রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

আজ বিশ্ব মা দিবস

এসবিনিউজ ডেস্ক: আজ রোববার মায়েদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর, ‘ভালবাসি’ বলার বিশেষ দিন- বিশ্ব মা দিবস। পৃথিবীর নানা দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও দিবসটি উদ্যাপিত হচ্ছে।
প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববারটি মা দিবস হিসেবে উদ্যাপিত হয়ে আসছে। সব দেশে একই দিনে দিবসটি উদ্যাপিত হয় না। তবে অধিকাংশ দেশেই মে মাসের দ্বিতীয় রোববারটিকে ‘মা দিবস’ হিসেবে বেছে নেয়া হয়। সে অনুযায়ী, আজ ১২ মে বিশ্ব মা দিবস।
মা দিবসের ইতিহাস ঘেটে দেখা যায়, ব্রিটেনে প্রথম মা দিবস উদ্যাপন শুরু হয়। প্রতিবছর মে মাসের চতুর্থ রোববার সেখানে ‘মাদারিং সানডে’ উদ্যাপন করা হতো। তবে এখন যে মা দিবস উদ্যাপন করা হয় তার সূচনা সতেরো শতকে। এর সূচনা করেন মার্কিন সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্টস। এদিন মায়ের সঙ্গে কাটানো, উপহার দেয়ার মতো রীতি চালু ছিল। পরবর্তিতে ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়াতে প্রথম মা দিবস উদ্যাপন করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন সর্বপ্রথম মা দিবসকে সরকারী ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। পরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার মা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে থাকে।
বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে উদ্যাপিত হচ্ছে মা দিবস। দিবসটি সম্পর্কে এখন প্রায় সবাই অবগত। বিশেষ করে এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা দারুণ আবেগ ও আন্তরিকতার সঙ্গে দিবসটি পালন করে। আর যারা নিজেরা মা হয়েছেন, বাবা হয়েছেন তারা ফিরে যান শৈশবে। মাকে জড়িয়ে ধরে বড় হওয়ার ক্লান্তি দূর করেন। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় তাই হয়ত গেয়েছিলেন- পথের ক্লান্তি ভুলে স্নেহ ভরা কোলে তব/মাগো, বলো কবে শিতল হবো।/কত দূর আর কত দূর বল মা…। গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীরের গাওয়া গানেও মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা। তিনি গাইলেন: এক ধার দুধের দাম কাটিয়া কাটি গায়ের চাম,/পাপোশ বানাইলেও ঋণের শোধ হবে না/এমন দরদী ভবে কেউ হবেনা আমার মা গো…। এমন দরদী আসলেই আর হয় না।
দুঃখ-বেদনা ভুলিয়ে দেয়া মা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপহার। দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করা সন্তানের জন্য কত যে ত্যাগ স্বীকার করতে হয় তাঁকে! কবি শামসুর রাহমানের ভাষায়: যেন তিনি সব গান দুঃখ-জাগানিয়া কোন কাঠের সিন্দুকে/রেখেছেন বন্ধ ক’রে আজীবন…। মায়ের এমন ত্যাগের কথা আজ কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে সন্তান। স্মৃতি তর্পণ করবে। যেমনটি রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন: মাকে আমার পড়ে না মনে।/শুধু কখন খেলতে গিয়ে/হঠাৎ অকারণে/একটা কী সুর গুনগুনিয়ে/কানে আমার বাজে,/মায়ের কথা মিলায় যেন/আমার খেলার মাঝে…। নজরুল লিখেছিলেন, হেরিলে মায়ের মুখ/দূরে যায় সব দুখ। মায়ের মুখ দেখে সত্যি সব দুঃখ ভুলে থাকা যায়।
মা দিবস উপলক্ষে আজ রোববার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। রত্নগর্ভা মায়েদের হোটেল সোনারগাঁয়ে সম্মাননা জানাবে আজাদ প্রোডাক্টস। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ভালবাসা জানানো হবে।

Related posts