সোমবার, ২১ জানুয়ারী ২০১৯ ♦ ৮ মাঘ ১৪২৫

Select your Top Menu from wp menus

আওয়ামী লীগ হারবে কেন

।। কামরুল হাসান বাদল ।।

প্রাথমিক অবস্থায় যতটা ভাবা হয়েছিল প্রকৃত অবস্থা তার চেয়েও ভয়াবহ। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই মুখোশগুলো উন্মোচিত হয়ে পড়ছে। অনেকের প্রকৃত চেহারা প্রকাশিত হয়ে পড়ছে এবং ষড়যন্ত্রের জাল কতটা বিস্তৃত হয়েছে তা আঁচ করা যাচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন কৌশল ও উদ্ভাবনের সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। ষড়যন্ত্রের জাল লন্ডন-বাংলাদেশ থেকে বিস্তার লাভ করে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত পৌঁছেছে।
মোট কথা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে কত গভীর ষড়যন্ত্র পাকানো হয়েছে তা দিন দিন দৃশ্যমান হয়ে পড়ছে। আমি আমার পূর্বের বিভিন্ন লেখায় একটি জাতীয় বাংলা দৈনিকের ভূমিকার কথা লিখেছিলাম। ২০০১ সালের নির্বাচনে যে পত্রিকার ভূমিকা এবং বর্তমান ভূমিকার বিষয়ে পাঠকদের সতর্ক থাকার অনুরোধ করেছিলাম। আমি অন্য পত্রিকা বাদ দিয়ে শুধু সেই দৈনিকটির কথা বলি কেন? তার সামান্য ব্যাখ্যাও দিতে হয়। প্রথম কারণটি হচ্ছে, পত্রিকাটির প্রচার সংখ্যা অন্যান্য পত্রিকার চেয়ে বেশি। তরুণদের মধ্যে পত্রিকাটির জনপ্রিয়তা আছে। নানা কৌশলে পত্রিকাটি কিছু পাঠকের মধ্যে একটা বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করেছে। পত্রিকাটি অত্যন্ত চাতুর্য্যের সঙ্গে সত্য গোপন করে, অনেক মিথ্যার সঙ্গে সামান্য সত্যকে মিশেল দিয়ে বিভ্রম তৈরি করে। অনেক মিথ্যার সাথে সামান্য সত্য মিশেল কথাটি ঠিক হয়নি। প্রকৃতপক্ষে তারা অত্যন্ত কৌশলে যে কাজটি করে তাহলো, অনেক সত্যের সাথে সামান্য মিথ্যে মিশিয়ে দেয়। এই সামান্য মিথ্যেটি সবসময় সবপাঠক ধরতে পারে না। ফলে সেই সামান্য মিথ্যেটি অসামান্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় দেশ ও জাতির।
এই লেখাটি যখন লিখছি (বুধবার সকাল) তখন পত্রিকাটি আমার সামনে। টেবিলে পড়ে আছে। সম্প্রতি পত্রিকাটি তাদের গেটআপ পরিবর্তন করেছে। প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠা আট কলামের পরিবর্তে কলাম প্রশস্ত করে ছয় কলাম করেছে। বুধবারের পত্রিকার তিন কলাম জুড়ে শিরোনাম করেছে, ‘প্রচারের শুরুতেই ঝরল রক্ত’। সংবাদ পড়ে জানা গেল, নোয়াখালী সদরে বিএনপি সমর্থকদের হামলায় নিহত হয়েছে এক যুবলীগ নেতা। ফরিদপুর সদরে প্রতিপক্ষ অর্থাৎ বিএনপি’র সাথে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন এক আওয়ামী লীগ কর্মী। সংবাদে তিনটি ছবি ছাপা হয়েছে দু’কলাম জুড়ে প্রথম ছবিটি এক যুবদল নেতার বাড়ি যাতে অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে তাও আবার বগুড়ায়। এর নিচে ফখরুল ইসলামের ভাঙচুর হওয়া গাড়ির ছবি এবং সবশেষে সিঙ্গেল কলামে নিহত যুবলীগ নেতার পিতার আহাজারি করার ছবি। এটি একদিনের একটি ছোট্ট উদাহরণ। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তুলে ধরতে গেলে তা নিয়েই প্রতিদিন আট পৃষ্ঠার একটি বুলেটিন করা যাবে।
আমি পূর্বে বেশ কয়েকবার লিখেছি, একটি ধারণা প্রায় প্রতিষ্ঠা করে দেখা হয়েছে যে, নির্বাচন স্বচ্ছ ও অবাধ হলে আওয়ামী লীগ হেরে যাবে। ৬০/৭০টির বেশি সিট পাবে না। চট্টগ্রামের এক পেশাজীবী নেতা, এক সময় বামপন্থি ছাত্র সংগঠন করতেন তিনিতো ২০ থেকে ২২টি সিট দিতেও রাজি না। এই নেতিবাচক প্রচারণাটি খুব কৌশলে ছড়ানো হয়েছে। গুজব এবং নেতিবাচক সংবাদ খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এবং মানুষ বিশ্বাস করে। সম্প্রতি একটি গবেষণায়ও বিষয়টি উঠে এসেছে। ফলে অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীও বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন নির্বাচন অবাধ হলে তারা হেরে যাবেন। কিন্তু বিষয়টি সত্য নয়। এটি আওয়ামী লীগ বিরোধী শক্তির একটি প্রপাগান্ডা, অপপ্রচার। আওয়ামী লীগ একেবারে হেরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। বরং সংখ্যালঘুসহ সবাই ভোট দিতে পারলে আওয়ামী লীগই জয়লাভ করবে।
১৯৭৫ সালের পরপর এদেশে আওয়ামী লীগ করা ছিল যেন এক প্রকার পাপ। দল এবং দলের আদর্শকে বিলীন করে দিতে সর্বপ্রকার চেষ্টা করা হয়েছে তখন। অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আজ আওয়ামী লীগ বর্তমান অবস্থানে এসেছে। এবং এর জন্য হাজার হাজার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীকে প্রাণ দিতে হয়েছে, পঙ্গু হতে হয়েছে সর্বস্ব হারিয়ে পথের ফকির হতে হয়েছে।
১৯৭৫ সালের পর থেকে অনুষ্ঠিত প্রতিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট বেড়েছে কীভাবে তার একটি চিত্র তুলে ধরি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে দেশি-বিদেশি সকল মহলের ধারণা ছিল নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয় লাভ করবে। সেটি বেগম জিয়ার বিএনপিও মনে করেছিল। যার আশঙ্কাতেই খালেদা জিয়া নির্বাচনের পরদিন আগাম হরতাল আহ্বান করে রেখেছিলেন। সে নির্বাচনে সূক্ষ্ম কারচুপি হয়েছিল। জিয়া-এরশাদের সাজানো প্রশাসন সেবার বিএনপিকে জিতিয়ে আনার আন্তরিক প্রচেষ্টা নিয়েছিল অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে। তারপরও সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৩০.০৮ শতাংশ ভোট। বিএনপি পেয়েছিল ৩০.৮১ শতাংশ ভোট। সে নির্বাচনে আবদুর রাজ্জাকের বাকশালের ভোট যুক্ত করলে সেবার আওয়ামী লীগেরই সরকার গঠন করার সুযোগ হতো। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৩৭.৪৪ শতাংশ এবং বিএনপি পেয়েছিল ৩৩.৬ শতাংশ। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৪০.১৩ শতাংশ আর বিএনপি পেয়েছিল ৪০.৯৭ শতাংশ ভোট। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ৪৮.০৪ শতাংশ অন্যদিকে বিএনপি পেয়েছিল ৩২.০৫ শতাংশ। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত অংশগ্রহণ করেনি। সেবার আওয়ামী লীগের প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ছিল ৭২.১৫ শতাংশ। ২০১৪ সালের নির্বাচনকে আমরা হিসাবের বাইরে রাখলে দেখতে পাব (১৯৯৬ সালের মধ্য ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকেও হিসাবের বাইরে রাখা হলো) প্রতিবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট বৃদ্ধি ঘটেছে। তবে এ পরিসংখ্যানে একটি ফাঁক আছে। ২০০৮ সালের আগের নির্বাচনে ভোটের হিসাবটি একেবারে শুদ্ধ নয়। কারণ ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে অন্য তিনটি নির্বাচনে ভুয়া ভোটারের সংখ্যা ছিল এক কোটির ওপর। এসব ভুয়া ভোটারের অধিকাংশ ভোটই যেত বিএনপি-জামায়াতের ঘরে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নতুন ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে প্রায় দেড় কোটির মতো ভুয়া ভোটার। কাজেই ভোটের সংখ্যানুপাত করার সময়ে আমাদের এ কথাটি মনে রাখা দরকার। ২০০৮ সালের পরিসংখ্যানটি তাই বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাদ পড়ে প্রায় দেড় কোটির মতো ভুয়া ভোটার আর সে সাথে যুক্ত হয়েছিল প্রায় সোয়া কোটি নতুন ভোটার যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে তাদের ম্যান্ডেট দিয়েছিল।
এ বছর নতুন ভোটারের সংখ্যা প্রায় সোয়া দুই কোটি। এদের একটি অংশ গত নির্বাচনেই ভোটার হয়েছিল। তাদের অনেকেই এবারই প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেবে। বিগত প্রত্যেকটা নির্বাচনে প্রতিবার আওয়ামী লীগের যে হারে ভোট বেড়েছে তা অব্যাহত থাকলে এবারও ভোট বৃদ্ধি পাবে তাতে সন্দেহ নেই। তবে অনেকের মতো আমিও মনে করি এই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে নতুন সোয়া দুই কোটি ভোট বড় নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠবে। এখন প্রশ্ন হলো এই বিপুল সংখ্যক ভোট কোথায় পড়বে অর্থাৎ এবার তরুণরা কোন দলটিকে বেছে নেবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য।
নিশ্চয়ই এই তরুণরা ব্যাকডেটেট, রক্ষণশীল জঙ্গিবাদী পাকিস্তানমার্কা কোনো বাংলাদেশ চাইবে না। তারা মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িকতা ও উন্নয়নকে তাদের বিবেচনায় রাখবে। তবে আমাদের মতো দেশগুলোর একটি কমন বৈশিষ্ট্য আছে। তাহলো “অ্যান্টি এস্টাব্লিনামেন্ট সেন্টিমেন্ট” বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী মনোভাব। সেটি সরকার বিরোধী ও হতে পারে। যখন যে সরকার থাকে তার বিরুদ্ধেই জনমত তৈরি হতে থাকে। এর অনেক ব্যাখ্যা আছে। সে আলোচনা থাক। খুব বিস্তৃত আলোচনা বলে তা অন্য কোনোদিন করার আশা রাখি।
তরুণরা সাধারণত প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। সরকার বিরোধী হয়, প্রথা এবং অনেক সময় নিয়মবিরোধীও হয়। এটি তারুণ্যের ধর্ম। বাংলাদেশে বর্তমানে এক শ্রেণির রাজনীতিক, সুশীল প্রতিষ্ঠান ও সংবাদমাধ্যম খুব কৌশলে এই তরুণদের বিভ্রান্ত করার কাজটি করছেন। বলছিলাম একটি পত্রিকা অনেক সত্যের সাথে খুব ছোট একটি মিথ্যে বাজারে ছড়িয়ে দেয় যে মিথ্যাটি ওসব সত্যের সাথে বিশ্বাসে পরিণত হয় মানুষের।
সফলতার তুলনায় বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার সংখ্যা অত্যন্ত কম। এই সরকারের একটি মাত্র দুর্বলতা ছিল তাহলো সমাজে দুর্নীতি রোধ করতে না পারা। এই দুর্বলতা মেনে নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলতে চাই। কিছু সংবাদপত্র ও প্রতিষ্ঠান যেভাবে দুর্নীতির কথা বলেছে তার সঙ্গে কি বাস্তবতার সম্পূর্ণ মিল আছে। সর্বক্ষেত্রে যদি লুটপাটই হয়ে থাকে তাহলে গত দশ বছরে দেশের এত উন্নতি ঘটল কী করে? অভিযোগগুলো কি পদ্মা সেতুর দুর্নীতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের মতো মিথ্যা?
শেয়ার বাজার ও ব্যাংকে অনিয়ম নিয়ে বর্তমান সরকারকে দোষারোপ করা হয়ে থাকে। কয়েকদিন আগে সিপিডি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে গত দশ বছরে দশটি ব্যাংক কেলেঙ্কারির তথ্য তুলে ধরেছে। এরপর প্রথম আলো শিরোনাম করেছে দশ কেলেংকারিতে লোপাট ২২,৫০২ কোটি টাকা। প্রকৃতপক্ষে ঘটনা কী? পুরো টাকা লোপাট হয়েছে না ঋণ প্রদানে অনিয়ম হয়েছে। সিপিডির প্রতিবেদনটিকে কি প্রথম আলো নিউজ করার সময় টুইস্ট করেছে? প্রকৃত ঘটনা কি তা জানতে এই অংশটি পড়ুন। দশ ডিসেম্বর রাতে একাত্তর টিভিতে সামিয়া জামানের উপস্থাপনায় একটি টকশোতে সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনকে আলোচকরা প্রশ্ন করেন আপনারা কি সকল ব্যাংকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান করে ওই সাড়ে বাইশ হাজার কোটি টাকা লোপাটের তথ্য যাচাই করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন? তার উত্তরে ড. ফাহমিদা বলেন, সিপিডি সাড়ে বাইশ হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে বলেনি। আমরা ইংরেজিতে প্রতিবেদন করেছি সঠিকভাবে না বুঝে তার ভুল অর্থ করে মিডিয়া সংবাদ পরিবেশন করেছে। আমরা বলেছি, ব্যাংকগুলোতে ওই সাড়ে বাইশ হাজার কোটি টাকা ঋণ বরাদ্দে অনিয়ম হয়েছে। তারই ভুল অনুবাদ করে লোপাট বলেছে মিডিয়া। নির্বাচনের কয়েকদিন আগে এমন প্রতিবেদন প্রকাশ এবং তার বঙ্গানুবাদ ভুল করা একটি ষড়যন্ত্রের অংশ তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তারপরও খোঁজ নিলে জানা যাবে ব্যাংক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী বা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক অধিকাংশই আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের।
পাঠকদের জ্ঞাতার্থে আরেকটি তথ্য দিতে চাই। শেয়ার বাজার নিয়েও বর্তমান সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে চায় ওই একই গোষ্ঠী। এবার নির্বাচনী হলফনামায় দেখা গেলো শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির বাঘা বাঘা নেতারাও আছেন। শেয়ারবাজারে মির্জা আব্বাসের বিনিয়োগের পরিমাণ ২৯ কোটি ৩৯ লাখ। তাঁর স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের আছে ১০ কোটি ৪ লাখ, মওদুদ আহমদের ৩৩ লাখ, এর বাইরে সঞ্চয়পত্রে তার বিনিয়োগ ১০ কোটি টাকাও আছে। শেয়ার বাজারে আমীর খসরুর মাহমুদের আছে ১ কোটি ৯৭ লাখ, মোরশেদ খানের ৩৯ কোটি ৬৯ লাখ, ঢাকা ৪ আসনের সালাহউদ্দিন আহমদের ১ কোটি ১৮ লাখ, এরশাদের ৪৪ কোটি, রুহুল আমিন হাওলাদারের ৭ কোটি ৭০ লাখ, তাঁর স্ত্রীর নামে ১ কোটি ৬৫ লাখ।
আমার এই লেখার উদ্দেশ্য দুর্নীতির পক্ষে অবলম্বন করা নয়। আমিও চাই দেশ থেকে দুর্নীতি চিরতরে নির্মূল হোক। তবে দুর্নীতির কথা বলে শেখ হাসিনার সরকারকে হটিয়ে দুর্নীতির বরপুত্র হাওয়া ভবনের যুবরাজ তারেক জিয়অকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করার ঘৃন্য ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ করছি শুধু। শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে দুর্নীতির উর্ধ্বে। তার পরিবারের কেউই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। আমি মনে করি একমাত্র এই কারণেই শেখ হাসিনার পক্ষে একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার এখনো ঘোষিত হয়নি। সে ইশতেহারে কী থাকবে আমি জানি না। তবে আমার বিশ্বাস শেখ হাসিনা এবারের ইশতিহারে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকারই ব্যক্ত করবেন। এবং সে সাথে একটি শোষণহীন বঞ্চনাহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষে তার পিতা জাতির জনকের অর্থনৈতিক কর্মসূচিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি প্রদান করবেন।
রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান হওয়া যায়। তা ভোটে জিতলেই হওয়া সম্ভব। তবে একটি দেশের নেতা হয়ে উঠতে হয় নিজ যোগ্যতা বলে, দূরদর্শি নেতৃত্বের গুণে। দেশের জনগণকে একটি অভীষ্ঠ পৌঁছানোর স্বপ্ন ও সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের যোগ্যতার গুণে। শেখ হাসিনার এসব গুণেই আজ একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে একটি জাতির নেতায় পরিণত হয়েছেন। আমার ধারণা তাঁর যোগ্য নেতৃত্ব বাংলাদেশকে আরও অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি যদি সোয়া দু ‘কোটি নতুন ভোটারের মনে সে আস্থা তৈরি করতে পারেন তাহলে তাঁর বিজয়ের রথ থামাবার শক্তি কারো নেই। আওয়ামী লীগ তো জিতবেই সে সঙ্গে বাংলাদেশও জিতবে। (দৈনিক আজাদী থেকে নেয়া)

Email-qhbadal@gmail.com

 

 

Related posts