রবিবার, ২০ জানুয়ারী ২০১৯ ♦ ৭ মাঘ ১৪২৫

Select your Top Menu from wp menus

আইন মানছে না বাড়িওয়ালারা : দেখার কেউ নেই!

প্রবীর বিশ্বাস: বছর শেষ হতে এখনও দেড় মাস বাকি। এরই মধ্যে নানা অজুহাতে আবার বৃদ্ধি করছে বাড়ী বাড়া। ভাড়া বৃদ্ধির মৌখিক নোটিশ ইতোমধ্যেই অনেক ভাড়াটিয়াকে জানিয়ে দিয়েছেন বাড়িওয়ালারা। কিন্তু বাড়ি ভাড়ার বিষয়ে সরকারে নির্দিষ্ট আইন থাকলেও মানছেন না বাড়িওয়ালারা। সিটি মেয়র বললেন, ট্যাক্সসহ কোন কিছুই এবছর সিটি কর্পোরেশন বাড়াবেনা, তাই ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি কঠোর ভাবে দেখা হবে।

কেউ বলছেন অন্যান্য পণ্যদ্রব্যের চেয়েও ঊর্ধ্বগতিতে বাড়ছে বাড়িভাড়া। চলছে যখন তখন বাড়ি ছাড়ার বেআইনী নোটিশের যন্ত্রণাও। আবার কেউ বলেছেন পাগলা ঘোড়ার মতো বাড়ছে বাড়ি ভাড়া। ভাড়া নিয়ে এমন নৈরাজ্যকর অবস্থায় দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে ভাড়াটিয়াদের জীবযাত্রা। ভাড়াটিয়াকে বাড়ির মালিকরা মাসিক বাড়িভাড়া আদায়ের পাকা রশিদ দিচ্ছেন না। দেশের প্রচলিত আইনে বলবৎ আছে, বাড়িভাড়া বা দোকান ভাড়া নেয়ার আগে বাড়ির মালিক বনাম ভাড়াটিয়াদের মধ্যকার চুক্তি সম্পাদন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু খুলনা নগরীতে কিছু অফিস চুক্তি ব্যতিত এমন কোন নজির নেই। ভাড়া ইনক্যুয়ারীতে আসলে ভাড়াটিয়াকে কম ভাড়া বলতে শিখানো হয়। আর ভাড়াটিয়াও কলুর বলদের মতো অনেক সময় বাড়িওয়ালার সুনাম বলে থাকেন। এমনটিই বললেন এক ভাড়াটিয়া।

 

বাড়ির মালিক বনাম ভাড়াটিয়াদের মধ্যে চুক্তি সম্পাদিত না হওয়ার কারণেই বাড়িওয়ালা ঘন ঘন বাড়িভাড়া বাড়ান। ফলে অনেক সময় ঝগড়া-বিবাদসহ এক পর্যায়ে ভাড়াটিয়াকে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়ে। আইন অনুসারে প্রতি বর্গফুট হারে বাড়িভাড়া দেয়া প্রয়োজন, এক মাসের বেশি কোনো বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে অগ্রিম দাবি করতে পারবে না, বাড়িভাড়া আয়কর মালিকরা দিতে বাধ্য থাকবেন, হোল্ডিং কর না বাড়ালে বাড়িভাড়া বাড়ানো চলবে না, বাড়িভাড়ার রেন্টকন্ট্রোল আইন সংশোধন এবং এছাড়া অনেক ভাড়াটিয়ার দাবি বাড়িভাড়ায় চাই জাতীয় নীতিমালা।

খুলনা নগরীতে গত ১০ বছরের বাড়ি ভাড়া বেড়েছে প্রায় তিনগুন। বাড়ী ভাড়া নিয়ন্ত্রন কঠোর আইন-অধ্যাদেশ থাকলেও তা কেবল কাগজ-কলমে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী বারবার বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি যে দন্ডযোগ্য অপরাধ তা জানেন না বহু ভাড়াটে ও বাড়িওয়ালারা। ফলে একশ্রেণীর বাড়িওয়ালা দ্রব্যমূল্য, হোল্ডিং ট্যাক্স, পানির মূল্যবৃদ্ধি ইত্যাদির কথা বলে দফায় দফায় বাড়ি ভাড়া বাড়ান।

এনিয়ে খুলনা সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ট্যাক্সসহ আগামী বছরে সিটি কর্পোরেশন থেকে কোন কিছু বাড়ীর মালিকদের জন্য বাড়ানো হবেনা, তাই কোন বাড়ীর মালিক যদি ভাড়া বৃদ্ধি করেন সেটা কঠোর ভাবে মনিটরিং করা হবে। এর সাথে বাড়ী ভাড়ার রশিদ ঠিক মতো ভাড়াটিয়াকে দেওয়া হচ্ছে কিনা তাও দেখা হবে, সাথে সাথে দেখা হবে দুই পক্ষের মধ্যে কোন চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে কিনা। এর ব্যত্যয় ঘটলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

উল্লেখ্য ১৯৯১ সালে প্রণীত বাড়ী ভাড়া আইনে প্রতি তিন বছর পরপর ভাড়াটিয়ার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বাড়ি ভাড়া বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বাড়িওয়ালারা এ ব্যাপারে ভাড়াটিয়ার সঙ্গে কথা বলেন না। নিজেরা ভাড়া বাড়িয়ে জানিয়ে দেন। প্রতিবাদ করলে হুমকি-ধমকি ও বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেন। এ আইনে আরো বলা হয়েছে, ভাড়াটিয়াকে ভাড়ার রসিদ দিতে। এখানে আয়কর ফাঁকি দিতে বাড়িওয়ালারা রসিদ দেন না। আবার যারা দেন সেখানে ভাড়া লেখা থাকে বাস্তবের চেয়ে আনেক কম।

এসব সমস্যা সমাধানের জন্য যে কেউ ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯১ এর আওতায় রেন্ট কোর্টের আশ্রয় নিতে পারেন। এ আইনের ৭ ধারা মতে, কোনো বাড়ি ভাড়া মানসম্মত ভাড়ার অধিক বৃদ্ধি করা হলে ওই অধিক ভাড়া কোনোভাবেই আদায়যোগ্য হবে না। এ ক্ষেত্রে মানসম্মত ভাড়া বলতে উপযুক্ত ভাড়াকেই বোঝানো হয়েছে। এ ভাড়া বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে আপসে নির্ধারিত হতে পারে। আবার ঘর ভাড়া নিয়ন্ত্রকও এ ভাড়া নির্ধারণ করতে পারেন। ভাড়াটিয়া কর্তৃক ভাড়া পরিশোধ করা হলে বাড়ির মালিক তৎক্ষণাৎ ভাড়া প্রাপ্তির একটি রসিদ বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে স্বাক্ষর করে ভাড়াটিয়াকে প্রদান করবেন। বাড়ির মালিক ভাড়ার রসিদের একটি চেকমুড়ি সংরক্ষণ করবেন। অগ্রিম ভাড়া হিসেবে এক মাসের ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা দাবি বা গ্রহণ করতে পারবেননা।

Related posts