এ সুযোগটি কাজে লাগাতে। তার আলতো পায়ের টোকায় ১৯ মিনিটেই লিড নিয়ে ফেলে ব্রাজিল।

আর্জেন্টিনার সামনে এ গোল শোধ করার সবচেয়ে ভালো সুযোগটি আসে ম্যাচের ৩০তম মিনিটে। বাম পাশ থেকে লিওনেল মেসির ফ্রি-কিকে সবার চেয়ে ওপরে লাফিয়ে মাপা হেড করেন সার্জিও আগুয়েরো। কিন্তু সেটি গিয়ে আঘাত হানে ক্রসবারে। ফলে গোল পাওয়া হয়নি আলবিসেলেস্তেদের।

প্রথমার্ধের বাকি সময়টা কাটে দুই দলের বিচ্ছিন্ন কিছু আক্রমণে। এর মধ্যে ৪০ মিনিটের মাথায় একসঙ্গে কার্ড দেখেন আর্জেন্টিনার মার্কস আকুনা এবং ব্রাজিলের অধিনায়ক দানি আলভেস। এছাড়া কোনও গোল না হওয়ায় ১ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় ব্রাজিল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা লড়াইয়ে ৫০তম মিনিটে আগুয়েরোর বাড়ানো বল ডি-বক্সে পেয়ে দুর্বল ভলি মারেন লাউতারো মার্তিনেস। ছয় মিনিট পর ভালো জায়গায় বল পেয়ে উড়িয়ে মেরে হতাশ করেন ফিলিপে কৌতিনিয়ো।

৫৭তম মিনিটে আবারও ভাগ্যের ফেরে গোলবঞ্চিত হয় আর্জেন্টিনা। বাঁ দিক থেকে মেসির বাঁ পায়ের জোরালো শট পোস্টে বাধা পায়। আলগা বল পেয়ে গোলমুখে বাড়ান সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার; কিন্তু পা লাগাতে পারেননি আগুয়েরো।

৭১তম মিনিটে ফিরমিনোর গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে আটবারের চ্যাম্পিয়ন। গোলটিতে মূল কৃতিত্ব অবশ্য জেসুসের। মাঝমাঠ থেকে ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার একজনকে কাটিয়ে বল পায়ে ছুটে একজনকে গতিতে পেছনে ফেলে এবং সবশেষ ডি-বক্সে ঢুকে আরেক জনকে ফাঁকি দিয়ে বাড়ান ডান দিকে। ফাঁকায় বল পেয়ে বাকিটা অনায়াসে সারেন লিভারপুলের ফরোয়ার্ড ফিরমিনো।

ম্যাচের ৮০ মিনিটের মাথায় দুই গোলেরই নায়ক হেসুসকে উঠিয়ে নেন ব্রাজিলিয়ান কোচ তিতে। তার বদলে আসেন অ্যালান মারকুয়েস লোরেইরা। যিনি দুই মিনিটের মধ্যেই দেখেন ব্রাজিলের পক্ষে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডটি।

শেষবারের মতো গোলের চেষ্টায় ৮৫ মিনিটের মাথায় নিকলাস তালিয়াফিকোকে উঠিয়ে পাওলো দিবালাকে মাঠে নামান আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি। কিন্তু তাতে কাজের কাজ হয়নি কিছুই। গোল শোধ করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ২-০ গোলের জয় নিয়েই ফাইনালে পৌঁছে গেছে ব্রাজিল।

২০১৬ সালের আসরে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল তারা। এর আগে ২০১১ ও ২০১৫ সালের আসরে থামতে হয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত গিয়ে। তবে এবার আর কোনো ভুল করলো তিতের দল। আর্জেন্টিনাকে হারিয়েই ২০০৭ সালের পর আবারও ফাইনালে পৌঁছে গেছে ব্রাজিল। সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেলেসাওরা।

বৃহস্পতিবার (০৪ জুলাই) চিলি ও পেরুর মধ্যকার দ্বিতীয় সেমির বিজয়ী দলের বিপক্ষে মারাকানার ফাইনালে খেলবেন কৌতিনহো-আলভেজরা।

 

Related posts