রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯ ♦ ২ আষাঢ় ১৪২৬

Select your Top Menu from wp menus

আইসক্রিমের নামে তৈরি হচ্ছে বিষ!

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: দেশের বিভিন্ন স্থানে আইসক্রিম কারখানাগুলোতে নিম্নমানের উপকরণ ও ক্ষতিকারক রং মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে আইসক্রিম। কোমলমতি শিশুদের লক্ষ্য করে তৈরি করা এসব সস্তা আইসক্রিম রং বেরঙের প্যাকেটে করে বিক্রি হচ্ছে পাড়া মহল্লার দোকানে। আইসক্রিম নামের এ বিষে দীর্ঘমেয়াদে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশুরা। ঠাকুরগাঁওয়ে অন্তত ২০টি কারখানায় তৈরি হচ্ছে এ ধরনের নিম্নমানের আইসক্রিম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ে নিউ কুলফি, লাবণ্য কুলফি, মেট্রো কুলফিসহ আরো ১৫-২০টি ফ্যাক্টরির অধিকাংশই নিম্নমানের সস্তা কুলফি আইসক্রিম তৈরি করছে। কারখানাগুলোতে তিন থেকে দশ টাকা মূল্যের দুধ কুলফি, দই কুলফি, ঝালটক কুলফি, অরেঞ্জ কুলফি, লিচু কুলফি তৈরি হয়। সস্তা দামের এ আইসক্রিম তৈরিতে নিম্নমানের ফুড কালার ও অত্যন্ত ক্ষতিকর উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। আইসক্রিম তৈরির জন্য যে সব উপকরণ ব্যবহার করা হয় তাও স্বাস্থ্যসম্মত না। আইসক্রিম তৈরির সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পানিও দূষিত। কারখানার ভেতরের নোংরা পরিবেশে মশা, মাছি ঘুরছে অবাধে।
আইসক্রিম তৈরিতে দুধ, চিনি, ঘনচিনি, কর্ন ফ্লাওয়ার, স্টাবিলাইজার, ফ্লেভার, ফুড কালার ও পানি ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে ১/২ টাকা দামের আইসক্রিমে যে ফুড কালার ব্যবহার করা হয়, তা খাদ্য বা আইসক্রিমে ব্যবহারের অনুমোদন আছে কিনা জানে না বেশিরভাগ আইসক্রিম উত্পাদনে সংশ্লিষ্টরা। দূষিত, নোংরা, অসাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা হয় এসব আইসক্রিম।
সূত্র মতে, ভালো মানের চকবার আইসক্রিম তৈরিতে মিমি চকোলেট ব্যবহার করতে হয়। এতে একটি চকবারের খরচ পড়বে অন্তত ১০ টাকা, আর চকবার কুলফির অন্তত ৩ টাকা। কিন্তু তা না করে ক্ষতিকর ওই উপকরণ ব্যবহার করে ফ্যাক্টরি মালিকরা এ খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনেন। আর নিম্নমানের এ আইসক্রিমগুলোর অধিকাংশই তৈরি হয় রাতের আঁধারে। অনেকে সকাল হওয়ার আগেই তা ফ্যাক্টরির বাইরে বের করে দেন। যাতে কোনো ধরনের অভিযান হলেও তারা ধরা না পড়েন।
ঠাকুরগাঁও নিউ কুলফি আইসক্রিম কারখানার মালিক সাহজাহান ফুড কালার বা নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের কথা অস্বীকার করে বলেন, কেউ কেউ ঐসব উপকরণ বা ফুড কালার ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু আমি করি না।
ঠাকুরগাঁও হাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, আমার ছোট ছেলে প্রতিদিন টিফিনের কথা বলে ১০ টাকা নেয়। কয়েকদিন থেকে খুব অসুস্থ। জ্বর, গলা ব্যথা, পেট ব্যথা। পরে ডাক্তার দেখানো হলে জানতে পারি সে প্রতিদিন কুলফি আইক্রিম খেত। তাই ফুডপয়জন হয়েছে ও ঠান্ডা লেগেছে।
শিশু চিকিত্সক শাজাহান নেওয়াজ জানান, আইসক্রিম শিশুদের জন্য ক্ষতিকর। আইসক্রিম খেলে সাধারণত ঠান্ডা, গলা ব্যথা, এজমা, হাঁপানির মতো বড় বড় অসুখ হতে পারে। এছাড়াও এখন যে সব কম দামি আইসক্রিম পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো বাচ্চাদের খাওয়ার উপযোগী না। এগুলো খেলে পেটের ব্যথা, ফুডপয়জন হওয়া স্বাভাবিক বিষয়।
এ প্রসঙ্গে ঠাকুরগাঁও সেনেটারি ইন্সপেক্টর আকতার ফারুক জানান, নিম্নমানের এ সস্তা আইসক্রিম আসলে নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করছে। আইসক্রিমে ব্যবহূত কাঁচা পামঅয়েল, ডালডা খুবই ক্ষতিকর। আর ফুড কালার ও কোকো পাউডারসহ রাসায়নিক উপকরণ ব্যবহারের মাত্রা ও নির্দেশনা আছে। কিন্তু এগুলো মানা হয় না। দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হিসেবে আলসার এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কামরুজ্জামান জানান, সস্তা দামের ক্ষতিকর এসব আইসক্রিম বন্ধে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে। স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ খাবারের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

Related posts